পরাজয় মানে পিছু হটা নয়

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
শান্তনু দে : ‘আমি জানি না আবার যখন জোয়ার উঠবে, তা দেখার জন্যে আমি আর বেঁচে থাকব কিনা।’আফসোস করে একদিন আদরের বড়দি আনার কাছে এই সংশয় প্রকাশ করেছিলেন ভ্লাদিমির লেনিন। তিনি তখন প্যারিসে। বিপ্লবী আনাও এসেছেন সেখানে। ১৯১১’র বসন্ত, তখনও কি লেনিন জানতেন আর মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই উঠবে তুমুল ঝড়! এক কঠিন সঙ্কটের সময়। ১৯০৫সালে বিপ্লবের পরবর্তী বছরগুলিতে বলশেভিক পার্টি তখন বস্তুত খুবই দুর্বল, প্রবল আক্রমণের মুখে। ১৯০৬ সালে মে মাসের মাঝামাঝি নাগাদ মস্কো ডিস্ট্রিক্টে পার্টি সদস্যের সংখ্যা যেখানে ছিল ৫,৩২০; ১৯০৮সালে মে মাসের মাঝামাঝি নাগাদ তা কমে দাঁড়ায় ২০৮-এ। আর বছর শেষে আরও কমে দেড়শ’তে। ১৯১০ সালে জেলা সম্পাদক গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ধরা পড়লে পার্টি প্রায় উঠে যাওয়ার মতো উপক্রম হয়। ১৯১১ সালে লেনিন লিখছেন, ‘এই মুহূর্তে পার্টির প্রকৃত অবস্থা হলো, প্রায় সর্বত্রই ইনফরমাল। পার্টি কর্মীদের খুবই ছোট ও অতি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী সভা করতে পারছে, তাও অনিয়মিত ... তাদের একে-অপরের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই। কালেভদ্রে তারা দেখতে পান পার্টির পত্র-পত্রিকা।’ পরে জিনোভিয়েভ লিখেছেন, ‘খুবই খারাপ সেই সময়ে গোটা পার্টিটাই একরকম গুটিয়ে যাওয়ার অবস্থা হয়েছিল।’ সেই ক্ষত সারতে লেগেছিল অনেক সময়। তবে উন্নতির লক্ষণ দেখা যায় ১৯১১-১২ তে। যদিও বলশেভিকরা তখনও প্রকাশ্যে সংগঠন করতে পারছেন না। ১৯০৮ সালে ধর্মঘটিদের সংখ্যা ছিল সাকুল্যে ৬০ হাজার। ১৯১০ সালে আরও কম। ৪৬,৬২৩। তবে ১৯১১ তে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৫ হাজার ১১০ জনে। ১৯১২ সালের জানুয়ারিতে প্রাগ শহরে ষষ্ঠ নিখিল-রুশ পার্টি কনফারেন্সের অধিবেশন। ওই কনফারেন্স থেকেই লেনিন, স্তালিন, অর্জনিকিদ্জসহ আরও কয়েকজনকে নিয়ে নির্বাচিত হয় বলশেভিক কেন্দ্রীয় কমিটি। স্তালিন তখন নির্বাসনে। অনুপস্থিত থেকেও নির্বাচিত হন কেন্দ্রীয় কমিটিতে। পরে প্রাগ কনফারেন্সের গুরুত্ব সম্পর্কে স্তালিন বলেন: ‘আমাদের পার্টির ইতিহাসে এই কনফারেন্সের গুরুত্ব খুবই বেশি, কারণ এখানে বলশেভিক ও মেনশেভিকদের মধ্যে সীমারেখা টানা হয়। এবং সারা দেশে বলশেভিক সংগঠনগুলিকে একত্রে মিলিয়ে গঠিত হয় ঐক্যবদ্ধ বলশেভিক পার্টি।’ বলশেভিকদের ওই সম্মেলনে বলা হয়, ‘১৯১০-’১১সালের শ্রমিকদের ধর্মঘট Í প্রতিবাদ বিক্ষোভ এবং সর্বহারাদের সভার সূচনা, শহরের বুর্জোয়া ডেমোক্রেটদের (ছাত্রদের ধর্মঘট) মধ্যে আন্দোলনের শুরু। আর এই সবই জনসাধারণের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বিপ্লবী আবেগের ইঙ্গিত।’ আসলে ১৯১০ সালের শেষের দিকে শুরু। ১৯১১ তে শ্রমিক আন্দোলনের তীব্রতা ক্রমেই বাড়তে থাকে। এবারে যে শ্রমিকরা লড়াইয়ে, তারা উনিশশো পাঁচের আগের শ্রমিক নন। পুরো একটি বিপ্লবের উত্থান-পতনের অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা এসেছেন। কারা তাদের শত্রু, কারা মিত্র তা ভালো করে চিনেছেন। পথের বাধা সরিয়ে দেওয়ার মতো ক্ষমতা অর্জন করেছেন। ৪এপ্রিল, ১৯১২। তাইগা জঙ্গলে সাইবেরিয়া রেলওয়ে থেকে প্রায় ২০০০ কিলোমিটার গভীরে লেনা সোনার খনিতে ধর্মঘটের সময় জার-সরকারের এক উচ্চপদস্থ পুলিস কর্তার নির্দেশে ৫০০-র বেশি শ্রমিককে গুলি করে হত্যা ও জখম করা হয়। ব্রিটিশ পুঁজিপতি ও তাদের রুশ অংশীদারেরা শ্রমিকদের নির্লজ্জভাবে শোষণ করে এই লেনা সোনার খনি থেকে বিপুল অঙ্কের মুনাফা করত। বছরে ৭০লক্ষ রুবলের চেয়েও বেশি। অন্যদিকে শ্রমিকদের দিত নামমাত্র মজুরি, পঁচা খাবার। প্রতিবাদে ছ’হাজার শ্রমিক ধর্মঘট শুরু করেন। লেনার ধর্মঘটী শ্রমিকদের উপর গুলি চালানোর প্রতিবাদে সারা দেশে শ্রমিকরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। ডুমাতে সোশাল ডেমোক্রেটিক দলের প্রশ্নের জবাবে জারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাকারভ চরম ঔদ্ধত্যে বলেন, ‘যেমন ঘটেছে, তেমনই আবার ঘটবে।’ লেনাতে গুলি চালানোর জবাবে সেন্ট পিটার্সবুর্গ, মস্কো এবং অন্যান্য শিল্পকেন্দ্র ও অঞ্চলে হয় ধর্মঘট, মিছিল, মিটিং, বিক্ষোভ সভা। রুশ দেশের সমস্ত বড় শহরের শ্রমিকরা ধর্মঘট করে রাস্তায় নেমে আসেন। প্রতিবাদ ধর্মঘটে শামিল হন ৩ লক্ষের বেশি শ্রমিক। মে দিনের ধর্মঘটে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ লক্ষে। এমনি সর্বাত্মক ধর্মঘট হয়েছিল ১৯০৫ সালে। আবার ১৯১২সালে। মাত্র কয়েকমাসের মধ্যেই লেনিন দেখলেন, ঝড় উঠেছে। জনগণ নিজেই আন্দোলনে নেমেছেন। তিনি দিব্যি বেঁচে আছেন। তাঁর সমগ্র অস্তিত্ব দিয়ে ঝড় উপলব্ধি করছেন। এই সময়ে সোস্যাল ডেমোক্র্যাট পত্রিকায় লেখা একটি প্রবন্ধে লেনিন বলেন, ‘ঝড় ওঠে যখন জনগণ নিজেরাই আন্দোলনে নামে। প্রলেতারিয়েত হচ্ছে একমাত্র যথার্থ অবিচলিত বিপ্লবী শ্রেণি। এই প্রথম প্রলেতারিয়েত লক্ষ লক্ষ কৃষককে জাগিয়ে তুলছে প্রকাশ্য বৈপ্লবিক সংগ্রামের পক্ষে। এই ঝড় প্রথম উঠেছিল ১৯০৫ সালে। আর এই দ্বিতীয়বার আমাদের একেবারে চোখের সামনেই তা ফেটে পড়ছে।’ সেন্ট পিটার্সবুর্গের সংবাদপত্র ‘জভেজ্্দাতে’ (তারা) স্তালিন লেখেন: ‘লেনাতে গুলি চালনার ফলে স্তব্ধতার বরফ ভেঙে গিয়েছে। আবার বইতে শুরু করেছে গণআন্দোলনের গ্রোতধারা। বরফ ভেঙে গিয়েছে! ... বর্তমান শাসনে যা কিছু মন্দ ও ক্ষতিকর, বহুদিন ধরে রুশ দেশ যতকিছু দুর্গতি, যতকিছু দুঃখ-কষ্ট সয়ে আসছে, তা একটি মাত্র ঘটনার মধ্যে, লেনার হত্যাকান্ডের মধ্যে মূর্ত হয়ে উঠেছে। এজন্যই লেনার গুলি চালনা, ধর্মঘট ও মিছিলের সঙ্কেত হিসেবে কাজ করল।’ জ্?ভেজ্?দা লেখে, ‘আমরা সজীব আছি, অদম্য শক্তিতে ভরপুর, আগুন আমাদের লালরক্তকে উজ্জ্বল করে তুলেছে।’ এই আগুন ঝড়ের মুখেই প্রকাশিত হয় বলশেভিক দৈনিক প্রাভদা। একেবারেই ভিন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতি। সম্পূর্ণ পৃথক আর্থিক সামজিক প্রেক্ষাপট। কিন্তু ১৯০৫-এ, প্রথম রুশ বিপ্লব ব্যর্থ হওয়ার পর ‘স্টলিপিন প্রতিক্রিয়া’র অন্ধকারের দিনগুলিতে কী অসীম সাহস আর ধৈর্য্য নিয়ে বলশেভিকরা পরবর্তীকালে সফল বিপ্লব সংগঠিত করার শিক্ষা অর্জন করেছিলেন, সেই অভিজ্ঞতা আমরা নিতে পারি। ১৯০৫ সালে বিপ্লব যখন তুঙ্গে, সেই সময়ের তুলনায় ‘স্টলিপিন প্রতিক্রিয়া’র যুগে পার্টি সংগঠনের কাজ করা ছিল অনেক শক্ত। দ্বিতীয় ডুমা ভাঙার আগে জার সরকার সর্বহারা রাজনৈতিক সংগঠনগুলিকে ভাঙতে তৎপর হয়। কারগার, দুর্গ, নির্বাসন স্থানগুলি বিপ্লবীতে ভর্তি হয়ে যায়। চলে বিপ্লবীদের খুন, অত্যাচার। দেশের সর্বত্র ফাঁসিকাঠ খাড়া করেন স্টলিপিন। একে বলা হতো ‘স্টলিপিন গিলোটিন’। পার্টির সদস্য সংখ্যা দারুনভাবে হ্রাস পায়। পার্টির অনেক পেটি বুর্জোয়া সহযাত্রী, বিশেষত বুদ্ধিজীবীরা, জার-সরকারের অত্যাচারের ভয়ে পার্টি থেকে সরে পড়েন। লেনিন নির্দেশ দেন এসময় বিপ্লবী পার্টিগুলির কর্তব্য হলো নিজেদের জ্ঞানকে নিখুঁত করে তোলা। ‘বিপ্লবের অভ্যূত্থানের যুগে তারা অগ্রসর হওয়ার পদ্ধতি শিখেছিল; প্রতিক্রিয়ার যুগে তাদের শিখতে হবে কেমন করে সুশৃঙ্খলভাবে পিছু হঁটা যায়, কীভাবে আত্মগোপন করে কাজ চালাতে হয়, কেমন করে বে-আইনী পার্টিকে বাঁচাতে ও শক্তিশালী করতে হয়, কেমন করে আইনের সুযোগ নিতে হয়, জনগণের সঙ্গে সম্পর্ককে দৃঢ় করবার জন্য সমস্ত আইনী প্রতিষ্ঠান এবং বিশেষ করে গণসংগঠনগুলিকে ব্যবহার করতে হয়।’ এবং বলশেভিকরা যে এই কাজ সাফল্যের সঙ্গে করতে পেরেছিলেন তা জানে ইতিহাস। জানে দুনিয়া কাঁপানো দশদিন।লেনিন লিখছেন, ‘বিপ্লবের আগে সুদীর্ঘ বছরগুলিতে কেমন করে কাজ করতে হয় আমরা জানতাম। লোকে যে বলে আমরা পাথরের মতো মজবুত, তা অমূলক নয়। সোশাল ডেমোক্রেটরা এমন এক সর্বহারা পার্টি গড়েছে, যা প্রথমে সশস্ত্র অভিযানের পরাজয়ে হতাশ হয়ে পড়ে না, কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয় না ও হটকারী তৎপরতায় গা ভাসিয়ে দেয় না।’ স্তালিনের কথায়, ‘এই হলো সেই যুগ, যখন আমাদের পার্টি জারতন্ত্রের বিরুদ্ধে খোলাখুলি বিপ্লবী সংগ্রাম হতে পরোক্ষ পদ্ধতিতে সংগ্রাম চালনার দিকে মোড় ফেরালো, পরস্পর সাহায্য সমিতিগুলি হতে আরম্ভ করে ডুমা পর্যন্ত প্রত্যেকটি আইনগত সুযোগের সদ্ব্যবহারের দিকে চলল। ১৯০৫ সালের বিপ্লবে আমাদের পরাজয়ের পর আমাদের পশ্চাদপসরনের যুগ হল এই। শক্তি সংগ্রহ করে আবার জারতন্ত্রের বিরুদ্ধে খোলাখুলি বিপ্লবী সংগ্রাম আরম্ভ করার জন্য লড়বার নতুন কৌশল আয়ত্ত করা এই মোড় ফেরানোর ফলে অবশ্য কর্তব্য হয়ে পড়ল।’ব্যর্থতা মানে ইতিহাসের অবসান না। পরাজয় মানে পিছু হটা না। ১৯০৫, রুশদেশে ব্যর্থ বিপ্লবেই ইতিহাস শেষ হয়ে যায়নি। ১২ বছর বাদে তাই নভেম্বর বিপ্লব। ১৯৩১, চীন। বড় ধাক্কা। জাপানিদের মাঞ্চুরিয়া দখল। মাওয়ের নিজের কথায় ‘শহরাঞ্চলের ১০০শতাংশ, গ্রামের ৯০শতাংশ শক্তি ক্ষয়।’ কিন্তু ইতিহাস ওখানেই থেমে থাকেনি। ১৯৩৫, নতুন শক্তি অর্জন। তারপর কমিউনিস্টদের অপ্রতিরোধ্য গতি। শেষে চীনের আকাশে লাল তারা। ২৬ জুলাই, ১৯৫৩। ব্যর্থ মনকাডা সেনা ছাউনি অভিযান। সেখানেই শেষ নয়। বরং শুরু। সেই সংগ্রামেরই চূড়ান্ত পরিণতি ১৯৫৯। কিউবার সফল বিপ্লব। প্যারি কমিউন টিকে ছিল ৭২দিন। তারপর সোভিয়েত ইউনিয়ন। ৭৩ বছর। আবার সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন মানেই সব শেষ নয়। নতুন করে ফের শুরু। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপর্যয়ের পরে অনেকেই মনে করেছিলেন এবারে কমিউনিস্ট পার্টি চলে যাবে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে। কিন্তু, তা হয়নি। একেবারে প্রথমে, নয়ের দশকে আদিম হিংস্র অর্থনৈতিক রূপান্তরের সময় তরুণ, মধ্যবয়সীদের দেখা যায়নি রাস্তায়। কেবল লক্ষ লক্ষ প্রবীণ রুশ নাগরিক ছিলেন সোভিয়েতের পক্ষে, পুরনো পার্টির লাল ঝাণ্ডার মিছিলে। ১৯৯৯, পার্টির সংসদীয় গোষ্ঠী রাষ্ট্রপতি বরিস ইয়েলিৎসিনের বিরুদ্ধে ভর্ৎসনা প্রস্তাব আনলে নিউ ইয়র্ক টাইমস থেকে ওয়াশিংটন পোস্ট, ব্রিটিশ গার্ডিয়ান থেকে সি এন এন- এই প্রথম সবার নজরে আসে কমিউনিস্ট পার্টির অস্তিত্ব। তখন অনেকে ভেবেছিলেন পেনশনারদের স্বাভবিক মৃত্যুতে একদিন অচিরেই হারিয়ে যাবে কমিউনিস্ট পার্টি। যায়নি। পেনশনের সঙ্গেই সরকারি কর্মীদের বেতন নিয়মিত বাড়িয়ে সেই ক্ষোভ পুতিন কিছুটা প্রশমিত করার পাশাপাশি নিজেকে একসময়ের সুপার পাওয়ারের শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে উপস্থিত করলেও, কমিউনিস্ট পার্টি বেড়েছে, বেড়ে চলেছে।