গার্মেন্ট টিইউসির সমাবেশে বক্তারা

মজুরি না বাড়লে আন্দোলন বিদ্রোহে রূপ নেবে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : চালসহ জিনিসপত্রের দাম চরম বৃদ্ধি পাওয়ার প্রতিবাদে, অবিলম্বে গার্মেন্ট শ্রমিকদের নিম্নতম মূল মজুরি দশহাজার টাকা মোট মজুরি ষোল হাজার টাকা ঘোষণা, শ্রম আইন ও বিধিমালার সকল শ্রমিকবিরোধী ধারা বাতিল করে গণতান্ত্রিক শ্রম আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন, চালসহ জিনিসপত্রের দাম কমানো ও শ্রমিকদের রেশন দেয়া এবং নিরাপদ কারখানার দাবিতে গত ৬ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শ্রমিক সমাবেশ করে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র। এদিন সকাল ১১টায় গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের উদ্যোগে সংগঠনের সভাপতি অ্যাড. মন্টু ঘোষের সভাপতিত্বে এবং মঞ্জুর মঈনের পরিচালনায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কার্যকরি সভাপতি কাজী রুহুল আমীন, সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার, কেন্দ্রীয় নেতা সাদেকুর রহমান শামীম, জিয়াউল কবির খোকন, দুলাল সাহা, এম এ শাহীন, সাইফুল আল মামুন, শফিকুল ইসলাম, রাজু আহমেদ প্রমুখ। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, যারা দশ টাকা দামে চাল খাওয়ানোর অঙ্গীকার করে ক্ষমতায় এসেছে, তাদের শাসনামলে আজ চালের দাম ইতিহাসের সকল দৃষ্টান্ত অতিক্রম করে সর্বোচ্চ। পাঁচ হাজার তিনশত টাকা মজুরির শ্রমিক তো দূরের কথা মধ্যবিত্ত মানুষের পক্ষে বর্তমান বাজারে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। চালসহ জিনিসপত্রের চরম দাম বৃদ্ধির কারণে শ্রমিক জনতা আজ দিশেহারা। মানুষের জীবনকে যারা দুর্বিসহ করে তুলেছে কৃতকর্মের ফল তাদের ভোগ করতে হবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, সমাজের উৎপাদনশীল শ্রমিকরা রেশন পাবার প্রথম হকদার। অবিলম্বে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও শ্রমিকদের জন্য রেশন চালু করতে হবে। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, এই দুর্মূল্যের বাজারে সকলের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৩ সালে যখন চালের কেজি ২৮ টাকা ছিল, তখন গার্মেন্ট শ্রমিকদের মোট নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হয় ৫৩০০ টাকা। বর্তমানে বাজারে ৬০ টাকার নিচে চাল পাওয়া যায় না, বাড়ি ভাড়া, অন্যান্য ব্যায় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে কিন্তু শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে না। উপরন্তু শ্রমিকরা মজুরি বৃদ্ধির দাবি তুললে তাদের উপর নির্মম নির্যাতন নেমে আসে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে গার্মেন্ট শ্রমিকদের নিম্নতম মূল মজুরি দশ হাজার টাকা এবং নিম্নতম মোট মজুরি ষোল হাজার টাকা ঘোষণার দাবি জানান। সমাবেশে বক্তারা আরো বলেন, শ্রম আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অতীতের অভিজ্ঞতা হলো যতবার সংশোধন হয়েছে শ্রম আইন ততই প্রতিক্রিয়াশীল, নির্যাতনমূলক এবং শ্রমিক বিদ্বেষী রূপ ধারণ করেছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, ত্রিশ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ট্রাজেডি হলো ব্রিটিশ ও পাকিস্তানী শাসনের শ্রম আইনের চাইতেও প্রতিক্রিয়াশীল আইন ও বিধিমালা এদেশের শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ক্ষতিপূরণ, ট্রেড ইউনিয়ন, কারখানা স্থানান্তর, চাকুরির শর্তাবলীসহ বিভিন্ন বিষয়ে শ্রম আইন চরমভাবে শ্রমিক স্বার্থবিরোধী। অতীতে শ্রমিকদের সংশোধনী প্রস্তাব গৃহীত না হলেও মালিকদের ইচ্ছা অনুসারে আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন হয়েছে। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, প্রচলিত শ্রম আইন ও বিধিমালা আইএলও কনভেনশন, বিশ্ব মানবাধিকার সনদ ও বাংলাদেশের সংবিধান পরিপন্থী। সমাবেশ থেকে অবিলম্বে শ্রম আইন ও বিধিমালার শ্রমিকবিরোধী সকল ধারা বতিল করে গণতান্ত্রিক শ্রম আইন ও বিধিমালা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়। এছাড়াও সমাবেশ থেকে নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও কারখানা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। নেতৃবৃন্দ মজুরি বৃদ্ধি, গণতান্ত্রিক শ্রম আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন, চালসহ জিনিসপত্রের দাম কমিয়ে শ্রমিকদের রেশন দেয়া, নিরাপদ কর্মস্থলের দাবিতে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রমিকদের জীবনযাত্রা আজ এমনই সংকটাপন্ন অবস্থায় এসে পৌঁছেছে যে, দাবি আদায় না হলে শ্রমিকদের আন্দোলন বিদ্রোহে রূপান্তরিত হবে। সমাবেশে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন। অক্টোবর মাস জুড়ে সকল গার্মেন্ট শিল্পাঞ্চলে মিছিল, সমাবেশ ও পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এ সময়ে চার দাবির সমর্থনে ব্যাপক ভিত্তিতে প্রচার অভিযান পরিচালিত হবে। আগামী ১৩ অক্টোবর ‘গণতান্ত্রিক শ্রম আইন ও বিধিমালা’ শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ঢাকায় বিশাল শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরির গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..