দুই দশক পর নেপালে নির্বাচন

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : নেপালে পার্লামেন্ট ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজতন্ত্রের অবসানের পর দেশটিতে এটিই প্রথম নির্বাচনী ভোট। এর আগে সর্বশেষ ২০০৮ ও ২০১৩ সালে নেপালে জাতীয় নির্বাচন হয়েছে এবং এ বছরের মাঝামাঝি তিন দফায় হয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। পূর্ববর্তী দুটি জাতীয় নির্বাচন ছিল মূলত সংবিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে সংবিধানসভার নির্বাচন। সেই হিসাবে এবার দীর্ঘ ১৭ বছর পর জনপ্রতিনিধিত্বশীল পার্লামেন্ট নির্বাচন হচ্ছে। গত ২৬ নভেম্বর ভোটগ্রহণের প্রথম পর্বে সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দেশটির ৩২ জেলার ১ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। নির্বাচনে বিচ্ছিন্ন সহিংসতা ছাড়া বড় ধরনের কোনো সংঘাতের খবর পাওয়া যায়নি। আগামী ৭ ডিসেম্বর বাকি ৪৫টি জেলায় দ্বিতীয় পর্বের ভোটগ্রহণ হবে। নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে নেপালি কংগ্রেস পার্টির জোট ও বামপন্থি জোট এই দুদলের মধ্যে। মধ্যপন্থি নেপালি কংগ্রেস পার্টি মাওবাদী ও কমিউনিস্ট ইউএমএল পার্টির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করছে। নেপালের পাহাড়ি জেলাগুলোর ভোটকেন্দ্রে মানুষদেরকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে দেখা গেছে। এর আগে বিশৃঙ্খলার কারণে তিনটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। একটি ভোটকেন্দ্রে বিস্ফোরক দ্রব্য পাওয়া যায়। বাকি দুটি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বাক্সে এসিড নিক্ষেপ করা হয়। বিচ্ছিন্ন এসব ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে ৩২ জেলায় নির্বাচনী সহিংসতায় মোট ১৭ জন আহত হয়েছে বলে খবর রয়েছে। আর সংঘাতের আশঙ্কায় দেশটির মানাং জেলায় ৬শ’রও বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নেপালের রাজতন্ত্রের অবসানের পর নতুন ফেডারেল শাসন ব্যবস্থায় এটিই প্রথম নির্বাচন। দেশটিতে নিরাপত্তাবাহিনী ও মাওবাদী বিদ্রোহীদের মধ্যে দীর্ঘ ১০ বছরের গৃহযুদ্ধের পর ২০১৫ সালে নতুন সাংবিধানিক আইন পাস হয়। নতুন সংবিধান অনুযায়ী, ফেডারেল ও রাজ্যসভার একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন নারী, আদিবাসী সম্প্রদায় ও নিম্নশ্রেণির মানুষের জন্য বরাদ্দ থাকবে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ঘন ঘন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে দেশটিতে দুর্নীতি ব্যাপক হারে বেড়েছে। ভোট দেয়ার পর কৃষক জ্ঞান বাহাদুর থাপা নামে স্থানীয় একজন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রতি নয় মাস পর পর সরকার পরিবর্তন হয়েছে। তারা ক্ষমতার জন্য সংঘাত ছাড়া কোনোই কাজ করেনি। আশা করি এই অবস্থার পরিবর্তন হবে।’ আরেকজন গৃহিণী রিতা শ্রেষ্ঠার বক্তব্য, ‘আমাদের রাস্তা, পানি, বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন। কাজের জন্য আমাদের সন্তানদের যেন বিদেশে না যেতে হয়, সেজন্য চাকরি প্রয়োজন।’ কয়েকটি জেলায় ভোটাররা দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে ভোটকেন্দ্রে গেছেন। ভোট দেয়ার জন্য তারা সেখানে প্রখর রোদের মধ্যে দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষা করেছেন। আগামী ৭ ডিসেম্বর ৪৫ জেলায় হবে দ্বিতীয় দফা ভোট, এরপর ফলাফল। দুরূহ গণনাপদ্ধতির জন্য ফল ঘোষণায় কয়েকদিন লেগে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে নির্বাচন কমিশন। আঠারো বছর পর সংসদ নির্বাচনে ভোট দিচ্ছে নেপালের জনগণ। রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ শেষে, রাজতন্ত্র অবসানের এক দশক পর এবারের নির্বাচন হিমালয়ের কোলে থাকা দেশটিতে শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে আসবে বলেও প্রত্যাশা তাদের।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..