সাম্প্রদায়িকতা ও গণতন্ত্রহীনতার বিপদ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম : গোটা পাকিস্তান আমল জুড়ে এদেশের মানুষকে শোষণ বঞ্চনা, গণতন্ত্রহীনতা, সাম্প্রদায়িকতা ও জাতিগত শোষণের বিরুদ্ধে লাগাতার সংগ্রাম করতে হয়েছে। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের সে সংগ্রামে দেশবাসীর বিজয় সূচিত হয়েছিল। কিন্তু বিজয়কে আমরা সংহত করতে, বা এমনকি ধরে রাখতে পারিনি। জাতিগত অধিকারের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ‘গোলামীর জিঞ্জির’ ভেঙ্গে বের হতে পারলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ সাম্রাজ্যবাদী-আধিপত্যবাদী শক্তির শোষণ-নিয়ন্ত্রণ থেকে দেশকে মুক্ত রাখা যায়নি। শ্রেণিগত শোষণ-বৈষম্যও কমার বদলে আরো বেড়েছে। শোষণ-বঞ্চনার কথা না হয় বাদই দিলাম, কিন্তু রাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থায় পাকিস্তান আমলের গণতন্ত্রহীনতা ও সাম্প্রদায়িকতার ভূত দেশের ওপর আবার চেপে বসেছে। এভাবে আজ একাত্তরের মূল বিজয় কার্যত: হাতছাড়া হয়ে গেছে। বিজয় অর্জন না করতে পারাটি নিঃসন্দেহে বেদনার বিষয়। কিন্তু বিজয় অর্জন করার পরে তা হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার ঘটনার অসহনীয় যাতনা ও গ্লানি, তার কোনো সীমা নেই। জাতিগত ও শ্রেণিগত শোষণ অবসানের যে স্বপ্ন একাত্তরে রচিত হয়েছিল, সে স্বপ্নভঙ্গের বিষয়ে অনেক কথা বলার আছে। সেসব কথার অবতারণা আজ করবো না। আজ শুধু দেশের শাসন ব্যবস্থার গণতন্ত্রহীনতা ও সাম্প্রদায়িকতার পুনার্বিভাবের বিষয়ে দু’কথা আলোচনা করবো। তবে একথা মনে রাখা দরকার যে শোষণ-বৈষম্য অবসানের প্রশ্নটির সাথে গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ নির্মাণের বিষয়টি ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। একই সাথে একথাটিও মনে রাখা প্রয়োজন যে সাম্প্রদায়িকতা ও গণতন্ত্রহীনতার সম্পর্ক হলো টাকার এপিঠ-ওপিঠের মতো। সাম্প্রদায়িকতা বহাল রেখে কখনো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যায় না। একইভাবে একথাও সত্য যে, গণতন্ত্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সাম্প্রদায়িকতা নির্মূল করা যায় না। ‘সাম্প্রদায়িক গণতন্ত্র’ কিংবা ‘অগণতান্ত্রিক অসাম্প্রদায়িকতা’ দুটো হলো সোনার পাথর-বাটির মতো অলীক কল্পনার অসম্ভব বিষয় মাত্র। অথচ সেই ভ্রান্তি ও অপরাধমূলক রাজনৈতিক কৌশলের (অপকৌশলের!) ধাক্কায় দেশ আজ ডুবতে বসেছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি হলো বর্তমানে এদেশের প্রধান দু’টি রাজনৈতিক শক্তি। বিএনপি গণতন্ত্রের নামাবলী গায়ে দিলেও সে একই সাথে সাম্প্রদায়িকতাকে ধারণ করে চলেছে। তার ‘জাতীয়তাবোদের’ মধ্যে ইসলাম– পছন্দ গন্ধ বেশ স্পষ্ট, স্বঘোষিত ও প্রকাশ্য। একেতো ঘোরতর মার্কিনপন্থি হওয়ায় বিএনপির ‘জাতীয়তাবাদ’ মোটেও জাতীয় মুক্তির ধারায় পরিচালিত জাতীয়তাবাদ নয়, অন্যদিকে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা মিশ্রিত হওয়ায় তা গণতান্ত্রিকও নয়। অন্যদিকে, সাম্প্রদায়িক মুসলিম লীগের গর্ভ থেকে আওয়ামী লীগের উদ্ভব হলেও সে একসময় মুসলিম জাতীয়তাবাদ থেকে বেরিয়ে এসে অগ্রসর