হন্ডুরাসে বামপন্থিরা এগিয়ে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : হন্ডুরাসে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এগিয়ে বাম-মধ্য জোট প্রার্থী সালভাদোর নাসরাল্লা। ২৮ নভেম্বরে ভোট গণনা শুরুর পর থেকে এই আভাস স্পষ্ট। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জুয়ান ওরলান্ডো হার্নান্দেজ এর পরাজয়ের খবরে আপ্লুত লাতিন আমেরিকার গণতন্ত্র প্রিয় মানুষ। উত্তাল তেগুসিগামপার রাজপথ। লাল পতাকায় ছয়লাব চতুর্দিক। উৎসবে মাতোয়ারা মানুষ। লাতিন আমেরিকার গরিব দেশ হন্ডুরাস। অধিকাংশ মানুষই দারিদ্র্যসীমার নিচে। বিশ্বে সর্বোচ্চ খুনের কালিমাও বইতে হয় এ দেশটিকেই। ওয়াশিংটনের বন্ধু হেরনানদেজের সরকারের এইসব দুষ্কর্ম মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছে। বাস্তবে যা বোঝা যাচ্ছে গণপ্রতিক্রিয়ায়। ২৮ নভেম্বর রাত পর্যন্ত ৮০ শতাংশ ভোট গণনা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৫ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে দেশের অতীতের ক্রীড়া সাংবাদিক ও বর্তমানে জনপ্রিয় টেলিভিশন শিল্পী নাসরাল্লা। সবশেষ পাওয়া খবর, দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রচারে সাড়া ফেলা বিরোধী প্রার্থী নাসরাল্লা প্রাপ্ত ভোটের হার ৪৫ শতাংশ। অন্যদিকে ৪০ শতাংশ ভোট পেয়ে অনেকটাই তফাতেই হেরনানদেজ। ৭ ডিসেম্বর ভোটের ফল জানা যাবে। ২৭ নভেম্বর রাতে রাজধানী তেগুসিগালপায় সাংবাদিকদের এই কথা জানান, হন্ডুরাসের নির্বাচনী ট্রাইবুনালের সভাপতি ডেভিড মাটামোরোস। এদিকে বাম-মধ্য জোটের প্রার্থীর জয়ের খবরের পরিপ্রেক্ষিতে দেশজুড়েই উত্তেজনা। নির্বাচনী প্রচারের সময়ে মার্কিন মদতপুষ্ট রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হেরনানদেজের জয় প্রায় নিশ্চিত বলেই তুলে ধরা হয়েছিল। যদিও ভোট গণনা শুরু হতেই বদলে যায় হিসাব। ক্রমশই এগিয়ে যেতে থাকে বাম-মধ্য জোট। বাম-মধ্য জোট প্রার্থীর জয়ের বিষয়ে আশাবাদী দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ম্যানুয়েল জেলায়া। ২০০৯ সালে মার্কিন মদতে সেনা অভ্যুত্থানে বামপন্থা ঘেঁষা রাষ্ট্রপতি জেলায়াকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। অনেকেই মনে করে নাসরাল্লার আড়ালে জোটের নিয়ন্ত্রণ জেলায়ার হাতেই। এদিকে বাম-মধ্য জোটের জয়ের খবরে বেকায়দায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষত, সাংবাদিক সম্মেলনে নির্বাচনী আধিকারিক মার্কোস রামিরো লোবোর বাম-মধ্য জোটের জয় প্রায় নিশ্চিত ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে। তবে নাসরাল্লা জানিয়ে রেখেছেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক রাখতে চান। সমর্থন করেন খোলা বাজার অর্থনীতিরও। মনে করেন বেকারত্বের সমস্যা সমাধানে বেসরকারিকরণ একটা পর্যায় পর্যন্ত প্রয়োজন। যার ফলে কমতে পারে মেহনতি মানুষের অভিবাসী হওয়ার প্রবণতারও। এর আগে ২৬ নভেম্বর আমেরিকান রাষ্ট্রগুলোর সংগঠন অরগানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটস (ওএএস) এর তত্ত্বাবধানে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এরপর বর্তমান প্রেসিডেন্ট ওরলান্ডো হার্নান্দেজ ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী টিভি তারকা সালভাদোর নাসারাল্লা নিজেদের বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করেন। নাসরাল্লাকে আটকাতে ইতোমধ্যেই ব্যাপক কূটচাল শুরু করেছে ওয়াশিংটন সমর্থিত অরগানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটস (ওএএস)। ২৭ নভেম্বর অর্ধেকের বেশি ভোট গণনার পর ফল প্রকাশ করা হয়। এতে নাসারাল্লা ৫ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন। এরপর ৩৬ ঘণ্টা বিরতি দেওয়া হলে ভোট গণনা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। পুনরায় গণনা শুরু হলে হার্নান্দেজ এগিয়ে যান। সবশেষ ৮২.৮৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষে তিনি পেয়েছেন ৪২.২ শতাংশ আর নাসারাল্লা পেয়েছেন ৪২.১ শতাংশ। এরপর বুধবার বিকেলে ভোট গণনা আবারও বন্ধ করা হয়। এজন্য কম্পিউটারে ওপর দোষ চাপান নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা। এর পরই নাসরাল্লা অভিযোগ করেন, নির্বাচনের ফল ডাকাতি করা হচ্ছে। এসময় ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার জন্য তিনি সমর্থকদের রাজধানী তেগুচিগালপার রাস্তায় নামার আহ্বান জানান। নাসারাল্লা বলেন, ‘তারা আমাদের বোকা বানিয়ে বিজয় ছিনিয়ে নিতে চাচ্ছে। ওএএসের সঙ্গে যে দলিলে সই করেছি তার কোনও বৈধতা নেই।’ এরপর নির্বাচন আদালতের সামনে জড়ো হন নাসারাল্লার সমর্থকরা। তাদের সরিয়ে দিতে কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। গাসের কারণে নির্বাচন আদালতের কর্মকর্তারাও বাইরে বের হয়ে যেতে বাধ্য হন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..