রেলের জমি-জলাশয় দখলের উৎসব নরসিংদীতে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
নরসিংদী সংবাদদাতা : নরসিংদী রেলস্টেশন সংলগ্ন রেলের জমি ও জলাশয় দখলের উৎসব চলছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের আইন অমান্য করে জলাশয় ভরাট করে নির্মাণ করা হচ্ছে অবৈধ মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থাপনা। শুধু তাই নয়, ভরাট করা হচ্ছে রেলওয়ের ভূমি সংলগ্ন সরকারি খালও। বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্টেশনের আশেপাশের এলাকার চিহ্নিত ভূমিদস্যুরা রেলওয়ে এস্টেট বিভাগের এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে এই অবাধ দখলদারি চালাচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তর, নরসিংদী কার্যালয় থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে জলাশয় ভরাট করা হচ্ছে অথচ অধিদপ্তরের স্থানীয় কর্মকর্তারা কিছুই বলছে না। উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় সরকারি খাল ভরাট করা হচ্ছে অথচ তারা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। রেলওয়ের জায়গা দখলে নিয়ে জায়গার রকম পরিবর্তন করা হচ্ছে। কিন্তু স্থানীয় রেলপুলিশ, স্টেশন কর্তৃপক্ষ কিংবা রেলওয়ের এস্টেট বিভাগের কর্মকর্তারা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। উপরন্তু এস্টেট বিভাগের জনৈক কর্মকর্তা নরসিংদী গিয়ে অবৈধ দখলদারদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে গেছে বলে এলাকায় ব্যাপক রটনা হয়েছে। আর তার ফিরে যাওয়ার পরই জলাশয় দখল ও বালু ভরাটের কাজ জোরেশোরে শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় জোনের নরসিংদী অংশে মোট ১০টি রেলস্টেশন রয়েছে। ঘোড়াশাল থেকে শ্রীনিধি পর্যন্ত ১০টি রেলস্টেশনের আশেপাশে রয়েছে বহুসংখ্যক রেকর্ডভুক্ত জলাভূমি, নিম্নভূমি এবং ভিটে ভূমি। এসব ভূমির বেশিরভাগই রয়েছে অবৈধ দখলে। রেলওয়ের আশেপাশে চিহ্নিত ভূমি দস্যুরা রাজনৈতিক আশ্রয় প্রশ্রয়ে থেকে রেলওয়ের এস্টেট বিভাগের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অবৈধ আর্থিক সম্পর্ক স্থাপন করে এসব ভূমি দখলে নিয়েছে। বর্তমানে স্টেশনের পশ্চিম পাশে হোম সিগনালের অভ্যন্তরীণ রেললাইন সংলগ্ন জলাভূমি দখলে নিয়ে নির্মাণ করছে অবৈধ মার্কেট। তারা আড়িয়ালখাঁ নদী থেকে পাইপ ফিট করে ড্রেজার দিয়ে বালু এনে এই জলাশয় ভরাট করে রেলওয়ের ভূমি একরকম পরিবর্তন করে ফেলেছে। এরপর এখন কর্মচারী লাগিয়ে রেললাইনের মাত্র ৫ ফুট দূরে নির্মাণ করছে বিশাল মার্কেট।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..