জয়নাল আবেদীন খানের স্মরণসভা

জীবন একটাই লড়াইয়ের হোক সে জীবন

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : আজীবন সংগ্রামী জয়নাল আবেদীন খান ছিলেন সৎ, মেধাবী ও প্রজ্ঞাবান রাজনীতিক। ছাত্র জীবন থেকে কর্মজীন যেখানেই তাঁর বিচরণ ঘটেছে সেখাইে তিনি সাংগঠনিক দক্ষতার পদচিহ্ন রেখে গেছেন। তার চিন্তা, চেতনা, প্রজ্ঞা, সর্বোপরি কর্মময় পুরো জীবনটি ছিল শোষণমুক্ত সমাজ বিনির্মাণের আকাঙ্খায় মানুষের জন্য নিবেদিত। গত ২৬ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটরিয়ামে ভাষা সংগ্রামী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক কার্যকরি সভাপতি জয়নাল আবেদীন খানের স্মরণসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি জি.এম. জিলানী শুভর সভাপতিত্বে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তুহিন কান্তি দাসের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন, প্রবীণ সাংবাদিক কামাল লোহানী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি মোর্শেদ আলী। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তার দুই ভাই, প্রফেসর আবু সাইদ খান ও প্রফেসর আবু তাহের খান। বোন নুর-ই-নায়রিন রহমান, মেয়ে রোকসানা লাইজু ও তার খালাতো ভাই প্রতিমন্ত্রী আবু সাঈদ। সমাবেশে বক্তারা আরো বলেন, তার সারা জীবনটই ছিল সংগ্রামের। ছাত্র ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি জয়নাল আবেদীন খান। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫৪’র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬’র ৬ দফা, ৬৮’র ১১ দফা ৬৯’র গণ আন্দোলন, ৭০’র নির্বাচন, ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। বক্তারা আরো বলেন, সৎ, সাহসী দেশ প্রেমিক জয়নাল আবেদীন খান বাঙ্গালির অধিকার প্রতিষ্ঠার এক যোদ্ধা। স্বপ্ন দেখতেন শোষণ বৈষম্যহীন অসাম্প্রদায়িক এক বাংলাদেশের একমুখী বিজ্ঞান ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাঙালির অধিকার রক্ষা ও সংগ্রামে রয়েছে গৌরবোজ্জল অবদান। জয়নাল আবেদীন খানের গ্রামের বাড়ি পাবনা। ছোট বেলা থেকেই স্কুলকেন্দ্রীক লেখা পড়ায় অমনযোগী ছিলেন। তার বাউণ্ডেলে জীবনের পরিবর্তন হয় স্বদেশি আন্দোলনে অনুশীলন পার্টিতে যোগ দেয়ার মধ্যে দিয়ে। প্রথমে খবরের কাগজে ও ক্রমান্বয়ে সমাজতান্ত্রিক ধ্যান-ধারণার বই পড়তে আগ্রহী করে তোলেন। কৈশোর বয়সেই রাজনীতির হাতে খড়ি। ১৯৫১ সালে পাবনার গোপালচন্দ্র ইনস্টিটিউট থেকে এসএসসি পাশ করে কলেজে ভর্তি হয়েই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তার উদ্যোগে সে বছর ছাত্র ইউনিয়ন পাবনা শাখা গঠন করা হয়। রাজনৈতিক কৌশলের কারণে তিনি কমিটির সদস্য হিসেবে থাকেন এবং পাবনা জেলা যুবলীগের আহ্বায়কের দায়িত্ব নেন। ১৯৫২ ভাষা আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে অংশ নেন। পাবনায় গোপনে শহীদ মিনার তৈরি করেন। ঢাকায় ছাত্রদের মিছিলে গুলি ও ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে পাবনায় হয় ২৩ ফেব্রুয়ারি। এই মিছিল আয়োজন ও অংশ নেয়ার কারণে প্রথমবার গ্রেফতার হন। ১৯৫৩ সালে মুসলিম লীগের সভা প- করে দেয়ার জন্য কামাল লোহানী, রনেশ মৈত্র আব্দুল মতিনসহ তিনি পুনরায় গ্রেফতার হন। ঢাকায় আসার পর আইয়ূববিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষিদ্ধ হলে কমিউনিস্ট পার্টির নির্দেশে যুবলীগ ছাত্রফ্রন্ট ও ছাত্র ইউনিয়নের নেতার মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন। এসময় তার সহযোদ্ধা ছিলেন শেখ ফজলুল হক মনি, মো.ফরহাদ, সিরাজুল আলম খান, কাজী জাফর আহমেদ, আমীর হোসেন আমু প্রমুখ। ১৯৫৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনে ভর্তি হন এবং আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিলাভ করেন। ১৯৬২ সালে শরীফ কমিশনের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ায় আবার গ্রেফতার হন। এর কিছুদিন পর রাজনীতির উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের কার্যকরি সভাপতি নির্বাচিত হন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..