দেহঘড়ির আণবিক সূত্র আবিষ্কারে চিকিৎসায় নোবেল

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিজ্ঞান ডেস্ক : শরীর বিদ্যা বা চিকিৎসা শাস্ত্রে এবারের নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তিন বিজ্ঞানী। গত ২ অক্টোবর স্টকহোমে নোবেল কমিটি বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন। তাঁরা হলেন, বিজ্ঞানী জেফ্রি সি হল, মাইকেল রসবাশ ও মাইকেল ডব্লিউ ইয়ং। মানুষের দেহঘড়ির স্পন্দন বা সারকাডিয়ান রিদম নিয়ন্ত্রণকারী মলিকিউলার সিস্টেম আবিষ্কারের জন্য এই ত্রয়ী বিজ্ঞানীকে এ বছরের পুরস্কারটি দেওয়া হয়েছে। এই সারকাডিয়ান রিদম বা স্পন্দনই হচ্ছে মানবদেহের সুস্থতার চাবিকাঠি। নোবেল কমিটি জানিয়েছে, তারা মানবদেহের জৈবিক ঘড়ি নিয়ন্ত্রণে আণবিক সূত্র আবিষ্কারের স্বীকৃতি স্বরূপ এবারের নোবেল পেয়েছেন। জৈবিক ঘড়ি আমাদের নিদ্রাভ্যাস, খাবার দাবার, হরমোন নিঃসরণ ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। সুইডেনের ক্যারোলিনিস্কা ইনস্টিটিউট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পুরস্কারের অর্থ হিসেবে বিজয়ীরা ১১ লাখ ডলার (৯ মিলিয়ন ক্রোনা) পাবেন। আগামী ১০ ডিসেম্বর সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। বডি ক্লক সংক্রান্ত এই গবেষণাকে শারীরবিদ্যার ভাষায় ক্রোনোবায়োলজি বলা হয়। যে তিন বিজ্ঞানী এ বার শারীরবিদ্যার নোবেল পাচ্ছেন, পৃথিবীতে ক্রোনোবায়োলজি গবেষণার পথপ্রদর্শক তাঁরাই। দিন ফুরিয়ে রাত নামলে বা রাত কেটে গিয়ে সকাল হলে প্রাণীর দেহ যে প্রক্রিয়ায় পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়, সেই প্রক্রিয়ায় একটি বিশেষ জিনের ভূমিকা রয়েছে। হল, রসব্যাশ এবং ইয়ং-এর গবেষণাতেই উঠে এসেছে এই সত্য। আকাশপথে দীর্ঘ দূরত্ব পাড়ি দিয়ে পৃথিবীর এক অংশ থেকে অনেক দূরের কোনো অংশে পৌঁছে গেলে কেন জেট ল্যাগ অনুভূত হয়, তা অনেক স্পষ্টভাবে জানা গিয়েছে এই তিন মার্কিন বিজ্ঞানীর গবেষণা থেকে। শুধু তাই নয়, চিকিৎসা বিজ্ঞানকেও নতুন দিশা দেখাচ্ছেন এই তিন জন। বডি ক্লকের গতিবিধি, সেই গতিবিধির প্রক্রিয়া এবং কারণ এতটাই স্পষ্ট করে ব্যাখ্যা করেছেন এই তিন বিজ্ঞানী যে, চিকিৎসকরা এখন বডি ক্লক বিশ্লেষণ করে রোগীকে ওষুধ খাওয়ানোর উপযুক্ত সময় খুঁজে বার করার কথা ভাবতে শুরু করেছেন। এই সব যুগান্তকারী গবেষণা সম্ভব হয়েছে জেফ্রি হল, মাইকেল রসব্যাশ এবং মাইকেল ইয়ং-এর মৌলিক গবেষণার কারণেই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এই বিশাল অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই নোবেল দেওয়া হল তিন বিজ্ঞানীকে। নোবেল কমিটির ভাষ্যে, তিন বিজ্ঞানীর ‘শরীরবৃত্তীয় মৌলিক মেকানিজমের এই আবিষ্কার’ চিকিৎসা শাস্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, কিভাবে আমাদের কোষগুলো সময় মেনে চলে। মানবদেহের ভেতরের ঘড়িকে বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি নিয়ে আসার জন্য এ বছর তাদের চিকিৎসায় নোবেল দেওয়া হলো। মাইকেল রসবাশকে যখন প্রথম ফোনে খবরটি জানানো হয়, তখন তিনি খানিকটা অপ্রস্তুত হয়ে বলেন, ‘তুমি কি আমার সঙ্গে মজা করছ!’ গতবছর চিকিৎসায় নোবেল পেয়েছিলেন জাপানের বিজ্ঞানী ইয়োশিনোরি ওশুমি।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..