অক্টোবর বিপ্লবের শতবর্ষ : প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
ওয়াহেদুজ্জামান মতি: বিপ্লব পেকে ওঠে তখন, যখন অর্থনৈতিক স্ববিরোধিতায় সমাজ আত্মহারা হয়ে পড়ে, ভয়ঙ্কর অবনতি হয় জনগণের অবস্থার। বহু ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিস্থিতি গড়ে ওঠেছে যুদ্ধে। যেমন রাশিয়ায় ১৯০৫ সালের বিপ্লব দেখা দেয় রুশ-জাপান যুদ্ধ প্রসূত সংকটের ফলে। ১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারি বিপ্লব হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ প্রসূত সামাজিক বিরোধের তীব্র বৃদ্ধি, অসন্তোষ, দারিদ্র্য, বুভুক্ষার কারণে। তবে নীতির দিক থেকে বিপ্লবের পরিস্থিতি কেবল যুদ্ধেই ঘটবে, এটা অবশ্যম্ভাবী নয়। নির্দিষ্ট সমাজের আভ্যন্তরীণ স্ববিরোধিতার তীক্ষ্ণতা বৃদ্ধির ফলেও তা ঘটতে পারে। বিপ্লব কোনও আপেক্ষিক ব্যাপার নয়। ফরমায়েশ করলেও বিপ্লব হয় না। কোনও এক ব্যক্তির একদিনের ঘোষণায়ও বিপ্লব হতে পারে না। গণআন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কহীন কিছু লোকের চক্রান্ত মারফত বিপ্লব ঘটিয়ে লোকের ‘‘ভাগ্যোদয়ের’’ যারা পক্ষপাতী, সর্বদা তাদের বিরুদ্ধতা করেছেন মহামতি কার্ল মার্কস ও মহান লেনিন। বিপ্লব রফতানিযোগ্য কোনও পণ্য নয় যে এক দেশ থেকে অন্য দেশে রফতানি করা যায়। বিপ্লব কখনো অন্য দেশের ওপরও চাপিয়ে দেওয়া যায় না। নির্দিষ্ট দেশ বা জনগোষ্ঠীর আভ্যন্তরীণ বিকাশের গোটা গতিপথেই তা তৈরি হয়ে ওঠে। ১৮৯৫ সালে লেনিন পিটার্সবুর্গের ‘শ্রমিক শ্রেণির মুক্তি সংগ্রাম লীগ’ গঠন করেন। ১৮৯৮ সালে রুশ সোসাল ডেমোক্রেটিক শ্রমিক পার্টির প্রথম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। পরে যার নাম হয় কমিউনিস্ট পার্টি। ১৯০৩ সালের গ্রীষ্মে পার্টির দ্বিতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। এ কংগ্রেস থেকেই শ্রমিক শ্রেণির একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টি মার্কসবাদ-লেনিনবাদকে তত্ত্বগতভাবে বিকশিত করে, পূর্বের কোনও তাত্ত্বিক সিদ্ধান্ত বা রাজনৈতিক সমাধান পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ না খায়, তবে তার পুনর্বিচারে কমিউনিস্ট পার্টি কখনো কুণ্ঠিত হয়নি। গোড়ামি, অচল হয়ে পড়া তাত্ত্বিক বিধান ও সূত্র, বাস্তবে অতিবাহিত সমাজ জীবনের কোনও একটা রূপকে আঁকড়ে থাকা কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষে উচিত নয়। সোভিয়েত দেশের এবং সেই সঙ্গে মানবজাতির ইতিহাসে একটা নতুন যুগের শুরু