ভেজাল এখন চতুর্দিকে, এমনকি রাজনীতিতেও

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম: রাজনীতি হলো ‘রাজার নীতি’, অথবা ঘুরিয়ে বললে ‘নীতির রাজা’। আতঙ্কিত হওয়ার বিষয় হলো– দেশের অন্য প্রায় সবকিছুর ক্ষেত্রে যেমন, তেমনি রাজনীতিতেও এখন প্রবলভাবে ‘ভেজাল’ ঢুকে গেছে। ভেজালের রাজত্ব সেখানেও এখন মূলধারা হয়ে উঠেছে। খুব বেশি দিনের কথা নয়, যখন ভেজালের সাথে এদেশের মানুষের তেমন একটা পরিচয় ছিল না। মূলত: ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনামলের শেষদিকে ভেজালের সাথে মানুষের প্রথম কিছুটা পরিচয় ঘটে। এটি বিশেষভাবে তীব্রতা পায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। পাকিস্তান আমলে ভেজালের কারবার শুধু অব্যাহতই থাকেনি, তা আরো জোরদার হয়েছিল। স্বাধীন বাংলাদেশের ভেজালের প্রাদুর্ভাব থেকে সমাজকে মুক্ত করা যায়নি। কিন্তু ভেজাল বলতে মানুষ তখন পর্যন্ত প্রধানত খাদ্যে ভেজালের সাথেই বিশেষভাবে পরিচিত ছিল। বর্তমানে ভেজালের পরিধি ও বিস্তৃতির মাত্রায় গুণগত উল্লম্ফন ঘটেছে। ভেজাল এখন শুধু খাদ্যে নয়, তা এখন সর্বত্র প্রসারিত হয়েছে। আজকাল শুধু শাক-সবজি, ফল-মূল, খাওয়া-খাদ্যেই নয়, ভেজালের রাজত্ব ছড়িয়ে পড়েছে সবখানে। যেমন কিনা, পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে চলছে ভেজাল (প্রশ্নপত্র ফাঁস)। নির্মাণ কাজে ভেজাল (লোহার রডের বদলে বাঁশ)। আয়-উপার্জনে ভেজাল (ঘুষ-দুর্নীতি)। কোটি টাকার সম্পদ বানাতে ভেজাল (লুটপাট)। ছাত্রলীগে-যুবলীগে, কিংবা ছাত্রদল-যুবদলে ভেজাল (অনুপ্রবেশকারী)। রাজনীতিবিদদের মধ্যে ভেজাল (ওয়ানটাইম অথবা হাইব্রিড)। সংসদে ভেজাল (গৃহপালিত বিরোধী দল)। এমনকি জাতির পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধের বিদেশি বন্ধুদের প্রতি সম্মান জানানোর ক্ষেত্রে ভেজাল (সম্মাননা ক্রেস্ট)। ভেজাল এখন চতুর্দিকে! শিক্ষা ব্যবস্থাতেও লেগেছে ভেজালের বদ-হাওয়া। ভুঁইফোড় সব ভুয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাত্র ভর্তি করে শিক্ষার্থীদের সর্বনাশ ঘটাচ্ছে। টাকা দিয়ে ডিগ্রির ‘ভেজাল’ সার্টিফিকেট কেনা-বেচা হচ্ছে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। ফলে মেধা যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও ঢুকে পড়ছে ‘ভেজাল’। ‘ভেজালের’ এ সমাজে এখন চলছে ভেজালের ‘মুক্ত বাণিজ্য’। চলছে ভেজালের প্রতিযোগিতা। ফলে, তাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হচ্ছে দ্বন্দ্ব-সংঘাত-হানাহানি-নৈরাজ্য। এক্ষেত্রে পরিস্থিতি যে কতোটা বিপদজনক হয়ে উঠেছে তার প্রত্যক্ষ নির্দশন হলো একের পর এক ঘটতে থাকা গুম-খুন-হত্যা-অপহরণ-ধর্ষণের ঘটনা। এসব প্রতিটি ঘটনা শুধু বর্বর ও লোমহর্ষকই নয়, তার বিভৎসতা ক্রমাগত সব কল্পনাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। দেশবাসী এহেন পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে পারে না। অথচ ‘সবকিছুই ঠিক-ঠাক আছে’ বলে ক্ষমতাসীনরা ক্রমাগতভাবে বলে চলেছে। সমাজে ‘ভেজালকরণের’ এরূপ সর্বগ্রাসী প্রাদুর্ভাব একদিকে যেমন দেশের সার্বিক রুগ্নতা, বিকারগ্রস্ততা, অপরাধ প্রবণতা ও নৈরাজ্যের জন্মদাতা– তেমনই তা হলো সমাজের