হয়েছে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ঝাণ্ডা নিয়ে। কিন্তু সেই পরিবর্তনকে আদর্শিকভাবে সুদৃঢ় করার পর্যাপ্ত প্রয়াস সে কখনোই নেয়নি। প্রায়োগিক প্রয়োজনে সে শর্টকাটের ও আপোস করে চলার পথ গ্রহণ করেছে। অনেক সময়ই ক্ষমতার রাজনীতির প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিয়ে সে সাম্প্রদায়িক শক্তির চাপের মুখে অথবা সুবিধা নেয়ার জন্য তাদের সাথে কৌশলী সহাবস্থানের পথ গ্রহণ করেছে। সাম্প্রদায়িকতাকে মৌলিকভাবে মোকাবেলা না করে, নির্বাচনে ‘ইসলামী ভোট’ হাত করার কৌশলের যুক্তি দেখিয়ে সম্প্রতিকালে আবার আওয়ামী লীগের মধ্যে সাম্প্রদায়িকতার প্রবণতাকে বিপদজনকভাবে বাড়িয়ে তোলা হয়েছে। সমাজের মধ্যে প্রবলভাবে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। দৃঢ় অসাম্প্রদায়িক শক্তিরূপে বামপন্থি প্রগতিবাদীরা সে পদস্খলনকে সামাল দিতে পারতো এবং তা করাটা তাদের কর্তব্য ছিল। কিন্তু তাদের শক্তির সীমাবদ্ধতা ও সেই সাথে তাদের কিছু ভুল-ভ্রান্তির কারণে তা সম্ভব হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে সমাজের সাম্প্রদায়িকরণ প্রবণতা সেসব কারণে আতঙ্কজনকভাবে বেড়েছে। নাগরিক সত্ত্বার অসাম্প্রদায়িক পরিচয়-বোধ গণতান্ত্রিক সমাজের একটি আবশ্যিক উপাদান। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের কাছে ধর্ম-বর্ণ-জাতি-বিত্ত ইত্যাদি পরিচয় নির্বিশেষে সবাই হলো একই ‘নাগরিক’ পরিচয়ে মূর্তমান। হিন্দু হোক বা মুসলমান হোক, আমির হোক বা ফকির হোক, পুরুষ হোক বা নারী হোক, বাঙালি হোক বা আদিবাসী হোক– রাষ্ট্রের সামনে সকলেরই প্রাথমিক পরিচয় হলো এই যে, তারা সবাই ‘রাষ্ট্রের নাগরিক’। এই যদি হয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার দার্শনিক ও নীতিগত ভিত্তি তাহলে সেখানে সাম্প্রদায়িক বিবেচনা কখনোই প্রধান হতে পারে না। কিন্তু সাম্প্রদায়িক পরিচয়কে প্রধান রূপে গণ্য করেই পরিচালিত হয় সাম্প্রদায়িকতার ধারা। সে কারণে গণতন্ত্র ও সাম্প্রদায়িকতা হলো পরস্পরের বৈরি মতবাদ ও ব্যবস্থা। সাম্প্রদায়িকতা নির্মূল করার পথ গ্রহণ করা ব্যতীত গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। সাম্প্রদায়িকতাকে প্রশ্রয় দিয়ে অথবা সাম্প্রদায়িকতা নির্মূলের লক্ষ্যে পরিচালিত সংগ্রামকে ‘পেন্ডিং’ রেখে গণতন্ত্রের পথে অগ্রসর হওয়া যাবে না। যারা সাম্প্রদায়িকতাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় ও লালন করে অথবা সাম্প্রদায়িকতাকে কৌশলগত ছাড় দিয়ে চলে, গণতান্ত্রিক হিসেবে তারা হয় ‘ভুয়া’ নয়তো ‘ভেজাল’। এদিকে, গণতান্ত্রিক পরিচয়ের ব্যাপারটিও একেবারে সহজ নয়। গণতন্ত্র একটি বহুমাত্রিক বিষয়। তার যেমন রয়েছে অর্থনৈতিক মাত্রা, তেমন রয়েছে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, মনস্তাত্ত্বিক, প্রাতিষ্ঠানিক, আইনগত প্রভৃতি নানা মাত্রিকতা ও উপাদান। আমাদের দেশে এখন বাজার অর্থনীতি প্রচলিত। বাজার অর্থনীতি জন্ম দিয়েছে বাজার রাজনীতির। দেশে চলছে সাম্রাজ্যবাদ নির্ভরতা। তা থেকে জন্ম নিয়েছে সাম্রাজ্যবাদের তোয়াজ ও তাবেদারী করার রাজনীতি। দেশে চলছে লুটপাটের অর্থনীতি। তা থেকে জন্ম নিয়েছে লুটপাটের