দুই কোরিয়া আলোচনায় বসছে

হট লাইন চালু

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : প্রায় দুই বছর পর আবার দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে টেলিফোন যোগাযোগ পুনরায় চালু করেছে উত্তর কোরিয়া। যার ফলে শীতকালীন অলিম্পিকে অংশগ্রহণের বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বানে উত্তর কোরিয়া সাড়া দিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। আশা করা হচ্ছে, আগামী ৯ জানুয়ারি দুই কোরিয়ার সীমান্তবর্তী অসামরিক এলাকা পানমুনজমে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বিবৃতিতেও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে হটলাইন চালুর খবর দেয়া হয়। ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচ্যাংয়ে শীতকালীন অলিম্পিক শুরু হচ্ছে। ওই আয়োজনে নিজেদের দল পাঠানো নিশ্চিত করতে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন সিউলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করার কথা আগেই জানিয়েছিলেন। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে ইন বলেছেন, শীতকালীন অলিম্পিককে উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নে একটি যুগান্তকারী সুযোগ হিসেবে দেখছেন তিনি। আলোচনায় অলিম্পিক ইস্যু ছাড়াও দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে অন্যান্য ইস্যু নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, ২ ডিসেম্বর উত্তর কোরিয়া থেকে প্রথম টেলিফোন কলটি পায় সিউল। কিমের নির্দেশেই দুই বছর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে টেলিফোন যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিল উত্তর কোরিয়া। গত ১ জানুয়ারি খ্রিষ্টীয় নববর্ষ উপলক্ষে টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম সম্পর্কে উত্তেজনা কমিয়ে আনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে তিক্ততার বরফ গলানোরও ইঙ্গিত দেন। কিম বলেন, ‘অলিম্পিকে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে উত্তরের জনগণ তাদের একতা দেখানোর সুযোগ পাবে।’ তাৎক্ষণিকভাবে কিমের এ বক্তব্যকে স্বাগত জানায় দক্ষিণ কোরিয়া। প্রেসিডেন্ট মুন জে ইন একে সম্পর্ক উন্নয়নের ‘চমৎকার সুযোগ’ হিসেবেও অ্যাখ্যা দেন। দক্ষিণ কোরিয়ার পুনঃএকত্রীকরণ মন্ত্রী ‘যুদ্ধবিরতি গ্রাম’ খ্যাত পানমুনজমে ৯ জানুয়ারি দুই কোরিয়ার মধ্যে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনারও প্রস্তাব দেন। দক্ষিণের ওই প্রস্তাবে সাড়া দেয়া হবে কিনা, তা নিশ্চিত করেনি পিয়ংইয়ং। টেলিফোন যোগাযোগ পুনরায় চালু হওয়ার পর এখন এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরের পর দুই প্রতিবেশীর মধ্যে উচ্চপর্যায়ে কোনো আলোচনা হয়নি। সেবার কায়েসং শিল্প এলাকায় দুই কোরিয়ার মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে দক্ষিণের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় উত্তর কোরিয়া।দুই দেশের মধ্যে থাকা টেলিফোন হটলাইনেও উত্তরের কোনো ধরনের সাড়া না পাওয়ার কথা জানিয়েছিল সিউল। কিমের নববর্ষের ভাষণের পরও বেশ কয়েকদফায় দক্ষিণের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। তবে আলোচনা নিশ্চিত এর সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান হল।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..