অক্টোবর বিপ্লব হাজার বছরের শোষণের অবসান ঘটিয়েছিল

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

মহান অক্টোবর বিপ্লবের শতবর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক উৎসবে শিল্পীদের নৃত্য পরিবেশনা [ ছবি: রতন দাস ]
একতা প্রতিবেদক : একশ বছর আগে লেনিনের নেতৃত্বে রাশিয়ায় ঘটে যাওয়া শ্রমিক শ্রেণির বিপ্লব ছিল মানব ইতিহাসের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে হাজার বছরের শ্রেণি বিভক্ত শোষণভিত্তিক সমাজের অবসান ঘটিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় সমাজতন্ত্র। এই বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে মানুষ মুক্তির নিশানা খুঁজে পেয়েছিল। গত ৪ নভেম্বর মহান অক্টোবর বিপ্লবের শতবর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষ্যে ৩৩ টি সাংস্কৃতিক সংগঠনের সমন্বয়ে ‘অক্টোবর বিপ্লব শতবর্ষ উদ্যাপন সাংস্কৃতিক পর্ষদ’ এর আয়োজনে তিন দিনব্যাপী উৎসবের প্রথম দিনের উদ্বোধনী আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। এদিন পর্ষদের আহ্বায়ক হায়দার আনোয়ার খান জুনোর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, অক্টোবর বিপ্লব শতবর্ষ উদ্যাপন জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ভাষা সংগ্রামী আহমদ রফিক ও অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। আলোচনা সভায় আহমেদ রফিক বলেন, সোভিয়েত বিপ্লব শুধুমাত্র উৎপাদন সম্পর্কের বা মালিকানার আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে মানুষের দ্বারা মানুষের শোষণের অবসান ঘটিয়েছিল তা-ই নয়; শিল্প, সাহিত্য, শিক্ষা, বিজ্ঞান, চিকিৎসা, ক্রীড়া সকল ক্ষেত্রেই অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করেছিল। এক অতি উন্নত মানবিক সাংস্কৃতিক মানসম্মত সমাজ গঠন করেছিল এই বিপ্লব। অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, পুঁজিবাদী গণতন্ত্র নারী পুরুষের সমান অধিকারের কথা বললেও পৃথিবীতে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নই দিয়েছিল নারীদের প্রথম ভোটাধিকার। যে অধিকার তখন ইউরোপ আমেরিকাতেও ছিল না। সেখানে নারী পুরুষের সত্যিকার সমতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল শুধু আইনে নয়, বাস্তব জীবনেও। এক অতি উন্নত মানবিক সাংস্কৃতিক মানসম্মত সমাজ গঠন করেছিল এই বিপ্লব। এর আগে বিকেল চারটায় উৎসবের শুরুতেই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সড়কদ্বীপে গিয়ে শেষ হয়। ৫ নভেম্বর উৎসবের দ্বিতীয় দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্ত্বরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আলোচনা করেন চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত প্রধান ইন্দ্রানী ভট্টাচার্য সোমা ও গণসংস্কৃতি কেন্দ্রের সভাপতি জাকির হোসেন। এরপর দ্বিতীয় পর্বে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এতে নাচ পরিবেশন করে কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের শিশুরা। দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে গণসংস্কৃতি কেন্দ্র , সাংস্কৃতিক ইউনিয়ন এবং চারণ-এর শিল্পীরা। এছাড়া চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের বাচিক শিল্পীরা পরিবেশন করে আবৃত্তি। উৎসবের শেষ দিন ৬ নভেম্বর বিকেলে একই মঞ্চে আলোচনা করেন বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি অধ্যাপক ড. সফিউদ্দিন আহমদ, বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সভাপতি এ এস এম কামালুদ্দিন এবং চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সভাপতি জাহিদুল হক মিলু। এরপর দ্বিতীয় পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করে সমগীত ও গায়েন। আবৃত্তি পরিবেশন করেন খন্দকার সামসুজ্জোহা, মনিরুল ইসলাম এবং কবি মতিন বৈরাগী। এছাড়া নাটক পরিবেশন করে ‘এই বাংলা’।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..