প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিকে প্রশ্রয় দিতেই ডিসি হিলে নিষেধাজ্ঞা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
চট্টগ্রাম সংবাদদাতা : চট্টগ্রামের ডিসি হিলে সব ধরনের অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা প্রতিক্রিয়াশীল সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে প্রশ্রয় দেয়ার সামিল। কঠোর আন্দোলন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এ ধরনের সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে। বাঙালি ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতি চর্চার অন্যমত প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম নগরীর ডিসি হিলে তিনটি অনুষ্ঠান ছাড়া সব ধরনের অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার যে সিদ্ধান্ত জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে তার প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। তারা অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার দাবি জানান বক্তারা। গত ১ ডিসেম্বর বিকেলে নগরীর ডিসি হিল চত্বরে যুব ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলার উদ্যোগে এ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। যুব ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সদস্য রিপায়ন বড়ুয়ার সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তারা বলেন, ডিসি হিলের মতো স্থানে অনুষ্ঠান করতে না দেয়ার সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র স্বাভাবিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের গতিশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করবে না, এতে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মৌলবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে সহায়ক হবে। এ সিদ্ধান্ত ‘সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার’ প্রতিবন্ধক ও বাঙালি ঐতিহ্যের লোক সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। সকল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার মানে হচ্ছে, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের টুঁটি চেপে ধরা। অতীতেও এ ধরনের ষড়যন্ত্র হয়েছিল। কিন্তু চট্টগ্রামের ছাত্র-যুব ও সংস্কৃতি কর্মীরা সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। আগামীতেও এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে উঠবে। যুব ইউনিয়ন চট্টগ্রামের সহ-সাধারণ সম্পাদক জাবেদ চৌধুরীর সঞ্চলনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক শীলা দাশগুপ্তা, যুব ইউনিয়ন চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল শিকদার, সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রীতম সাহা, ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও চবি সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল, চট্টগ্রাম জেলার আহ্বায়ক গোলাম সরোয়ার, মনীষি রায় প্রমুখ। সমাবেশে বক্তারা আরো বলেন, যেখানে সরকার জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মৌলবাদ প্রতিরোধে সারাদেশে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর জন্য বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন সেখানে সব ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ করার ষড়যন্ত্র জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাকে উৎসাহিত করবে। জেলা প্রশাসনের এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার কারণে চট্টগ্রামের সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠক-শিল্পীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। সমাবেশে বক্তারা আরো বলেন, ডিসি হিল চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এটি প্রধান স্থান। এখানে প্রায় ৪ দশকেরও বেশি সময় ধরে সুস্থ ধারার সংস্কৃতি চর্চা ও বাঙালি ঐতিহ্যের নানা অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়ে আসছে। ডিসি হিলে বাংলা নববর্ষের উৎসব ছাড়াও বই মেলা, লোক সংস্কৃতি উৎসব, নবান্ন উৎসব, বসন্ত উৎসব, বর্ষাবরণের মতো নানা উৎসব উদযাপন করা হয়। পাশাপাশি উদযাপন হয়ে আসছে বিট্রিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্যসেনের নেতৃত্বে সংঘটিত চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ’র বার্ষিকী, শ্রমিক আন্দোলনের ঐতিহাসিক মে দিবসের বার্ষিকী।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..