এই মুহূর্তে রাশিয়ায় প্রধান বিরোধী দল রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টি (সি পি আর এফ)। ৪৫০-সদস্যের রুশ দুমায় আসন সংখ্যা শেষ নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি কমলেও, এখনও রয়েছে কমিউনিস্ট পার্টির ৪২ জন প্রতিনিধি। ফেডারেশন কাউন্সিলে ২ জন। দুমার ডেপুটি স্পিকার কমিউনিস্ট পার্টির ভাইস চেয়ারম্যন, মস্কো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইভান মেলনিকভ। দুমায় পাঁচটি মুখ্য কমিটির প্রধান কমিউনিস্ট পার্টির পাঁচ প্রতিনিধি। ২০১৬-র সেপ্টেম্বরে সংসদীয় নির্বাচনের আগে আসন সংখ্যা ছিল ৯২। ২০১১’র নির্বাচনে কমিউনিস্ট পার্টির প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল ১৯.১৯ শতাংশ। এবারে ৫.৮৫ শতাংশ কমে হয়েছে ১৩.৩৪ শতাংশ। গতবার কমিউনিস্ট পার্টি পেয়েছিল ১ কোটি ২৬ লক্ষ ভোট। এবারে ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হয়েছে স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার। আগাম নির্ধারিত ফলকে নিশ্চিত করতে হয়েছে নির্লজ্জ জালিয়াতি। তবে, যেখানে মানুষ কিছুটা ভোট দিতে পেরেছেন, সেখানে জিতেছে কমিউনিস্ট পার্টি। ব্যালটের হিসেবে সমর্থন কমলেও, পেয়েছে ৭০,১৯,৭৫২ ভোট। শুধু তাই নয়, ৮১-টি প্রাদেশিক আইনসভায় কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধির সংখ্যা ৩৪২। স্থানীয় সরকারে পার্টির প্রতিনিধি সংখ্যা ১৫.৫ শতাংশ বেড়ে এখন ৯,৩৬০। প্রায় ২০০-টি স্থানীয় সরকারের প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন সরাসরি পার্টির সমর্থনে।কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য সংখ্যা এখন ১,৬২,১৭৩। রয়েছে ৮১-টি প্রাদেশিক কমিটিও। এই সেদিনের ঘটনা। রাশিয়ার সর্বকালীন সেরা নেতৃত্বের’ বাছাইয়ে তিন নম্বরে স্তালিন।প্রথম ত্রয়োদশ শতকের রুশ যুবরাজ আলেকজান্ডার নেভেস্কি। ব্যবধান মাত্র সাড়ে ৫ হাজার ভোট। আসলে স্তালিন এক নম্বরেই থাকতেন। যদি না ক্রেমলিন পাল্টা প্রচারে নামতো। যদি না ছ’মাস ধরে দেশজুড়ে চলা এই ভোটের একেবারে শেষ মুহূর্তে অন্য কাউকে ভোট দেওয়ার জন্য সংগঠকরা আবেদন না করতেন। ছ’মাস ধরে ৫০ লক্ষের বেশি মানুষ টেলিফোনে, ইন্টারনেটে ভোট দেন। ছ’ নম্বরে লেনিন। প্রথম দশে নেই ক্রুশ্চেভ কিংবা ইয়েলিৎসিন। জুন, ২০১৭। এবারে সরাসরি এক নম্বরে। লেভেদা সেন্টারের জনমত সমীক্ষার রায়। ‘বিশ্বের সর্বকালীন সেরা ব্যক্তিত্ব’ বাছাইয়ে একেবারে শীর্ষে স্তালিন। চার নম্বরে লেনিন। ছ’নম্বরে ইউরি গ্যাগরিন। সাতে তলস্তয়। তার আগে এপ্রিল। বিপ্লবের ১০০ বছর উপলক্ষে এক জনমত সমীক্ষায় অর্ধেকের বেশি, ৫৬ শতাংশ রুশ বলেন, ইতিহাসে লেনিন পালন করেছেন ‘ইতিবাচক ভূমিকা’। যেখানে ২০০৬ সালে এই হার ছিল ৪০ শতাংশ। মানুষ ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। এবং শেষ পর্যন্ত মানুষ ঘুরে দাঁড়ায়। হাজারো জয়-পরাজয়, চড়াই-উৎরাই ভেঙে শেষ লড়াইয়ে চূড়ান্ত জয়। এটাই ইতিহাসের শিক্ষা। লেখক : সাংবাদিক, গণশক্তি

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..