একতরফা কলঙ্কিত নির্বাচনের ৪ বছর

ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে চাই তীব্র গণআন্দোলন

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি প্রার্থী ও ভোটারবিহীন কলঙ্কময় নির্বাচন সংঘটিত হয়েছিলো। স্বৈরাচারী এরশাদের বিরুদ্ধে নয় বছরের জীবনক্ষয়ী লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে অর্জিত ভোটের অধিকার ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মধ্যদিয়ে চূড়ান্তভাবে হরণ করা হয়েছে। এরশাদ স্বৈরাচারের পতনের পর দুই বছর বাদে পালাক্রমে দেশ পরিচালনা করেছে বিএনপি, আওয়ামী লীগ। বাকি দুই বছর দেশ চালিয়েছে সামরিক বাহিনী পৃষ্ঠপোষিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। নির্বাচনী ব্যবস্থাকে গ্রহণযোগ্য ও আরো স্বচ্ছ করার পরিবর্তে এরাই পালাক্রমে ক্ষমতায় ফিরে আসার জন্য নানা রকম কূটচালের মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে জবরদস্তিমূলক, একতরফা, পাতানো ও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে। সিপিবি-বাসদ জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান গত ৫ জানুয়ারি দেওয়া এক বিবৃতিতে উপরোক্ত বক্তব্য প্রদান করেন। নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেন, সমাজের সর্ব পর্যায়ে গণতন্ত্রায়নের পরিবর্তে স্বৈরতান্ত্রিক কর্তৃত্ববাদী শাসন চলছে। নিম্ন থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত বিচার বিভাগের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সর্বনাশা খেলায় মেতে উঠেছে শাসক শ্রেণি। ন্যাক্কারজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগে বাধ্য করার মধ্য দিয়ে সরকারের মনোভাব পরিস্কারভাবে ফুটে উঠেছে। নিম্ন আদালতের বিচারকগণের নিয়ন্ত্রণভার নির্বাহী বিভাগের কাছে রাখার মধ্য দিয়ে শাসকশ্রেণি তার ক্ষমতালোভী স্বরূপ উন্মোচন করেছে। মানুষের রুটিরুজির অধিকার ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমন করা হচ্ছে কঠোর নিষ্ঠুরতায়। শ্রমিক আন্দোলন ও ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার দমিয়ে রাখতে ব্যবহার করা হচ্ছে র্যা ব, শিল্প পুলিশ। অবাধে চলছে গুম, খুন ও নারী-শিশু ধর্ষণের ঘটনায় বিচারহীনতার রেওয়াজ। নেতৃবৃন্দ বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে এরাই দেশ শাসন করছে এরা নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন সাধন করলেও দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন আনতে পারেনি। এরশাদের পতনের মধ্য দিয়ে সমাজের গণতন্ত্রায়নের যে সুযোগ জাতির সামনে এসেছিল তা এ দুই দল তাদের নেতাদের পারিবারিক ও দলীয় স্বার্থে বিসর্জন দিয়েছে। নেতৃবৃন্দ জনগণের ভোটাধিকারসহ গণতন্ত্র-গণতান্ত্রিক শাসন-প্রশাসন গড়ে তোলাসহ অবাধ নিরপেক্ষ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য টাকার খেলা, পেশী শক্তি ও সাম্প্রদায়িকতা-আঞ্চলিকতা বন্ধ করে নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার এবং সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতির চালুর দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। একই সাথে নেতৃবৃন্দ এ দুই দলের অপসাশনের অবসানে জন্য বাম-গণতান্ত্রিক শক্তির ঝাণ্ডার নীচে সমবেত হওয়ার জন্য দেশবাসীকে উদাত্ত আহ্বান জানান।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..