৭০ বছর পর তারা জমির মালিক

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : দীর্ঘ ৭০বছর পর ভূমি মালিকানার স্বত্বলিপি হাতে পেয়েছেন খুশিতে আত্নহারা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়াবাসী। এখন থেকে দাসিয়ারছড়ার মানুষ জমি কেনাবেচার জন্য রেজিস্ট্রি সম্পাদন, মালিকানা হস্তান্তর, ব্যাংক ঋণগ্রহণসহ যাবতীয় কাজ করতে পারবেন। এর আগে দাসিয়ারছড়ায় জমি কেনাবেচা হত মুখে মুখে বা সাদা কাগজে স্বাক্ষর করে। ফলে জমি সংক্রান্ত বিরোধ লেগেই থাকতো এ অঞ্চলে। ছিটমহল বাংলাদেশ হওয়ার পর সরকারিভাবে প্রাক-জরিপ শেষে জমির প্রকৃত মালিক সনাক্ত করা জন্য ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে মাঠ রেকর্ড শুরু হয়েছিল। এরই ফলশ্রুতিতে প্রায় দুই বছর পর ভূমি মালিকানার স্বত্বলিপি স্বরূপ খতিয়ান, প্রিন্ট পর্চা ও নকশা হাতে পেয়ে নারী-পুরুষ সবার মাঝে বাধ ভাঙ্গা আনন্দ বিরাজ করছে। দাসিয়ারছড়ার গোলাম মোস্তফা খান, আলতাফ হোসেন, জুলহাস মণ্ডল, কালী কান্ত রায় ও সুনতী রানী সেনের হাতে ভূমি মালিকানা স্বত্বলিপি ও নকসা তুলে দেবার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রংপুর জোন সেটেলমেন্ট অফিসার (উপ-সচিব) মোহা. আব্দুর রফিক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবেন্দ্র নাথ ঊরাঁও, শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ রাশেদুজ্জামান বাবু, ফুলবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান হারুন উর রশিদ, ভাঙ্গামোড় ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বাবু, সাবেক ছিটমহল আন্দোলনের নেতা গোলাম মোস্তফা, মঈনুল হক, আলতাফ হোসেন প্রমুখ। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জেলার মোট ১২টি ছিটমহলের মধ্যে কুড়িগ্রাম সদরে দাকিনীরকুটি জেএল নং-৫০-এ ১৪ দশমিক ২৭ একর খাস খতিয়ান-১ এর অন্তর্ভূক্ত করা হয়। সবচেয়ে বড় ছিটমহল দাশিয়ারছড়ার আয়তন এক হাজার ৬৪৩ দশমিক ৪৪ একর। এর মধ্যে খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ১২৭ দশমিক ৭৯ একর জমি। ১২টি হাল সিটে খতিয়ান সংখ্যা তিন হাজার ৩৭৬টি। যার দাগ নম্বর সাত হাজার ৩৫৮টি এবং ভরুঙ্গামারী উপজেলাধীন ১০টি ছিটমহলের আয়তন ২২২ দশমিক ৯৪ একর। হাল সিট ১০টিতে মোট খতিয়ান সংখ্যা ৪৯৩টি। যার দাগ নং ৯৯৫টি। স্বত্বলিপি হাতে পেয়ে দাসিয়ারছড়ার বাসিন্দা কালীকান্ত রায়, জুলহাস মণ্ডল উচ্ছাস প্রকাশ করে বলেন, এতদিন ভোগদখল করলেও ৭০ বছর পর আজ কাগজে-কলমে আমরা জমির পূর্ণাঙ্গ মালিক হলাম। এখন থেকে জমি রেজিস্ট্রি করতে আর কোনো সমস্যা হবে না। এখন আমরা পূর্ণাঙ্গভাবে বাংলাদেশি হতে পারলাম। জমির খতিয়ান আর নকশা পাওয়ায় ছিটবাসীরা আইনের দারস্ত হতে আর বাধা থাকল না। সুনতী রানী সেন বলেন, এই কাগজ পাওয়ায় অনেক উপকার হইল। এলা আর জোর করি কেউ হামার জমি দখল করবার পাবে না। কেনাবেচা করলেও সঠিক দাম আর সঠিক পরিমাণের জমি বিক্রি করা যাবে। কাগজ না থাকার কারণে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছিল হামার ছিটবাসীক। রংপুর জোন সেটেলমেন্ট অফিসার (উপ-সচিব) মোহা. আব্দুর রফিক জানান, সরকারের বিশেষ নির্দেশে প্রায় দুই বছরের মধ্যে ভূমি জরিপ কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে। আগামী একমাস পর্যন্ত মালিকানা স্বত্বলিপি ও নকশা প্রদান অব্যহত থাকবে। এরপর স্বত্বলিপি ও নকশার প্রকাশনা শেষ করে ভূমি মন্ত্রণালয়ের নিকট গেজেট করার প্রস্তাবনা পাঠানো হবে। আগামী ৩-৪ মাসের মধ্যে গেজেটের মাধ্যমে খতিয়ান ও নকশার রেকর্ডসমূহ সব বিভাগে পাঠানো হবে। যেখান থেকে জমির মালিকরা তাদের নকল তুলতে পারবেন। জমির কাগজপত্র না থাকার কারণে যেসব জমি সংক্রান্ত জটিলতা ছিল সেই সমস্যার সমাধান হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..