আমন ধানে আগাম শিষ আতঙ্কে চাষিরা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা : নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জের দাউদপুর এলাকায় জমিতে আমনের চারা রোপণের মাত্র ২৫-৩০ দিনের মধ্যে শিষ (থোড়) চলে এসেছে। এ নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন ওই এলাকার পায় ১৫০ কৃষক। এবার ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। এদিকে এত দ্রুত শিষ আসার বিষয়ে ধারণা নেই খোদ কৃষি কর্মকর্তাদেরও। তাদের ধারণা, ব্রি-৪৯ বলা হলেও বীজ ব্যবসায়ী কৃষকদের অন্য কোনো জাতের বীজ ধরিয়ে দিয়েছেন। আতঙ্কিত কৃষকরা বীজ প্রতারণার অভিযোগে গত মঙ্গলবার দাউদপুর এলাকায় ক্ষেতের সামনে বিক্ষোভ করেছেন। দাউদপুরের ছোট বাগলা, বেলদীসহ কয়েকটি গ্রামের কৃষক মোতালেব হোসেন, মোজাম্মেল, আব্দুর রহিম, নুরু মিয়া, রউফ খান, রশিদ মিয়া, শামীম, নাজিমউদ্দিন জানান, রূপগঞ্জের পাশে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার ওয়াজ উদ্দিন মিয়ার কাছ থেকে ব্রি-৪৯ ধানের বীজ কিনেছিলেন তারা। চারা রোপণের ৫০-৬০ দিনের মাথায় ধানে শিষ আসার কথা, কিন্তু ২৫-৩০ দিনের মাথায়ই শিষ এসেছে। এ নিয়ে তারা বেশ দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। দাউদপুর ইউনিয়নের আগলা, বাগলা, রোহিলা, বাঘপাড়া, বংশীদা, কাকিনীবাগ, বেলদী ছাড়াও পার্শ্ববর্তী মালীবন এলাকার ৮০ শতাংশ মানুষ কৃষিজীবী। বীজ সংকটের কারণে এ অঞ্চলের কৃষকরা এবার পার্শ্ববর্তী কালীগঞ্জ থেকে চড়া দামে বীজ কেনেন। বীজ ব্যবসায়ী ওয়াজ উদ্দীন বাজারমূল্যের দ্বিগুণেরও বেশি দাম রাখেন। পায় ২০০ বিঘা জমিতে আমন চাষের জন্য বীজ কেনেন কৃষকরা। কিন্তু শ্রাবণ মাসে অনেক চারায় বীজতলায় থাকা অবস্থায়ই শিষ এসে যায়। কিছু বীজ খারাপ পড়েছে ভেবে কৃষকরা চারা রোপণ করেন। কিন্তু ভাদ্র মাসে ৯৫ শতাংশ জমিতে শিষ চলে আসে। চলতি মাসে অনেক জমির ধান একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষক মহিজউদ্দিন, আব্দুল গনী, হাসান মাস্টার, ফিরোজসহ আরো অনেকে জানান, কালীগঞ্জ বাজারের বীজ বেপারী ওয়াজউদ্দিন মিয়ার রত্না, ডায়মন্ড আর ডায়না নামে তিন পতিষ্ঠানের লোগোযুক্ত বীজ যারাই কিনেছে, তাদের আজকে এই দশা হয়েছে। বীজে ভেজাল দেয়ার অভিযোগে গত বছর এই ব্যবসায়ীকে পুলিশ আটক করলেও পরে ছাড়া পেয়েছেন বলেও জানান একাধিক কৃষক। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রূপগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুরাদুল হাসান জানান, কৃষকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার দাউদপুর এলাকায় তিনি সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। যে ধানগাছে ৬০ দিনের মাথায় থোড় বা ছড়া পড়ার কথা, সেখানে ৩০ দিনের মাথায় থোড় পড়েছে। তিনি বলেন, এটা কী জাতের ধান দেখে বোঝা যাচ্ছে না। ব্রি-৪৯ জাত হলে এত দ্রুত থোড় বা ছড়া আসার কথা না। কৃষকদের এখনই ধানক্ষেত নষ্ট না করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আরো সাতদিন অপেক্ষা করতে হবে। ধানের নমুনা সংগ্রহ করে ফিট সার্টিফিকেশন এজেন্সিকে দেয়া হবে এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বলা যাবে। এ কর্মকর্তা আরো জানান, বীজ ব্যবসায়ী ওয়াজ উদ্দিন মিয়ার বিষয়ে খোঁজখবর নেয়ার জন্য কালীগঞ্জ কৃষি কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। দু-একদিনের মধ্যে লিখিতভাবে কালীগঞ্জ কৃষি কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হবে। সরেজমিন পরিদর্শনে আসার কথা জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্বাস উদ্দিন বলেন, এটি ব্রি-৪৯ কিনা, তা নিয়ে সংশয় আছে। কৃষকরা যার কাছ থেকে বীজ কিনেছেন, তার কোনো মেমো নেই। আগাম কোনো জাতের বীজ হতে পারে এটি। আবার অনেক সময় আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণেও এমনটি হতে পারে। এজন্য কৃষকদের কয়েক দিন ধৈর্য ধরতে বলা হয়েছে। বীজ বিক্রেতা প্রতারণা করে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এ ব্যাপারে কথা বলতে বীজ বিক্রেতা ওয়াজ উদ্দিন মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..