হয় ১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বর (মতান্তরে ২৫ অক্টোবর) যখন সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ঘটে রাশিয়ায়। সমাজতান্ত্রিক অক্টোবর বিপ্লব– এটা ওপরতলার কোনও ওলট-পালট সিদ্ধান্ত বা স্বার্থে নয়, বরং স্বস্বার্থে এটা ঘটায় জনগণ। জনগণ আগের মত দিন কাটাতে চায়নি, মুক্তির আদর্শ তারা গ্রহণ করে এবং শেষ পর্যন্ত তার জন্য লড়তে প্রস্তুত থাকে, তাই তার বিরুদ্ধে জমিদার পুঁজিপতিদের ক্ষমতা বা প্রতিবিপ্লবী শ্বেতরক্ষী জেনারেলদের সৈন্য আর ১৪টি দেশের হস্তক্ষেপকারীদের ফৌজ, যারা সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবকে হত্যা করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তারা কেউ জনগণের সামনে দাঁড়াতে পারেনি। অক্টোবর বিপ্লবের প্রথম দিন থেকেই পার্টি সাংস্কৃতিক বিপ্লবে মন দেয়। ১৯১৭ সালে রাশিয়ার তিন-চতুর্থাংশ মানুষ নিরক্ষর ছিল। সাংস্কৃতিক বিপ্লবের কারণে অতি অল্প সময়ের মধ্যে রাশিয়া থেকে নিরক্ষরতা চির দিনের মত বিদায় নেয়। দ্রুত উন্নত হতে থাকে জনগণের জীবনযাত্রার মান। বর্তমান বিশ্ব সমাজতন্ত্র ও বিশ্ব পুঁজিবাদের মধ্যে ভাবাদর্শীয় ও রাজনৈতিক সংগ্রামের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে গণতন্ত্রের প্রশ্ন। বুর্জোয়া মতাদর্শী ও শোধনবাদীরা সমাজতান্ত্রিক দেশ তথা ঔপনিবেশিক জোয়াল থেকে মুক্ত রাষ্ট্রগুলোর ওপর নিজেদের গণতন্ত্রের আদর্শ চাপিয়ে দিতে চায়, দৃষ্টান্ত হিসেবে তারা তুলে ধরে পুঁজিবাদী সমাজকে, যেখানে সমস্ত বাহ্য ‘স্বাধীনতাই’ শেষ বিচারে শাসক সংখ্যালঘু, সর্বাগ্রে বৃহৎ একচেটিয়ার স্বার্থাধীন। এ নিদর্শন মেহনতিদের কাজে লাগে না। সমাজতন্ত্রের আদর্শ হল সংখ্যালঘিষ্টের জন্য গণতন্ত্র নয়- সাধারণভাবে গণতন্ত্র নয়, মেহনতিদের জন্য গণতন্ত্র, সমাজতান্ত্রিক গণতন্ত্র। সমাজতান্ত্রিক গণতন্ত্রের অর্থ, তার আধেয় হল দেশের সমস্ত সামাজিক প্রক্রিয়ার পরিচালনায় ব্যাপক জণগণের অংশগ্রহণ। সমাজতান্ত্রিক সমাজের গণতন্ত্র প্রকাশ পায় সোভিয়েত নাগরিকদের রাজনৈতিক অধিকার ও ব্যক্তি স্বাধীনতায়। মার্কসবাদ ও লেনিনবাদ বলে যে, গণতন্ত্র জাস্ট একটা শ্রেণিগত ধারণা। যেমন সাধারণভাবের কোনও স্বাধীনতা হয় না, তেমনি সাধারণভাবের কোনও গণতন্ত্রও হয় না। সোভিয়েত দেশেই প্রথম এমন গণতন্ত্রের উদ্ভব ও প্রতিষ্ঠা হয়, যা সমস্ত মেহনতীদের স্বার্থের উপযোগী। অক্টোবর বিপ্লবে জন্ম নেওয়া সোভিয়েত ক্ষমতা হল জনগণের ক্ষমতা, জনগণের জন্য ক্ষমতা। বিশ্ব সমাজতন্ত্র ও বিশপুঁজিবাদের মধ্যে মার্কসীয় লেনিনীয় ও