জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বৈঠক

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা বিদেশ ডেস্ক : রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে আশ্রয়প্রার্থীদের ফিরিয়ে নিতে একমত হয়েছে সবাই। রোহিঙ্গা প্রশ্নে নিরাপত্তা পরিষদ একটি প্রস্তাব গ্রহণ করবে, দুই সপ্তাহ ধরে এমন জল্পনাকল্পনা ছিল। ৬ নভেম্বর এক বৈঠকে প্রস্তাব গ্রহণের পরিবর্তে পরিষদের সভাপতি ইতালির স্থায়ী প্রতিনিধির দেওয়া বিবৃতি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়েছে। কোনো প্রস্তাব গ্রহণের পথ বন্ধ না হলেও নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমার নিয়ে আপাতত এটাই সিদ্ধান্ত। এই বিবৃতিতে নিরাপত্তা পরিষদ রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে হামলার জন্য আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) নিন্দার পাশাপাশি সেখানে ব্যাপক সন্ত্রাসের ঘটনার ফলে ৬ লাখ ৭ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা নাগরিক গৃহচ্যুত হওয়ায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে দায়ী করে কঠোর নিন্দা জানানো হয়েছে। মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায়ও পরিষদ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। রাখাইন রাজ্যে এরপর যাতে আর অতিরিক্ত সামরিক শক্তি প্রয়োগ না করা হয় সে জন্য পরিষদ মিয়ানমার সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সামরিক তৎপরতার ফলে রাখাইন রাজ্যে যে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে, সে ব্যাপারে দ্রুত প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে সাধারণ মতৈক্য রয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস কর্তৃক প্রস্তাবিত ফর্মুলা অনুযায়ী এই ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা বন্ধ, উপদ্রুত এলাকায় ত্রাণ প্রেরণ এবং বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী শরণার্থীদের স্বেচ্ছায় ও নিরাপদে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন। এ ছাড়া রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা কমিশন যে সুপারিশ করেছে, তার পূর্ণ বাস্তবায়নের ব্যাপারেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে পূর্ণ মতৈক্য রয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদ সভাপতির বিবৃতিতে এই সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নের ওপর নতুন করে গুরুত্ব আরোপ করা হয়। তার নাগরিকদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদানে প্রাথমিক দায়িত্ব মিয়ানমার সরকারের, পরিষদ সভাপতির এই বক্তব্য মিয়ানমার সরকারের মোটেই মনঃপূত হয়নি। পরিষদে তাঁর বক্তব্যে মিয়ানমারের প্রতিনিধি বলেন, সভাপতির বিবৃতিতে মিয়ানমারের ওপর যে ‘অতিরিক্ত চাপ’ প্রয়োগ করা হয়েছে তা সমস্যা সমাধানে সাহায্য করবে না। রাখাইন আরসার সন্ত্রাসী হামলার ফলেই চলতি দুর্যোগের উদ্ভব। তাঁর দাবি, ওই সব বিদ্রোহীর সঙ্গে বিদেশি জঙ্গিরাও হাত মিলিয়েছে, যাদের মধ্যে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি জঙ্গিরাও রয়েছে। শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে নীতিগত মতৈক্য অর্জিত হলে দুই দেশের সরকার একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করবে, তারপরই শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর কাজ শুরু হবে। এ দিকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতিকে বেদনাদায়ক বলে অভিহিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা, শরণার্থী ও অভিবাসন বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিমন হেনশ। তিনি সবেমাত্র মিয়ানমার ও বাংলাদেশে এক সপ্তাহের সফর শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরেছেন। সেখানে ফিরে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি সম্পর্কে ওই মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য, সিমন হেনশ সম্প্রতি বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সফরে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। তার সঙ্গে ছিলেন ব্যুরো অব ডেমোক্রেসি, হিউম্যান রাইটস অ্যাল্ড লেবার’-এর উপ সহকারী মন্ত্রী স্কট বুশবি, ব্যুরো অব সাউথ অ্যান্ড সেন্ট্রাল এশিয়ান অ্যাফেয়ার্স-এর ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি সহকারী মন্ত্রী টম ভাজদা ও ব্যুরো অব ইস্ট এশিয়ান অ্যান্ড প্যাসিফিক অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক অফিস ডিরেক্টর প্যাট্রিসিয়ান মাহানি। সিমন হেনশ দেশে ফিরে গিয়ে বলেছেন, আশ্রয় শিবিরগুলোতে আমরা বেদনাদায়ক এক পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করেছি।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..