ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরব যুক্তরাজ্য

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা টুইট নিয়ে যুক্তরাজ্যে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’কে উদ্দেশ করে টুইটারে ট্রাম্পের করা মন্তব্যের জবাবে দেশটির রাজনীতিকদের অনেকেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ৩০ নভেম্বর সকালে সংসদ অধিবেশনের শুরুতেই ট্রাম্পের অশোভন আচরণের কড়া সমালোচনা করে এর একটি বিহিত দাবি করেছেন দেশটির এমপিরা। যুক্তরাজ্যের কট্টর বর্ণবাদী দল ‘ব্রিটেন ফাস্ট’ এর ডেপুটি লিডার জেইডা ফ্রান্সেনের ইসলামবিদ্বেষী উসকানিমূলক দুটি টুইট নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে রিটুইট করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বর্ণবাদী উসকানির অপরাধে জেইডা সাজাপ্রাপ্ত আসামি। ফলে এমন বর্ণবাদীর মন্তব্য শেয়ার করার কারণে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিক ও বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতারা ট্রাম্পের সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছেন। গণমাধ্যমগুলোর প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, ট্রাম্প উগ্রবাদী দলের যে মন্তব্য প্রচার করেছেন, সেটি ঘৃণাপূর্ণ, এটি কেবল মিথ্যাচার ও বিদ্বেষকেই উসকে দেয়। এর পরপরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’কে উদ্দেশ করে অশোভন ভাষায় টুইট করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমার প্রতি নজর দেবেন না, ধ্বংসাত্মক উগ্রবাদী ইসলামিক সন্ত্রাসবাদের দিকে নজর দিন, যা যুক্তরাজ্যের মাটিতে ঘটছে। আমরা বেশ ভালোই করছি।’ ট্রাম্পের এমন আচরণকে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি চরম অপমানজনক বলে মনে করছেন এমপিরা। তাঁরা সকাল থেকেই ট্রাম্পের এমন টুইটের প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা টুইট করতে থাকেন। সংসদেও হয় উত্তপ্ত আলোচনা। টেরিসা মে’র মুখপাত্র এই বিষয়য়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর মাধ্যমে ভুল করেছেন। তিনি আরো বলেছেন, বৃটেন ফার্স্ট একটি উগ্র ডানপন্থি গ্রুপ। তারা ঘৃণা ছড়িয়ে দিয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব ঘৃণা প্রসূত বক্তব্য বা ভিডিও মিথ্যায় ভরা। এর মাধ্যমে তারা উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। যেসব মানুষ আইন মেনে চলেন তাদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে দেয়াই তাদের কাজ। উগ্রপন্থিদের এমন অনাচার বৃটিশ জনগণ জোর দিয়ে প্রত্যাখ্যান করছে। তাদের এ প্রচেষ্টা অর্থহীন। কারণ, বৃটেন যেসব নীতি অবলম্বন করে তার মধ্যে রয়েছে সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা। যুক্তরাজ্যে ট্রাম্পের যেকোনো সরকারি সফর আটকে দেওয়ার দাবি তুলেছেন লন্ডনের মেয়র সাদিক খান। আর এমপিদের পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে প্রেসিডেন্টের আচরণের বিষয়ে সতর্ক করে দিতে। রাজীনিতবিদ ছাড়া ক্যান্টারবারির আর্চবিশপ জাস্টিন ওয়েলবিও এই বিষয়ে নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি ট্রাম্পের পদক্ষেপকে গভীরভাবে বিরক্তিকর বলে উল্লেখ করেছেন। আরো বলেছেন, উগ্র ডানপন্থিদের কণ্ঠকে আরো বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়ার পথটিই বেছে নিয়েছেন ট্রাম্প।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..