বুর্জোয়া ভাবাদর্শের মধ্যে তীব্র ভাবাদর্শীয় রাজনৈতিক সংগ্রামের একটা বিষয়বস্তু হল জাতীয় প্রশ্ন। বর্তমানে দুই ব্যবস্থার তীব্র শ্রেণিদ্বন্দ্বের পরিস্থিতিতে সমাজতন্ত্রের প্রতিপক্ষরা প্রায়ই বাজী ধরে জাতীয়তাবাদের ওপর। যে কোনও উপায়ে সমাজতন্ত্রের অবস্থান দুর্বল করার জন্য, শ্রেণি সংগ্রাম থেকে পুঁজিবাদী দেশের মেহনতীদের মনোযোগ বিক্ষিপ্ত করার জন্য, জাতীয় মুক্তি আন্দোলন দমনের জন্য সাম্রাজ্যবাদীরা বর্ণবিদ্বেষ খুঁচিয়ে তোলে, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির প্রতি মদদ জোগায় এবং শ্রমিক শ্রেণির ঐক্যে ফাটল ধরাবার চেষ্টা চালায় জাতীয়তাবাদের সূত্র ধরে। একথা ভোলা উচিত হবে না যে, জাতীয় কুসংস্কার, মাত্রাতিরিক্ত বা বিকৃত জাতীয়তাবোধ খুবই দুর্মর একটা ব্যাপার, রাজনীতির দিক থেকে যারা যথেষ্ট পরিপক্ক নয় তাদের মনোবৃত্তিতে তা গেড়ে বসে। জাতিতে জাতিতে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনও রকম বৈরিতা বিরোধের অবজেকটিভ পূর্বশর্ত বহুকাল বিদুরিত হয়ে গেলেও এইসব কুসংস্কার টিকে থাকে। ভাবাদর্শীয় পরিপক্কতা ও কমিউনিস্ট প্রত্যয় হল চিন্তাশীলতা, বৈপ্লবিক তত্ত্ব, মার্কস-এঙ্গেলস- লেনিনের রচনা, পার্টির দলিলপত্র স্বাধীনভাবে অধ্যয়নের একটা সুদীর্ঘ গুরুভার কাজের ফল। ভাবাদর্শীয় লালনের কাজ সরাসরি মানুষকে নিয়ে, তার চেতনা নিয়ে, মানুষের বিশ্ববিক্ষা, তার দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতা গঠনে তার সক্রিয় প্রভাব পড়ে। লোকে একটা ভাবাদর্শ মুখস্থ করতে পারে, কিন্তু সেটা যদি তার আভ্যন্তরীণ প্রত্যয়, ব্যবহারিক ক্রিয়াকলাপে প্রেরণা হয়ে না দাঁড়ায়, তাহলে সে মানুষ যোদ্ধা নয়, বুলিবাগিশ, বাক্যবীর, তার সমস্ত ‘ভাবাদর্শনিষ্ঠা’ কেবল তার জিভের ডগায়, তার বেশি নয়। বিশ্ব যা ঠিক সেইভাবেই এবং যা তার হওয়ার কথা সেইভাবে বিশ্বকে দেখতে শেখায় সমাজতান্ত্রিক ভাবাদর্শ। তা দেখায় কাল¯্রােতের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক , কথা ও কাজের, চিন্তা ও কর্মের ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে তা, মানবিক ক্রিয়াকলাপে যোগ করে লক্ষ্যাভিমুখিতা। শ্রমিক শ্রেণির বৈপ্লবিক ভাবাদর্শ রচনা হল কার্ল মাকর্স ও ফ্রেডারিক এঙ্গেলসের বৈজ্ঞানিক কীর্তি। সামাজিক চিন্তার ইতিহাসে মার্কসবাদই প্রথম ভাবাদর্শীয় সমস্যাকে স্থাপন করে সামাজিক ঘটনা ও শ্রেণিস্বার্থের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের পাকা জমিনের ওপর। লেনিন একাধিকবার বলেছেন, সমাজতন্ত্র প্রলেতারিয়েতের