বকেয়ার দাবিতে লড়ছে পাটকল শ্রমিকরা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : টানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বকেয়া পাওনার দাবিতে লড়াই করছেন খুলনার পাটকল শ্রমিকরা। বকেয়ার দাবিতে শিল্প ও বন্দর নগরী খুলনার পাটকল শ্রমিক সেক্টরে অসন্তোষ দানা বেঁধে উঠেছে। আর এতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পাটকল সেক্টর। গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শ্রমিকরা কাজে যোগ না দেওয়ায় খালিশপুরের ক্রিসেন্ট, প্ল্যাটিনাম, দৌলতপুর, দিঘলিয়ার স্টার, আটরা শিল্প এলাকার আলীম, ইস্টার্ন এবং নওয়াপাড়া শিল্প এলাকার জে জে আই মিলের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এর পরের দিন থেকে খালিশপুর জুটমিলের শ্রমিকরাও কর্মবিরতি শুরু করেন। এর আগে রাষ্ট্রায়ত্ত জুটমিল সিবিএ-নন সিবিএ পরিষদের ডাকে গত ২৩ ডিসেম্বর থেকে আন্দোলনে নামেন আটটি পাটকলের প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক। দাবি পূরণ না হওয়ায় পরবর্তী সময়ে তারা স্ব স্ব পাটকলে কাজে যোগদান থেকে বিরত থাকেন। শ্রমিকরা মিলের উৎপাদন বন্ধ রেখে বিক্ষোভ সমাবেশ করছেন। তাদের স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে উঠছে শিল্পাঞ্চল। দাবি বাস্তবায়ন করা না হলে ন্যায্য পাওনা আদায়ের জন্য রাজপথ-রেলপথ অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান আন্দোলনরত শ্রমিকরা। পাটকল সূত্রে জানা গেছে, খুলনা অঞ্চলের নয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাটকলের মধ্যে ক্রিসেন্ট জুট মিলে প্রায় পাঁচ হাজার, প্লাটিনামে সাড়ে চার হাজার, স্টারে সাড়ে চার হাজার, দৌলতপুর জুট মিলে সাড়ে ছয়শ, ইস্টার্নে দুই হাজার, আলীমে দেড় হাজার এবং জে জে আই জুট মিলে দুই হাজার ৬০০ এবং খালিশপুর জুট মিলে প্রায় সাড়ে চার হাজার শ্রমিক রয়েছেন। এসব পাটকলের শ্রমিকদের চার থেকে ১২ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। স্টার জুট মিলের সিবিএ সভাপতি মো. বেল্লাল হোসেন মল্লিক বলেন, আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। শ্রমিক-কর্মচারীরা বকেয়া মজুরি না পেয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধে মিল কর্তৃপক্ষ গড়িমসি করছে। তার মিলের আট সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। ক্রিসেন্ট জুট মিলের সিবিএ সাধারণ সম্পাদক মো. সোহরাব হোসেন বলেন, মজুরি না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন শ্রমিকরা। তাই তারা বাধ্য হয়ে মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বকেয়া পরিশোধের বিষয়ে সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকরা কাজে যোগদান করবে না। বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি) খুলনা অঞ্চলের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা গাজী শাহাদাত হোসেন জানান, এখনো বকেয়া বেতনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিজেএমসির খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, খালিশপুর, দৌলতপুর, স্টার, ইস্টার্ন, আলিম ও যশোরের জে জে আই জুট মিল চালু থাকলে প্রতিদিন প্রায় ২২৫ মেট্রিক টন পাটজাত পণ্য উৎপাদন হতো। সেই হিসেবে গত এক সপ্তাহে প্রায় দেড় হাজার মেট্রিক টন পাটজাত পণ্য উৎপাদন বিঘিœত হয়েছে। আটটি পাটকলের ২৬ হাজার ৭১৮ জন শ্রমিকের চার থেকে ১২ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। সব মিলিয়ে শ্রমিকদের পাওনার পরিমাণ ৪০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। নয়টি পাটকলে বর্তমানে ২১ হাজার ৪৭৪ মেট্রিক টন পাটজাত পণ্য বিক্রির অপেক্ষায় পড়ে রয়েছে। যার মূল্য প্রায় ২১৫ কোটি টাকা।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..