খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : ময়মনসিংহে খেজুরের গাছগুলোয় হাঁড়ি ঝোলানোর কাজ শুরু করেছেন গাছিরা। অবশ্য তেমন শীত না পড়ায় খুব একটা রস পাওয়া যাচ্ছে না। জেলার ভালুকা, ত্রিশাল, ফুলবাড়ীয়া ও মুক্তাগাছায় খেজুর গাছের পরিমাণ বেশি। ভালুকায় খেজুর গুড়ের বিশেষ বাজার ও চাহিদা রয়েছে। এ উপজেলায় সারা বছরই গুড় বিক্রি হয়। যদিও শিল্পাঞ্চল ও ইটভাটার কারণে খেজুর গাছ কেটে সাবাড় করছে মানুষ। মুক্তাগাছা উপজেলার আমছর আলী জানান, অক্টোবরের শেষ দিকে গাছিরা একেক জন ১৫০-২০০টি খেজুর গাছ কেটে ফেলতেন। এখনো শীত না পড়ায় এ বছর ১০-১৫টির বেশি গাছ কাটতে পারেননি। খেজুর গাছের মালিকেরা জানান, এখনো শীত না পড়ায় রস তেমন হচ্ছে না। দিনে দুই কেজির বেশি রস পাওয়া যাচ্ছে না। শীত না পড়ায় রসে স্বাদও আসেনি। একটা খেজুর গাছ তিনবার কাটার পরে তাতে বাঁশের নলি লাগিয়ে ভাঁড় ঝুলিয়ে দেয়া হয়। সারা রাতে ভাঁড়টি রসে ভরে যায়। একটা গাছ থেকে দিনে ও রাতে দুবার রস সংগ্রহ করা যায়। ভোরের রস বেশ মিষ্টি হয়। আর বিকালে সংগ্রহ করা রসকে তাড়ি বলে। মাঘ থেকে রস কমতে শুরু করে। অবশ্য রসের ঘনত্বও বাড়ে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সদর, মুক্তাগাছা, গৌরীপুর, ঈশ্বরগঞ্জ, নান্দাইল, হালুয়াঘাট, ফুলপুর, ফুলবাড়ীয়া, ত্রিশাল, তারাকান্দা, গফরগাঁও ও ভালুকা উপজেলায় কয়েক লাখ খেজুর গাছ রয়েছে। এর মধ্যে শুধু ভালুকা উপজেলায় রয়েছে ৬০ হাজার গাছ। এসব গাছ থেকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রস সংগ্রহ করা হয়। কয়েকটি উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, এখনো বহু গাছ ঝাড়া হয়নি। শীত না আসার কারণে ও গাছির সংখ্যা কমে যাওয়ায় কাজটিতে বিলম্ব হচ্ছে, জানান অনেকে। স্থানীয় যুবকরা অন্য পেশায় যুক্ত হওয়ার কারণে নতুন গাছি তৈরি হচ্ছে না। পেশাটিও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এদিকে গাছের সংখ্যাও অনেক কমে গেছে বলে জানান স্থানীয়রা। ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে বিক্রি হচ্ছে খেজুর গাছ। ময়মনসিংহে এখন নতুন নতুন শিল্পাঞ্চল হওয়ায় জমি শিল্প মালিকদের দখলে চলে যাচ্ছে। কাটা পড়ছে খেজুর গাছ। ভালুকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল আজম খান বলেন, ভালুকার কাচিনা ও ডাকাতিয়া ইউনিয়নে বাণিজ্যিকভাবে খেজুর রস সংগ্রহ করা হয়। এ অঞ্চলের খেজুরচাষিদের প্রশিক্ষিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। যশোরের খাজুরা গ্রাম থেকে বিশেষজ্ঞ এনে কৃষকদের প্রশিক্ষিত করা হবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..