শ্রেণিসংগ্রামের ভাবাদর্শ হওয়ায় তা ভাবাদর্শের উদ্ভব, বিকাশ ও সংহতির সাধারণ শর্তের অধীন, অর্থাৎ তার ভিত্তিস্বরূপ মানবিক জ্ঞানের সমস্ত মালমশলা, বিজ্ঞানের উচ্চ বিকাশ ধরে নেওয়া হয় তাতে, দাবি করে তা বৈজ্ঞানিক কাজ। মানবজাতির সঞ্চিত সমস্ত মানসিক সম্পদকে আত্মস্থ করার লক্ষ্যে চালায় চিন্তার সর্বাত্মক সমালোচনী বিচার। এ কাজটা ছাড়া বৈজ্ঞানিক ভাবাদর্শ হিসেবে সমাজতন্ত্র সম্ভব হত না। প্রলেতারীয় ভাবাদর্শের বৈজ্ঞানিক চরিত্রের ফলে অতীতের প্রগতিশীল মানসিক উত্তরাধিকারের প্রতি তার একটা সযত্ন মনোভাব পূর্বনির্ধারিত হয়ে যায়। গর্ববোধ নিয়েই লেনিন লিখেছিলেন, বিপ্লবী প্রলেতারিয়েতের ভাবাদর্শ হিসেবে মার্কসবাদ তার বিশ্ব ঐতিহাসিক তাৎপর্য অর্জন করেছে এইজন্য যে, মার্কসবাদ বুর্জোয়া যুগের অতিমূল্যবান সুকৃতিগুলোকে আদৌ বর্জন করেনি, বরং মানবিক চিন্তা ও সংস্কৃতির দুই সহ¯্রাধিক বছরের বিকাশে যা কিছু মূল্যবান ছিল তা আত্মস্থ করেছে ও ঢেলে সেজেছে। মার্কসের মতো লেনিনও মনে করতেন যে, সমাজতান্ত্রিক ভাবাদর্শ প্রকৃতিগতভাবেই একটা বিচারমূলক ও বৈপ্লবিক ‘তত্ত্ব’। আর এই শেষ গুণটা সত্যিই পুরোপুরি ও তর্কাতীত রূপে মার্কসবাদের মজ্জাগত। এর অর্থ সমাজতান্ত্রিক ভাবাদর্শ সৃজনশীল, চিন্তার ¯্রােতহীনতা তা সহ্য করে না, পরিবর্তমান বাস্তবতার উপযোগী নতুন নতুন সিদ্ধান্ত ও প্রতিপাদ্যে তা ক্রমাগত সমৃদ্ধ হয়। কেবল এইরূপ ভাবাদর্শই বৈপ্লবিক সংগ্রামে ও নবজীবন নির্মাণে নির্ভরযোগ্য দিশারী হতে পারে। দুনিয়াকে বদল করতে গিয়ে লোকে নিজেদের স্বভাবকেই বদলে দেয়। অক্টোবর বিপ্লবের মধ্য দিয়ে সারা বিশ্বে ধ্বনিত হয়েছে প্রলেতারিয়েতের ‘আন্তর্জাতিক’ জয়গান; কেউ করে দেবে নাকো উদ্ধার, ঈশ্বর-রাজা-বীর ভক্তিতে, আজাদি সে আমাদের আপনার, হাতে করে জেনে নেব শক্তিতে। বিপ্লবী সংগ্রাম, সমাজতন্ত্র নির্মাণ মানুষকে কেবল একের পর এক অর্থনৈতিক শোষণ ও সামাজিক পীড়ন থেকেই নয়, মুক্ত করেছে স্বার্থপরতা, দাসসূলভ পাষ-তা, নীচতা থেকেও, যা যুগের পর যুগ মানুষের মনে গেঁথে দিয়েছিল ব্যক্তি মালিকানার সমাজ। মানুষ আত্মিক সম্পদে যত ধনী হয়, ততই বেশি সে দেয় সমাজকে, ততই সামাজিক স্বার্থ তার কাছে আপন, ততই উপভোগ্য তার নিজের ব্যক্তিগত জীবন। দুনিয়ার সবচেয়ে মানবিক সমাজ ব্যবস্থার নির্মাতাদের নৈতিক আদল থেকে মানবতা অবিচ্ছেদ্য। সমাজতান্ত্রিক জীবনধারায় শ্রমজীবী মানুষ সমস্ত বৈষয়িক ও আত্মিক সম্পদের স্রষ্টা, সে নিজেই একটা উচ্চতম সামাজিক মূল্য। জীবনযাত্রায় সোভিয়েত ধরনে লোকেরা লালিত হয় উচ্চ রাজনৈতিক-নৈতিক