‘ভাল সুরে বলার দিন শেষ’

মিয়ানমারকে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : মিয়ানমার সংকট নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে ভালো কথা বলার সময় শেষ বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি। তিনি বলেছেন, মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। সংকট নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে নিকি হ্যালি এসব কথা বলেন। জাতিসংঘে নিযুক্ত এই মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দেশটিতে অস্ত্র সরবরাহ স্থগিত রাখতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি জনগণের মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান হ্যালি। নিকি হ্যালি বলেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর যে সদস্যদের বিরুদ্ধে নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে, তাদের নির্দেশনা দেওয়ার মতো দায়িত্বশীল পদ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে দিতে হবে। অভিযুক্ত সেনাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের উন্মুক্ত বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের রাজনৈতিক সমাধানে উদ্যোগী হওয়ার কথা বলা হয়। জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেসের মতে, সংকটের মূলে রয়েছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নাগরিকত্ব না থাকা। তাই সমাধানের পূর্ব শর্ত হিসেবে তিনি নাগরিকত্ব দেওয়ার দাবি জানান। সেই সঙ্গে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযান বন্ধ ও সেখানে মানবাধিকার কর্মীদের প্রবেশের দাবি জানান। এর আগে ২৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উন্মুক্ত বৈঠকে মহাসচিব গুতেরেস মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে অব্যাহত সংলাপের ওপর গুরুত্ব দেন। প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে উদারতার পরিচয় দেওয়ার জন্য তিনি বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান। নিরাপত্তা পরিষদের সাত সদস্যের অনুরোধে আয়োজিত এই বৈঠকে চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ স্থায়ী ও অস্থায়ী সদস্যরা বক্তব্য রাখে। সংশ্লিষ্ট দেশ হওয়ায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের প্রতিনিধিরাও এই বৈঠকে অংশ নেন। বেশির ভাগ দেশের প্রতিনিধি মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা বন্ধ ও সেখানে মানবিক সহায়তা দেওয়ার দাবি জানান। অন্যদিকে বরাবরের মতই চীন ও রুশ রাষ্ট্রদূত রাখাইন রাজ্যে চলা সহিংসতার নিন্দা জানান। তবে তাঁরা দুজনেই মিয়ানমারের প্রতি নমনীয় মনোভাব ব্যক্ত করেন। চীনা রাষ্ট্রদূত শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে তার প্রতি সমর্থন জানান। রুশ রাষ্ট্রদূত আরসার কার্যকলাপকে সন্ত্রাসী হিসেবে অভিহিত করেন। আরসার কার্যকলাপের নিন্দা জানান। রোহিঙ্গাদের ‘জাতিগত নিধনের’ অভিযোগের ব্যাপারে আরও সতর্কতার আহ্বান জানান। নিরাপত্তা পরিষদের এই বৈঠকের ভিত্তিতে রোহিঙ্গা সংকট ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কর্মপন্থার একটি রূপরেখা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এর তিনটি প্রধান উপাদান হলো, অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ করা, মানবিক সাহায্য পাঠাতে সব বাধা সরিয়ে নেওয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে সব পক্ষের অংশগ্রহণে রাজনৈতিক সমাধানে উদ্যোগী হওয়া। পরিষদের সব সদস্য তাঁদের ভাষণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..