মধ্যে ঘটতে থাকা গভীর ও সামগ্রিক পচন প্রক্রিয়ার অভিপ্রকাশ বা লক্ষণ। এগুলো মোটেও বিচ্ছিন্নভাবে ঘটে যাওয়া এক-একটি আলাদা-আলাদা ঘটনা নয়। এর প্রতিটিই একই যোগসূত্রে গাঁথা। এগুলো সবই হলো দেশের রুগ্ন হয়ে পড়া অর্থনৈতিক-সামাজিক-রাজনৈতিক ব্যবস্থার ফলাফল মাত্র। রাজনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থাও আজ ‘ভেজাল’ উপাদানে ভরপুর হয়ে পড়েছে। মানুষের পিলে চমকে দেয়ার মতো প্রায় প্রতিটি গুম-খুন-হত্যা-ধর্ষণের এসব ঘটনাবলীর মধ্যেও সে সত্যটি উন্মোচিত হয়ে পড়ছে। সর্বত্রই দৃশ্যমান হচ্ছে ‘ভেজালের’ বহুমাত্রিক উপসর্গগুলো। দেখা যাচ্ছে যে, এসব ঘটনার সাথে যুক্ত রয়েছে গডফাদার, মাফিয়া চক্র, প্রাইভেট সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী, প্রশাসনের যোগাযোগে বৈধ-অবৈধ অস্ত্র ভাণ্ডার, টর্চার চেম্বার, বাগানবাড়ি, ব্ল্যাকমেইলিং ইত্যাদি। এসবের গোড়ায় রয়েছে অর্থনৈতিক লুটপাটের এক বিশাল আয়োজন। এসব ক্রাইমের সাথে জমি দখল, নদী দখল, বালু-মহালের বেআইনী কারবার, স্মাগলিং, মাদক ব্যবসা, ইয়াবা-ফেনসিডিল ব্যবসা, জিম্মি ব্যবসা, নারী ব্যবসা, চাঁদাবাজি ইত্যাদি যে প্রত্যক্ষভাবে জাড়িত, সে কথা এখন আর অজানা নয়। এসব অপরাধী চক্র তাদের ‘অপরাধ-রাজত্ব’ প্রতিষ্ঠা করে যাবতীয় ক্রিমিনাল কাজ-কমের্র মাধ্যমে শত-শত কোটি টাকার প্রাইভেট বাজেটে ‘রাজা’ বনে গিয়ে তাদের ‘স্বাধীন রাজত্বে’ একধরণের ‘স্বার্বভৌম’ শাসন কায়েম রাখতে সক্ষম হচ্ছে। তারা ‘বড়’ রাজনৈতিক দলের ছায়ার নিচে এসে আশ্রয়-প্রশ্রয় নিচ্ছে। তেমনই আবার তারা সেসব রাজনৈতিক দল ও শক্তিকে সন্ত্রাসী ক্যাডার সরবরাহসহ নানাভাবে ‘সেবা’ দিয়ে যাচ্ছে। আইনশৃংখলা বাহিনীর ও প্রশাসনের প্রভাবশালী অংশের সাথে তাদের রয়েছে অর্থনৈতিক লেনদেনের সম্পর্ক। একদিকে এইসব ক্রিমিনাল গ্যাং ও অন্যদিকে প্রশাসন– এই দুইয়ের মধ্যে কার হাতে প্রকৃত ক্ষমতা বেশি, তা বলাটা এখন বেশ মুশকিল। এই আয়োজনের নিট ফলাফল হলো– অপরাধী চক্রের প্রাইভেট রাজত্ব, তাদের হাতে কল্পনাতীত সম্পদের সমাবেশ, টাকার বিনিময়ে প্রশাসনের ও বিভিন্ন বাহিনীর একাংশ কর্তৃক ভাড়ায় তাদের হয়ে ‘কাজ’ করে দেয়া ইত্যাদি। এভাবে একই রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে এধরনের অনেক প্রাইভেট ‘ভেজাল রাষ্ট্র’! একধরণের অন্ধকারের জগত দেশকে গ্রাস করে ফেলছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যেকার ‘ক্ষমতার দ্বন্দ্বকে’ সুকৌশলে কাজে লাগিয়ে এসব অন্ধকারের শক্তি আধিপত্য বিস্তার করে চলেছে। এই অপশক্তি ‘অন্যথায় অন্যপক্ষে চলে যাবো’ বলে দল দু’টিকে হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করছে। একই সাথে উভয় দলের বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্বকে তারা কব্জা করে নিচ্ছে। এসব অপরাধীচক্র বস্তুতঃ দল দু’টিকে দখল করে নিচ্ছে। অন্যদিকে, ক্ষমতার দ্বন্দ্বে পরস্পরকে টেক্কা দেয়ার জন্য দল দু’টিও এসব অপরাধী চক্রকে ‘হাত করার’ মরণ খেলায় মেতে উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রেই এসব মাফিয়া ডনরা একদিকে হয়ে উঠছে দলের নেতা আবার অন্যদিকে দলের কিছু কিছু নেতা নিজেরাই মাফিয়া ডন হয়ে উঠেছে। ‘ভেজালের’ জন্মদাতা ও লালনকারী শক্তির মদতে ‘ভেজালের রাজত্ব’ উত্তরোত্তর আরো সর্বগ্রাসী ও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। দেশের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থাতেও লেগেছে ‘ভেজালের’ ছাপ। দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচনে দেশের খুব সামান্য সংখ্যক ভোটারই ভোট দিয়েছে। ১৫৪ টি আসনে কোনো ভোট ছাড়াই এমপিরা ‘নির্বাচিত’ বলে ‘ঘোষিত’ হয়েছিল। একথা সকলেই জানতো যে সে সময় আওয়ামী লীগের প্রতি জনসমর্থনে গুরুতর ভাটা চলছিল। জাতীয় নির্বাচনের মাত্র কিছু সময় আগে অনুষ্ঠিত ৫টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা বিপুল ভোটে পরাজিত হওয়ার ঘটনা থেকে তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। জাতীয় নির্বাচনে অবশিষ্ট ১৪৬টি আসনেও নগণ্য সংখ্যক ভোটার ভোট দিয়েছিল। ফলে, সেই নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পক্ষে জনসমর্থনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। উপজেলা নির্বাচনের শেষ চার পর্বে যে ‘কারচুপির তামাশা’ চালানো হয়েছিল, তা দিয়েও জনসমর্থনের প্রকৃত প্রতিচ্ছবি পাওয়ার কোনো সুযোগ হয়নি। অধিকাংশ মানুষ ও পর্যবেক্ষকদের ধারণা হলো এই যে, আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা ও জনসমর্থনের গুরুতর ঘাটতি রয়েছে। সেই ঘাটতি কমার বদলে গত ৪ বছরে তা বরঞ্চ আরো বেড়েছে। সুতরাং বলা যায় যে, ‘ভেজাল’ জনসমর্থনের ওপর ভিত্তি করে ক্ষমতাসীনরা এখন দেশ শাসন করছে। জনসমর্থনের প্রত্যক্ষ অভিব্যক্তি ছাড়া একটি দেশে স্থায়ী ও স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক শাসন চালানো সম্ভব নয়। ‘ভেজালের’ ভিত্তিতে পরিচালিত রাজনীতির বিপদ সবচেয়ে বেশি আজ এখানেই। অন্যদিকে বিএনপি সেসময় চেয়েছিল নির্বাচন ছাড়াই আওয়ামী লীগকে সহিংস সন্ত্রাস-তাণ্ডব সৃষ্টির মাধ্যমে উৎখাত করতে। এজন্য বিএনপিকে জামায়াতের জঙ্গি শক্তির ওপর নির্ভর করতে হয়েছিল। জামায়াতকে সাথে নিয়ে চলা একটি দলের পক্ষে নিজেকে গণতান্ত্রিক বলে দাবি করা যে নিতান্তই একটি ‘ভেজাল’ দাবি, সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিএনপি তার পক্ষে ইতিবাচক জনসমর্থন সমবেত করতে সমর্থ হয়নি। সরকারকে উৎখাত করা বা মধ্যবর্তী নির্বাচনে বাধ্য করার মতো পর্যাপ্ত জনসমর্থন বিএনপির নেই। ফলে রাজনীতিতে এখন একধরনের একটি ত্রিশঙ্কু অবস্থা চলছে। রাজনীতিতে বিরাজ করতে থাকা এরকম এক ধরনের শুন্যতা সামগ্রিক ক্ষেত্রে ‘ভেজালের’ শক্তির বিস্তৃতির জন্য সুবিধা করে দিচ্ছে। এদিকে আওয়ামী লীগ বিএনপি থেকে জামায়াতকে ‘ছুটিয়ে’ আনার কৌশল নিয়েছে। সে কৌশলের অংশ হিসেবেই ‘জামায়াত নিষিদ্ধ করার সময় এখনো আসেনি’ বলে প্রকাশ্যে ঘোষণা দেয়া, ‘মদিনা সনদ’ অনুযায়ী দেশ চলবে বলে উক্তি করা ইত্যাদি পদক্ষেপগুলো আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। জামায়াতকে মূল টার্গেট করে বিএনপিকে কৌশলে তার থেকে সরিয়ে রাখার চেষ্টার বদলে আওয়ামী লীগ বিএনপিকে মূল টার্গেট করে জামায়াতকে তার থেকে দূরে সরিয়ে নিজের কাছে আনার কৌশল অনুসরণ করছে। সেই কৌশলের অংশ হিসেবেই সে নিজেকে বিএনপির চেয়ে বেশি ‘ইসলাম পছন্দ’ দল