রোহিঙ্গারা আসছে তো আসছেই

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
কক্সবাজার সংবাদদাতা : মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে কক্সবাজারের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গারা নৌকা ও ভেলায় করে কিংবা সাঁতার দিয়ে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে। কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের (আরআরআরসি) হিসাব মতে, ২৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ছয় লাখ ২৬ হাজার। তবে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) ন্যাশনাল কমিউনিকেশন অফিসার শিরিন আকতার জানিয়েছেন, ২৫ আগস্টের পর থেকে সাত নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ছয় লাখ ১১ হাজার। তবে আরআরআরসি এবং আইওএম এর দেয়া সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের দাবি অনেক রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাইরে বাংলাদেশি জনগণের সঙ্গে মিশে বসবাস করছে। আইওএম বলছে, স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মিশে বসবাস করছে ৪৬ হাজারের মতো রোহিঙ্গা। কিন্তু স্থানীয়দের ধারণা এই সংখ্যাও লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিষ্ঠান এই সংখ্যা প্রকাশ করতে পারেনি। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ১২টি অস্থায়ী ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন কাজ এগিয়ে চলছে। এ পর্যন্ত পাঁচ লাখের কাছাকাছি রোহিঙ্গার নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক গত ৯ নভেম্বর পর্যন্ত ৩৬ হাজার তিনশ’ ৭৩ জন এতিম শিশু শনাক্ত করা হয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতা থেকে জীবন বাঁচাতে নাফ নদী অতিক্রম করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে এসব রোহিঙ্গা। এদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছে প্রশাসন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও আনসারের সহায়তায় নিয়মিত চারটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। এরইমধ্যে তিনশ’ ৬৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেয়া হয়েছে। এপিবিএনসহ প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য, দুইশ’ ২০ জন ব্যাটালিয়ান আনসার এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক কর্মকর্তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদবীর এক হাজার সাতশ’ জন সদস্য পর্যায়ক্রমে ত্রাণ বিতরণ কাজে সহযোগিতা করছেন। কক্সবাজার সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে ৩৬টি মেডিকেল টিম ক্যাম্পগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছে। এ পর্যন্ত চার লাখ ৩৭ হাজার আটশ’ ৪৪ জনকে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হয়েছে। রোহিঙ্গাদের জন্য এরইমধ্যে এক লাখ ৩৪ হাজার ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পাঁচ লাখ মানুষকে এসব ঘরে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। অগ্নিনির্বাপন কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে উখিয়ার রাবার বাগান এলাকায় একটি এবং টেকনাফের উনচিপ্রাং এলাকায় আরো একটি অস্থায়ী ফায়ার সার্ভিস ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রোহিঙ্গাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে উখিয়া, টেকনাফ ও রামুর ১১টি স্থানে পুলিশ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এরইমধ্যে কক্সবাজার থেকে উদ্ধারকৃত ৩২ হাজার আটশ’ ১৮ জন ও অন্যান্য জেলা হতে উদ্ধারকৃত সাতশ’ নয়জন রোহিঙ্গাকে ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়েছে। নৌকাডুবিসহ নৌ দুর্ঘটনায় একশ’ ৯০ জন রোহিঙ্গা নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। বান্দরবানে থাকা ১৭ হাজার রোহিঙ্গার মধ্যে সাত হাজার রোহিঙ্গাকে উখিয়ায় স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকি ১০ হাজার রোহিঙ্গার স্থানান্তর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি নতুন ক্যাম্প এলাকায় নয় কিলোমিটার লাইন সম্পন্ন করেছে। ৪০টি নিরাপত্তা বাতি বসানো হয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় ৯৯টি বাতি সংবলিত ৩৩টি সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। আরো ১৭টি প্যানেল স্থাপন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নতুন ক্যাম্প এলাকায় এলজিইডি কর্তৃক বাস্তবায়িত ২৯ কি.মি. সড়কের মধ্যে ১০টি সড়কের শতকরা ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..