রাজনীতি। গণতন্ত্রের সাথে এসবের রয়েছে সরাসরি সংঘাত। প্রচলিত অর্থনৈতিক-সামাজিক ব্যবস্থায় গণতন্ত্র দৃঢ়মূল করা সম্ভব নয়। যেটুকু সম্ভব তা কার্যত: ‘লেবাসী গণতন্ত্রের’ বেশি কিছু নয়। কিন্তু সেটুকুও বা আজ রয়েছে কই? আজ দেশের বড় একটি বিপদ এক্ষেত্রেই। ক্যান্টনমেন্টে জন্ম নেয়া বিএনপির মাঝে এখনো রয়েছে মিলিটারি কায়দাকানুন ও মেজাজের অস্তিত্ব। স্বৈরাচারী এরশাদী শাসনের বিরুদ্ধে পরিচালিত গণতান্ত্রিক সংগ্রামে অংশগ্রহণ করলেও বিএনপি তার জন্মগত বৈশিষ্ট্য থেকে আজও পরিপূর্ণভাবে মুক্ত হতে পারেনি। আওয়ামী লীগের জন্ম ও ইতিহাস ভিন্ন ধারায়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্র চর্চার অভাব রয়েছে। উভয় দলই ‘পরিবারতন্ত্র’, ‘ব্যক্তি পূজা’, ‘সুপ্রিমো সংস্কৃতি’ ইত্যাদি রোগে কম বেশি আচ্ছন্ন। সামন্তবাদী জমিদারী রেওয়াজের সাথে আধুনিক কর্পোরেট ব্যবস্থার সিইও (চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার) ভিত্তিক ‘হায়ার এ্যান্ড ফায়ার’-এর সংস্কৃতি মিলে দল দু’টি কার্যত ব্যক্তি মর্জিতে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্র ক্ষমতায় গিয়ে তারা সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে একই পন্থা অনুসরণ করছে। ফলে দেশে সামগ্রিকভাবে গণতন্ত্রের চর্চা ও বিকাশ গুরুতরভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। গণতন্ত্রের পথে দেশের অগ্রযাত্রা আজ কঠিন সংকটে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দল রাষ্ট্র ক্ষমতার ইস্যুকে প্রাধান্য দেয়ার কারণে গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখার বিষয়টি তাদের কাছে আজকাল অপ্রধান ও ক্ষেত্র বিশেষে পরিত্যাজ্য হয়ে উঠেছে। তাদের কাছে আদর্শের বিষয়ের চেয়ে ক্ষমতার বিবেচনাটি প্রধান বলে গণ্য হওয়ায়, আওয়ামী লীগের প্রধান টার্গেট হয়ে আছে বিএনপি এবং বিএনপির প্রধান টার্গেট হয়ে আছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে একপক্ষ গণতন্ত্রের ধুয়া তুলে জামায়াতকে মাথায় তুলেছে, আর অপরপক্ষ সাম্প্রদায়িকতা মোকাবেলার কথা বলে আজ পতিত স্বৈরাচারকে পাশে নিয়েছে ও গণতন্ত্রের চর্চাকে ক্ষুণ্ন করছে। এখন ‘এক জোটে রাজাকার, আরেক জোটে স্বৈরাচার’। আনুষ্ঠানিক জোটের বাইরেও রয়েছে নানা গোপন সমঝোতার খেলা। আওয়ামী লীগ হেফাজতের সাথে গোপন আঁতাত করেছে। এভাবে এই দুই দলের ভ্রান্তি ও রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার সুযোগে আজ জামায়াত-হেফাজত প্রভৃতি শক্তি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বস্তুত একধরনের যুদ্ধ তৎপরতা শুরু করতে সক্ষম হয়েছে। তারা বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত চেতনা ও ধারা থেকে সম্পূর্ণ-পথচ্যুত করে এদেশে পাকিস্তানি জামানার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে চায়। আওয়ামী লীগ সাম্পদ্রায়িক অপশক্তি মোকাবেলার কথা বলে গণতন্ত্রকে খর্ব করলেও, ক্ষমতার বিবেচনাকে সবচেয়ে উপরে রাখার কারণে সে বিবেচনা থেকে ইসলামপন্থিদেরকে নিজের দলে ভিড়ানোর পথ গ্রহণ করেছে। জামায়াত-শিবিরের অনেক নেতা কর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছে। হেফাজতসহ বেশ কিছু ইসলামী দলকে সে হাত করে নিয়ে তাদের ‘সাম্প্রদায়িক দাবি’ বাস্তবায়ন করে চলেছে। আওয়ামী ওলামা লীগকে দিয়ে নানা কথা বলিয়ে সে বিএনপির সাথে ‘কে বেশি ইসলাম-দরদী’-তার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে। ফলে আওয়ামী ও বিএনপির হাতে একই সাথে ‘গণতন্ত্র’ ও ‘অসাম্প্রদায়িকতা’– দু’টোই বলি হচ্ছে। গণতন্ত্রের কথা বলে জামায়াতসহ সাম্প্রদায়িক শক্তির সাথে বিএনপি গাঁটছড়া বাধলেও, গণতন্ত্রের পথে দেশকে এগিয়ে নেয়ার প্রশ্নে সে তার সামরিক-সংশ্লিষ্টতার অতীতকে ত্যাগ করতে অক্ষম বলে প্রমাণ করেছে। ক্ষমতার জন্য সে বারবার ষড়যন্ত্রের পথ গ্রহণ করছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ‘শর্ট সার্কিট’ করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পথ করে নেয়ার জন্য ফন্দি-ফিকির করছে। তার হাতেও গণতন্ত্র বিপদাপন্ন হয়ে পড়ছে। ‘আমের’ পাশাপাশি ‘ছালাও’ হাতছাড়া হওয়ার বিপদ তারাও সৃষ্টি করে রেখেছে। ইতিহাস এই শিক্ষাই দেয় যে অসৎ পথে কোনো সৎ লক্ষ্য হাসিল করা যায় না। ‘সাম্প্রদায়িক বিপদ’ মোকাবেলার জন্য ‘গণতন্ত্রকে’ কালিমালিপ্ত করে গৃহীত পদক্ষেপ সেই বিপদকে সাময়িকভাবে দমিত করতে পারলেও অন্যভাবে তা এই বিপদের শক্তিকে বাড়িয়ে তুলবে। ফলে ‘গণতন্ত্রকে’ কালিমালিপ্ত করে গ্রহণ করা ছল চাতুরির পদক্ষেপ ‘সাম্প্রদায়িক বিপদকে’ মোকাবেলার বদলে তাকে নতুন শক্তি ও রসদ সহকারে আরো ভয়াবহতা নিয়ে পরবর্তী কোনো এক সময় আঘাত করার পথ তৈরি করে দিবে। তেমনই, সাম্প্রদায়িক শক্তিকে সাথে নিয়ে, আর যাই হোক, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা যে মোটেও সম্ভব নয়, সেকথা বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন হয় না। দু’টো কথাই আজ স্পষ্ট। সাম্প্রদায়িকতাকে বহাল রেখে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা যেমন অসম্ভব, তেমনি গণতন্ত্রকে কালিমালিপ্ত করে সাম্প্রদায়িক বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়াও সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগ বা বিএনপিকে দিয়ে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা যেমন আজ অসম্ভব হয়ে উঠেছে তেমনি সাম্প্রদায়িক বিপদ থেকে দেশকে মুক্ত করাও আজ তাদেরকে দিয়ে সম্ভব নয়। দেশের অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক ভবিষ্যত এই দুই দল ও জোটের হাতে আর নিরাপদ নয়। এটি প্রধানত এ কারণে যে, এ দল দু’টির শ্রেণিচরিত্র ও তাঁদের নেতৃত্বের শ্রেণি ভিত্তি হলো হলো লুটেরা ধনীক শ্রেণির ওপর নির্ভরশীল। রাষ্ট্র ক্ষমতা তাদের কাছে লুটপাটের সুযোগ করে নেয়ার একটি শ্রেষ্ঠ উপায় বলে বিবেচিত। এই বিবেচনাই তাদের কাছে প্রধান। এই স্বার্থের বিবেচনার কাছে গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা বা অন্য যে কোনো নীতি আদর্শের বিবেচনা গৌন ও প্রয়োজনবোধে পরিত্যাজ্য। তাই, গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িকতার পথে দেশকে পরিচালনার জন্য আজ প্রয়োজন বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির উত্থান। দেশ আজ তার জন্য অপেক্ষমান।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..