হিসেবে পরিচিত করে তুলতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এদিকে, নানা ধরনের কনসেশন দিয়ে মৌলবাদী হেফাজতকেও সে অনেকটাই হাত করে নিতে স্বক্ষম হয়েছে। এভাবে আওয়ামী লীগের লোক দেখানো ‘ধর্ম নিরপেক্ষতার’ মধ্যে প্রবেশ করেছে ‘সাম্প্রদায়িকতার’ ভেজাল। ক্ষমতার বিবেচনার কাছে নীতি-আদর্শের বিবেচনাকে বিসর্জন দেয়া হচ্ছে। রাজনীতির নীতি-নিষ্ঠতায় এভাবে অনুপ্রবেশ ঘটছে ‘গদির লোভের’ ভেজাল। বিএনপি চলছে স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতকে সাথে নিয়ে। শুধু আদর্শবোধই নয়, ন্যূনতম দেশপ্রেমের প্রশ্নে ‘ভেজাল’ মিশ্রিত না হলে এরকম অধঃপতন সম্ভব নয়। তার সরকার বিরোধিতার মধ্যেও রয়েছে ভেজাল। প্রচণ্ডভাবে সরকার বিরোধী হওয়া সত্ত্বেও লক্ষ্যণীয় যে সে প্রচণ্ডভাবে সরকারের ‘গদির’ বিরোধিতা করলেও, আর্থ-সামাজিক মূলনীতির প্রশ্নে সে সরকারের বিরোধিতা করতে সে মোটেও ইচ্ছুক নয়। বরঞ্চ সেক্ষেত্রে সে কার্যতঃ সরকারের ‘সমমনা’। দেখা যাচ্ছে যে সরকার বিরোধিতার ক্ষেত্রেও এখন চলছে ‘ভেজালের’ কারবার। রাজনীতিতে ‘ভেজালের’ উপস্থিতির আরো ভুরি-ভুরি দৃষ্টান্ত তুলে ধরা যায়। বস্তুতঃ শুধু উপস্থিতি নয়, রাজনীতির তথাকথিত ‘মূলধারায়’ এখন ‘ভেজালেরই’ আধিপত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, প্রচার মাধ্যম, শিক্ষা, সাহিত্য, স্বাস্থ্য সেবা, নীতি-নৈতিকতা– অর্থাৎ দেশের সর্বত্র আজ চলছে অশুভ ও আত্মঘাতি ‘ভেজালের রাজত্ব’। ফলে দেশের বর্তমান জনগোষ্ঠির শারীরিক, সামাজিক, নৈতিক অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়েছে। সাথে সাথে ভবিষ্যত বংশধরদের জীবনও হুমকির মুখে পতিত হচ্ছে। একথা বলা অত্যুক্তি হবে না যে, ভেজালের এরূপ সর্বগ্রাসী প্রাদুর্ভাব জাতির অস্তিত্বের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভেজালের সর্বব্যাপী বিস্তার ভয়ঙ্কর এক অস্থিরতা, নৈরাজ্য ও রুগ্নতার জন্ম দিয়েছে। নীতি নৈতিকতার ক্ষেত্রে মারাত্মক ক্ষয় রোগ আজ সমাজ দেহে বাসা বেঁধেছে। ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট স্থাপন করে ফরমালিন মিশ্রিত আম-লিচু-মাছ রাস্তায় ফেলে ধ্বংস করা কিছুটা সম্ভব হলেও, নীতি-নৈতিকতাসহ সমাজ জীবনে ক্রম প্রসারমান ভেজালের উৎপাত নিবারণ বা অবদমিত করা শুধু কোনো ম্যাজিস্ট্রেট ও মোবাইল কোর্টের প্রয়াস দ্বারা সম্ভব হবে না। বিচ্ছিন্নভাবে এদিক-ওদিক সংস্কারের মলম লাগিয়ে বা ‘ভেজালহীনতার’ পানি পড়া প্রয়োগ করেও কাজ তেমন একটা হবে না। কারণ ‘রোগ সংক্রামক হলেও স্বাস্থ্য সংক্রামক নয়’। অবস্থার অবনতি এখন এমন এক চরম পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে যে, একটি বিপ্লবী গণজাগরণ ও সর্বাত্মক সমাজ বিপ্লবের চেয়ে কম কোনো কিছুতে এ মারাত্মক ব্যাধি থেকে মুক্তি অর্জন সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। ‘ভেজালের’ রাজত্ব থেকে পরিত্রাণের জন্য তাই এখন ‘দিন বদল’ করাটাই একমাত্র পথ। সেজন্য ঘটাতে হবে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় ‘ভেজাল মুক্ত’ নতুন শক্তির অভ্যূদয়! এ কাজে যতো বিলম্ব হবে, দেশের সর্বনাশ ততোই বাড়তে থাকবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..