উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় পুরো যুক্তরাষ্ট্র

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা বিদেশ ডেস্ক : গত ২৯ নভেম্বর সফলভাবে এযাবৎকালের নিজেদের ‘সবচেয়ে শক্তিশালী’ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর পর পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হয়ে ওঠার দাবি করেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন। হাউয়াসং-১৫ ক্ষেপণাস্ত্রটির পরীক্ষা চালানো হয়, যা আট হাজার মাইল দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। ক্ষেপণাস্ত্রটির কোনো ছবি প্রকাশ করেনি উত্তর কোরিয়া। তবে ধারণা করা হচ্ছে, এ ক্ষেপণাস্ত্রটি বড় পরমাণু ওয়ারহেড বহনে সক্ষম। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো দীর্ঘদিন থেকে বলে আসছে, তারা উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নেবে না কিংবা পরমাণু অস্ত্র সম্পন্ন হতে দেবে না। সম্ভাব্য সব ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। পিয়ংইয়ংয়ের ওপর জাতিসংঘের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। কিন্তু সব ধরনের বাধা উপেক্ষা করে নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু কার্যক্রম চালিয়ে গেছে উত্তর কোরিয়া। ওয়াশিংটনভিত্তিক অস্ত্র বিশেষজ্ঞ ডেভিড রাইটের মতে, যে ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হয়েছে তা কেবল যুক্তরাষ্ট্র নয়, এর আশপাশের পুরো অঞ্চলে আঘাত হানতে সক্ষম। কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে পরমাণু ওয়ারহেড ছোড়ার পর সেটির কী হবে তা এখনো পরীক্ষা করা হয়নি। এই ঘটনার পরই দেশটির সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে পরাশক্তি রাশিয়া এবং চীন এই আহ্বানে ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছে না। ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর গত ৩০ নভেম্বর জরুরি অধিবেশনে বসে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার আহ্বানে এই বৈঠক বসে। সেখানে এই পরীক্ষার নিন্দা জানানো হয়। জাতিসংঘে মার্কিন দূত নিকি হ্যালি পরিষদের অন্য সদস্যরাষ্ট্রগুলোর উদ্দেশ্যে বলেন, উত্তর কোরিয়ার কার্যকলাপ বিশ্বকে ‘যুদ্ধের খুব কাছে’ নিয়ে যাচ্ছে। তিনি পিয়ংইয়ংকে বিশ্বের জন্য ধ্বংসাত্মক হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। নিকি হ্যালি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য সব কটি দেশের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি জানান, সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংকে ফোন করেছেন। উত্তর কোরিয়া তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার জন্য চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাস, চীন এই পদক্ষেপ নিলে তা হবে উত্তর কোরিয়াকে এক ঘরে করে ফেলার কার্যকরী পদক্ষেপ। তবে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার মার্কিন আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে না রাশিয়া ও চীন। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ গত ৩০ নভেম্বর বেলারুশের সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমি বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবে দেখছি। আমরা বরাবরই বলে আসছি, অবরোধ এবং নিষেধাজ্ঞার চাপ কোনো কাজে আসেনি।’ এদিকে চীনও জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ায় তেল সরবরাহ বন্ধের ব্যাপারে তারা আগ্রহী নয়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..