ইরানের পরমাণু চুক্তিতে থাকছে যুক্তরাষ্ট্র

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জেমস ম্যাটিস বলেছেন, তেহরান চুক্তি ভঙ্গ করছে কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন হচ্ছে এমন প্রমাণ না পেলে তার দেশ ইরান পরমাণু চুক্তিতে থাকার ব্যাপারটি বিবেচনা করবে। যুক্তরাষ্ট্র সিনেটের এক শুনানিতে ম্যাটিস একথা বলেন। এর আগে ইরানের পরমাণু কার্যক্রম আরও সীমিত করতে চুক্তি পর্যালোচনায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতকে সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। সিনেটের শুনানিতে তার নতুন এই অবস্থানকে চুক্তির জন্য ইতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ২০১৫ সালে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘বিব্রতকর’ বলে অভিহিত করে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করছে কি না তা বিবেচনায় নিয়ে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে এর ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে ট্রাম্পকে। ইরান চুক্তি বাস্তবায়ন করছে, ট্রাম্পের এমন প্রত্যয়ন না পেলে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে তেহরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সুযোগ পাবে, যা চুক্তিটিকে কার্যত অকার্যকর করে দিতে পারে বলে ধারণা রয়টার্সের। “ইরান চুক্তি বাস্তবায়নে কাজ করছে নিশ্চিত হলে, যদি আমরা বুঝি এই চুক্তিই আমাদের স্বার্থরক্ষায় সেরা, তাহলে স্পষ্টতই এখানে আমাদের থাকা উচিত,” শুনানিতে বলেন ম্যাটিস। চুক্তির ভবিষ্যৎ বিষয়ে ট্রাম্পের বিবেচনা এমন হবে বলেও আশাবাদ মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর। বর্তমান চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করছে বলেও মত দেন তিনি। “কিছু নির্দিষ্ট বিষয় আছে যেগুলো সাময়িকভাবে কার্যকর হচ্ছে না বলে প্রতীয়মান হচ্ছে, তবে সামগ্রিকভাবে ইরান চুক্তির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করছে বলে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মনে করছে। একইরকম ধারণা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থারও,” বলেন তিনি। ম্যাটিসের মন্তব্য নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হোয়াইট হাউজের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ট্রাম্পের প্রত্যয়ন না পেলে ১৫ অক্টোবরের পর তেহরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে কি না কংগ্রেসের বিভিন্ন অংশের নেতারাও সে সম্বন্ধে কিছু বলতে রাজি হননি। যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকান সিনেটররা শুরু থেকেই বারাক ওবামার আমলে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির বিরোধিতা করে আসছেন। এদের মধ্যে উচ্চকণ্ঠ রিপাবলিকান সিনেটর টম কটনের ভাষ্য, নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে ইরানকে হুমকি দিতে প্রেসিডেন্টের উচিত চুক্তি বিষয়ে প্রত্যয়ন না দেওয়া। “সেনাবাহিনীতে আমি একটা বিষয় শিখেছি, তা হলো- প্রতিপক্ষ যখন হাঁটু গেড়ে থাকবে তখন উচিত হচ্ছে তাকে মাটিতে ফেলে শ্বাসরোধ করে মারা,” ৩ অক্টোবর ওয়াশিংটনের ফরেন রিলেশন কাউন্সিলে এমনটাই বলেন কটন। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) চুক্তি নিয়ে ‘পর্যালোচনার’ কথা জানিয়েছিল। ট্রাম্প চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানালেও এর বিস্তারিত বলতে রাজি হননি। একইসময়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি চুক্তি নিয়ে নতুন আলোচনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেন। উত্তর কোরিয়ার ধারাবাহিক পারমাণবিক পরীক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মধ্যে জেসিপিওএ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান চুক্তিতে থাকা প্রভাবশালী অন্য দেশগুলোকেও চিন্তার মধ্যে ফেলেছিল। দেশগুলোর ভাষ্য, ওয়াশিংটন চুক্তি থেকে সরে গেলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা বেড়ে যাবে, শুরু হবে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতা। গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ইউরোপের রাষ্ট্রদূতরা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দেয় তাহলে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর স্বার্থরক্ষায় সম্ভব সবকিছু করা হবে। ফরাসী রাষ্ট্রদূত গেরার্ড অ্যারাউড সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, চুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনার বিষয়টি স্বাক্ষরকারী অন্য দেশগুলো যে মানবে না তা স্পষ্ট।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..