মস্কোতে যৌথ বিবৃতি

মায়ানমারে গণহত্যা বন্ধ কর

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও ওয়ার্কার্স পার্টিগুলোর এক সভা থেকে। মায়ানমারে গণহত্যা এবং রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধের দাবিতে যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই), ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআইএম), নেপালের কমিউনিস্ট পার্টি (ইউএমএল), পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি এবং শ্রীলঙ্কার কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ স্বাক্ষর করেন। রুশ বিপ্লবের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে মস্কো এবং সেন্ট পিটার্সবুর্গে সারা দুনিয়ার ৮১ টি দেশের ১০৩ টি কমিউনিস্ট ও ওয়ার্কার্স পার্টির এক সভার আগে দক্ষিণ এশিয়ার দলগুলোর নেতৃবৃন্দ একত্রিত হন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ড. দিবালোক সিংহ এ বৈঠকে সিপিবির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সিপিবির উদ্যোগেই ৩ নভেম্বর দক্ষিণ এশিয়ার বামপন্থি দলগুলোর নেতাদের মধ্যে সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সভা থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, মায়ানমার সরকারের মদদে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর পরিচালিত অব্যাহত সহিংসায় দেশটিতে এক মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। মায়ানমারের সেনাবাহিনী যেভাবে রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিচ্ছে তা এক ধরণের জাতিগত নিশ্চিহ্নকরন প্রক্রিয়া। এর ফলে প্রতিবেশি রাষ্ট্র বাংলাদেশকে আচমকা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের এ বিরাট স্রোতে ও বড় মানবিক বিপর্যয় মোকাবেলা করতে হচ্ছে। জাতিসংঘের হিসেব মতে, বাংলাদেশে এখন সোয়া ছয় লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছে। কক্সবাজারের কুতুপালং এবং বালুখালি অঞ্চলে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অস্থায়ী আশ্রয় গড়ে উঠেছে, এ দু জায়গাতেই শরণার্থীদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশে আগমনের মাত্রা ও তীব্রতা এক জরুরি অবস্থার সৃষ্টি করেছে এবং তা বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনীতির উপর এক অসহনীয় চাপ সৃষ্টি করেছে। বিবৃতিতে কমিউনিস্ট ও ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃবৃন্দ যে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বাংলাদেশের প্রবেশ করতে বাধ্য হয়েছে তাদের জন্য সম্মানজনক নিরাপদ পরিবেশ, খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার দাবি করে। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘের আরো অধিকতর অংশ গ্রহণেরও দাবি জানান তারা, যেন মায়ানমারের গণহত্যা বন্ধ করে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা যায় এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিয়ে সসম্মানে দেশে ফিরিয়ে নেয়া নিশ্চিত করা যায়। বিবৃতিতে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের প্রতিবেদনে উল্লেখিত সুপারিশের আলোকে মায়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অবাধ চলাচল ও নাগরিক মর্যাদা নিশ্চিতেরও দাবি জানানো হয়। বৈঠক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টি ও ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃবৃন্দ মায়ানমারে গণহত্যা বন্ধে এবং রোহিঙ্গাদের জান মালের নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদা রক্ষায় সারা দুনিয়ার কমিউনিস্ট ও ওয়ার্কার্স পার্টি সমূহকে সোচ্চার হবার আহ্বান জানায়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..