গুণে, গড়ে ওঠে তাদের মধ্যে নতুন সম্পর্ক, নতুন নৈতিক শীল, যা কমিউনিজমের স্বার্থের সেবায় নিয়োজিত, যা দেখে মানবজাতি যেন হয়ে ওঠে মানবোচিত। রুশ বিপ্লবের শতবর্ষের প্রাপ্তি ও প্রত্যাশার কথা বলতে গেলে বলতে হয়, ১৯১৭ সালের পর থেকে মহান মাও সে তুঙের নেতৃত্বে গণচীন, কিম ইল সুঙের নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক উত্তর কোরিয়া, মহান হো চী মিন-এর নেতৃত্বে ভিয়েতনাম, বিপ্লবী ফিদেল ক্যাস্ত্রোর নেতৃত্বে কিউবাসহ ইউরোপ, এশিয়া-আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার দেশে দেশে সমাজতন্ত্র ও জাতীয় মুক্তির সংগ্রামে প্রেরণা যুগিয়েছে এবং পথ নির্দেশ করেছে মহান অক্টোবর বিপ্লব। ১৯৭১ সনে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ তথা জাতীয় মুক্তির সংগ্রামেও অক্টোবর বিপ্লবের মর্মপ্রেরণা আমাদেরকে উদ্বেলিত করে তুলেছিল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে কমিউনিস্টদের অগ্রণী ভূমিকা ও মুক্তাঞ্চল গড়ে তোলা সত্ত্বেও পার্টি নেতৃত্বের ব্যর্থতা, দুর্বলতা অথবা উদাসীনতার কারণে মুক্তিযুদ্ধের মূল শক্তি গ্রামীণ কৃষক, কারখানার শ্রমিকসহ বিপুল সংখ্যক মধ্যবিত্ত তরুণ মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও দর্শন সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না। রুশ বিপ্লবের মহা-নায়কেরা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করলেও কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে ‘গণমুক্তি ফৌজ’ গঠনে কোনও ভূমিকা রাখেনি। ফলে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে ‘আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংহতি দিবস’ পালন করতে যেয়ে স্বাধীন বাংলায় প্রথম পুলিশের গুলিতে প্রাণ দিতে হল কমিউনিস্টদেরই। ৭১-এর অভিজ্ঞতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে রুশ বিপ্লবের শতবর্ষ আমাদের প্রাপ্তি ও প্রত্যাশার তত্বায়ন নতুন করে করবার সুযোগ এনে দিয়েছে। এখনই সময় বাম বিকল্প গড়ে তোলার। আমরা যারা সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাস করি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করি, মার্কসবাদ লেনিনবাদে আস্থা রাখি, আসুন আমরা সবাই মার্কসবাদের ঐক্য গড়ে তুলি, মানবতার ঐক্য–সমাজতন্ত্রের ঐক্য গড়ে তুলি। শতবর্ষ পর অক্টোবর বিপ্লব হোক আমাদের চলার পথের পাথেয়। লেখক : সাধারণ সম্পাদক, সিপিবি, টাঙ্গাইল জেলা কমিটি

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..