‘এই সমাজ ভাঙ্গিতে হবে এবং ভাঙ্গিতেই হবে’

–কমরেড জসিম উদ্দিন মণ্ডল

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
‘ভদ্রলোকদের দিয়ে হবে না। দাদওয়ালা, পা-ফাটা, হাতুড়ি পেটা, শাবল চালানো, বয়লার মারা, চাষা-ভূষা, শ্রমিক-মেহনতি মানুষ যতদিন পর্যন্ত পার্টিতে না আসবে ততদিন হবে না। এরাই বিপ্লব করবে, এদেরই বিপ্লব দরকার, ভদ্রলোকের না। কৃষক জানে কিভাবে ফসল ফলাতে হয়, শ্রমিক জানে কিভাবে শাবল চালাতে হয়, হাতুড়ি চালাতে হয়, কিভাবে গড়তে হয়-ভাঙ্গতে হয়, তা তারা জানে, ভদ্রলোক জানে না। বহু হরতাল-ধর্মঘটই দেখেছি, রেললাইন উপড়ানো, রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া, সবকিছু অচল করে দেওয়া– এসবই শ্রমিকরা করেছে, ভদ্রলোকরা নয়।’ ‘দরখাস্ত করে, হুজুরের পানিপড়া দিয়ে, স্লোগান দিয়ে এই সমাজ একচুলও পরিবর্তন করা যাবে না। সমাজতন্ত্র ছাড়া কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না। এই সমাজ বড়লোকের সমাজ, শ্রমশোষণের সমাজ, এই সমাজ ভাঙ্গিতে হবে এবং ভাঙ্গিতেই হবে।’ ‘আমি জসিম উদ্দিন মণ্ডল, রেল শ্রমিক। রেলে বয়লার মেরেছি, টনকে টন বয়লার মেরেছি। স্বল্প মাইনে কাজ করেছি। এই হাত দিয়ে ব্রিটিশকে মেরেছি, পাকিস্তানকে তাড়িয়েছি, বহু জোতদার-জমিদারকে উচ্ছেদ করেছি। তোমরা না তরুণ, তোমরা না যুবক– তোমাদের ভয় কিসের! তোমরা পারবে না কেন? এই সমাজ, এই রাষ্ট্র ভাঙ্গা ছাড়া মানুষের মুক্তি আসবে না। শ্রমিক আন্দোলন করেছি, পার্টি করেছি– এই বড়লোকের সমাজ-রাষ্ট্র ভাঙ্গার জন্য। এখনও পার্টি করি, মিছিল করি, মিটিং করি– এই সমাজ ভাঙ্গার জন্য। এই পঁচা-গলা সমাজ ভাঙ্গা ছাড়া মুক্তি আসবে না।’ ‘স্ত্রী-সন্তানকে আমি কখনো সময় দিতে পারিনি– পার্টি, সংগঠন, রাজনীতির কারণে। রেলে চাকুরি করতাম। খুব কম মাইনে ছিলো। ওই টাকা দিয়ে কোনোরকমে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করতাম। আমার স্ত্রীর এ নিয়ে কোনো মাথা ব্যথা ছিলো না। ও ছিলো আমার বড় সমর্থক। পার্টি, রাজনীতি, সংগঠন নিয়ে কোনোদিন কোনো কটূক্তি করেনি। কোনো অভিযোগও ছিলো না। বউ-ছেলেমেয়ে একটা বাসায় রেখে রাতদিন পার্টির কাজ করে বেড়াতাম। খোঁজ-খবরও রাখতে পারতাম না। পার্টির কমরেডরাই ওদের খোঁজ-খবর রাখতো, টাকা দিতো, চাল দিতো, বাজার করে দিতো, জামা-কাপড় দিতো। সামাজিক কোনো অনুষ্ঠানে পার্টির কমরেডরা ওদেরকে নিজের ছেলে-সন্তান ভেবে আদর-আপ্যায়ন করতো। ... স্ত্রীর সহযোগিতা ছাড়া ‘জসিমউদ্দিন মণ্ডল’ হতে পারতাম না, শ্রমিকনেতা হতে পারতাম না, কমিউনিস্ট পার্টিও করতে পারতাম না। ওতো বছর জেল খাটাও হতো না। আমার স্ত্রী যদি সঙ্গ না দিতো, তাহলে আমার হাতের মুঠি মজবুত হতো না। শুধু আমার না এ উপমহাদেশের যত বাম ও কমিউনিস্ট নেতা, তাঁদের স্ত্রীরা যেভাবে সাহায্য করেছেন, দুঃখ-কষ্ট সহ্য করেছেন– তার তুলনা হয় না। যাঁরা সারাজীবন জেল খাটতেন, তাঁদের স্ত্রীরা সারাজীবন তাঁদের সবকিছু আগলে রেখেছিলেন– না রাখলে জেল খাটতে পারতেন না।’ ‘৭৩-এ যখন মস্কোতে যাই মানুষের মধ্যে যে অপরিসীম গতিময়তা দেখেছি, সমাজতন্ত্রের প্রতি যে অবিচল আস্থা লক্ষ্য করেছি সেটা মেকি বলে মনে হয়নি। তা হলে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে সোভিয়েত সমাজের এই অবক্ষয় কি করে হলো, আমি ভাবতেও পারি না। হয়তো খোলা হাওয়ার প্রতি তাদের আস্থা হারাতেও বেশিদিন লাগবে না।’ ‘একজন কমিউনিস্টকে ‘মানুষ’ হতে হয়। যে ‘মানুষ’ না সে কমিউনিস্ট হতে পারে না। নামের মানুষ তো সবাই। কামের (কাজ) মানুষ ক’জন! কমিউনিস্ট ক’জন! মানুষের মানবিক গুণাবলী থাকলেই সে ‘মানুষ’ হয়। কিন্তু কমিউনিস্ট হতে গেলে তার আরো বেশি গুণের দরকার হয়। ইচ্ছে করলে মানুষ যে কেউ হতে পারে। কিন্তু সবার পক্ষে কমিউনিস্ট হওয়া সম্ভব না। কমিউনিস্ট হতে হলে তাকে সর্বক্ষেত্রে কমিউনিস্ট হতে হয়। তার চাল-চলন-কথাবার্তা-আচার-আচরণ-পোশাক-আশাক-ত্যাগ-তিতিক্ষা সবকিছুতে কমিউনিস্ট হতে হয়। তাকে দেশপ্রেমিক হতে হবে, কষ্ট করতে হবে, জেল খাটতে হবে। বিপ্লবের সময় আপনজনের বিরুদ্ধেও দাঁড়াতে হবে। ... একজন কমিউনিস্টকে সবসময় মানুষের সার্বিক মুক্তির আন্দোলনে নিয়োজিত থাকতে হয়। শ্রেণিচেতনার ঊর্ধ্বে উঠতে হয়। কথা ও কাজে মিল রেখে চলতে হয়। সবকিছুতেই সাধারণের স্বার্থ দেখে তাকে কাজ করতে হয়। মধ্যবিত্ত শ্রেণিচেতনা ধারণ করে কমিউনিস্ট হওয়া তো দূরের কথা মানুষও হওয়া যায় না! ’ ‘ হতাশ হলে হবে না। মার্ক্সবাদ আসলোই সেদিন। পৃথিবীর অনেক বয়স হয়েছে। একসময় বিজ্ঞান ছিলো না। মানুষের জ্ঞানও কম ছিলো। একসময় যন্ত্র ছিলো না। মানুষ সহজে ওতো কিছু করতে পারতো না। একবার ভাবো এখন কত কিছু কত সহজে করা যায়। তাড়াহুড়ো করে কিছু হয় না। আম গাছ দেখো না, তাল গাছ দেখো না, নারকেল গাছ দেখো না, লাগালেই কি তাতে ফল ধরে? সমাজতন্ত্র তো একটা গাছের ফল নয়, যে পেড়ে খাবে। এটা নাম নয়, এটা বিজ্ঞান। এটার জন্য লড়াই করতে হয়। ধর্মান্ধ, অশিক্ষিতদের দিয়ে সে লড়াই হয় না। এই লড়াই মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদের দর্শনের আলোকে কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষকে তাত্ত্বিকভাবে ও প্রায়োগিকভাবে শিক্ষিত করে তোলার মধ্যদিয়েই সম্ভব। ’ ‘মধবিত্তরা স্বপন দেখে তাড়াতাড়ি বিপ্লব হবে। তারা সভাপতি হবে, সাধারণ সম্পাদক হবে, মালিক হবে। সোভিয়েত ইউনিয়ন যখন ছিলো তখন এসব বিপ্লবীদের শুধু ছেলে-মেয়ে নয়, শালাশালীরাও মস্কো গেছে– পড়াশুনা করতে। এইসব ভদ্রলোকদের দিয়ে বিপ্লব হবে না, হয়নি। এদের দিয়ে এক পার্টি থেকে আরেক পার্টিতে যাওয়ার ডিগবাজি বিপ্লব হয়েছে। মধ্যবিত্তরা জনগণকে, মানুষকে কিছু দিতে পারে না। ’ ‘কমিউনিস্ট পার্টি করি এবং বুঝেই করি। হিসেব নিকেশ করেই করি এবং জীবনে যদি সবচেয়ে ভাল কাজ করে থাকি এই কমিউনিস্ট পার্টিতে এসেই, সেটা আমি হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। আমি দুইটা শ্রেণিতে বিশ্বাস করি। শুনে রাখেন দুইটা শ্রেণি। একটা গরীব শ্রেণি, একটা ধনিকশ্রেণি। একটা বড় লোক, একটা গরিব লোক। গরিব লোককে না ঠকালে, গরিবের বাকি না দিলে, গরিবকে পয়সা কম না দিলে কোন শালা বড়লোক হতে পারেনা। আমি এই রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। এজন্যই আমি কমিউনিস্ট পার্টি করি। বুঝেই করি।’ ‘এই সমাজ আমাকে ভাঙ্গিতেই হইবে। দুটো কারণ বলি, কেন ভাঙতে চাই এই সমাজ? এত সুন্দর সমাজ, এত উন্নতি হচ্ছে আমি ভাঙতে চাই এই জন্যেই, আমি রেলে করে ৬০ গাড়ি চাল নিয়ে গেলাম; বাড়িতে এসে খাটে বসেছি আমার বৌ এতটুকু ভাত দিচ্ছে। আমি বললাম এই ভাতে কিছু হয়? বললো- চাল এতটুকুই ছিল। তাহলে ৬০ গাড়ি চাল নিয়ে আসলাম, আর আমার ঘরে চাল নাই!!! গুষ্টি মারি আমি এই সমাজের, গুষ্টি মারি এই আইনের।’ ‘কোন শালার আইন মানা হবে না, কোন শালার আইন মানা হবে না। আমি বৃটিশের আইন মানি নাই, আমি পাকিস্তানের আইন মানি না। এই পাকিস্তানের জন্মই আমরাই স্বীকার করিনি। আবার সেই মুক্তিযুদ্ধ নিয়েই কত টালবাহানা হচ্ছে। কত পিরিতের কথা। তাই আমি বলতে চাই, আপনারা বহু কষ্ট করে আসছেন, বহু কষ্ট করে কমিউনিস্টদের মিছিলে আসছেন, এটা ছোট লোকদের পার্টি, এটা মেহনতি মানুষের পার্টি, এটা গরিব লোকদের পার্টি। এই পার্টি করতে হবে, এই পার্টি দিয়েই বিপ্লব করতে হবে, এই পার্টিতেই মরতে হবে, এই পার্টিতেই আসতে হবে। এই সমাজ ভাঙ্গিতেই হবে।’ ‘ আমি তৈরি করবো কাটারিভোগ চাল। আমি সেই ধান বুনবো। সেই ধান নিড়াবো। সেই ধান কাটবো। বাড়িতে নিয়ে এসে সেই ধান মাড়াই করবো। ধান বাইর করবো। সেই ধান আমার বউ সিদ্ধ করবে, শুকাবে। ঢেঁকিতে পাড় দিয়ে চাল বের করবে। গন্ধে ঘর ভরে যায়। সেই চাল আমার ছেলে খেতে পাবে না। সেই চাল আমার মেয়ে খেতে পাবে না। সেই চাল খাবে কিডা? আল্লাহ্ যার কপালে রেখেছে। কার কপালে রেখেছে? গুলশানে যে থাকে। ধানমন্ডিতে যে থাকে। বনানীতে যে থাকে। জমিদারের পুলা যে। জমিদারের মেয়ে যে। জোতদারের মেয়ে যে। তারাই খাবে কাটারিভোগ। তৈরি করবো আমি, আর খাবে সে।’ ‘চোখের সামনে আমি আমরা, আমরা ত ব্রিটিশকে তাড়ালাম, বেঁচে আছি ত এখনো। ব্রিটিশকে তাড়িয়েছি আমরা, হ্যাঁ, টাম ভেঙেছি এ হাত দিয়ে। আমি হাত দিয়ে মোটর ভেঙেছি। গাড়ি ভেঙেছি। সাহেবের গাড়ি ভেঙেছি। সাহবকে মেরেছি। গুলি করেছি। করেছি। বিলেতি কাপড় পুড়াইছি। বিদেশি বর্জন করেছি। লবণের হাড়িঁ ভেঙে দিছি। বাড়ি বাড়িতে ঢুকে। আমরা ছেলে মেয়েরা। বাচ্চা ছেলে মেয়েরা। বিলেতি লবণ খাওয়া যাবে না। ভাঙেন হাঁড়ি, নইলে থুতু দেব লবণে। আমি মুসলমান। হিন্দুর বাড়িতে গিয়ে থুতু দেব। হিন্দু পাগল হয়ে যাবে। মুসলমান আমার বাড়ির রান্নাঘরে ঢুকেছে। তাড়াতাড়ি হাঁড়ি ভেঙে দিল। ব্রিটিশ তাড়িয়েছি। পাকিস্তানের বিরোধিতা করেছিলাম আমরা কমিউনিস্টরা, অস্বীকার করলে ত হবে না। আমরা জন্ম থেকেই ত বলেছিলাম, পাকিস্তানের তখন মায়ের পেটে জন্মই হয়নি। আমরা তখন কলকাতা মনুমেন্টে বলেছিলাম, সিপিআই (কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া), আমরা তখন একসাথে ছিলাম, জয়েন্ট ভারত ছিল, এ আজাদি ঝুটা হ্যায়, লাখো ইনসান ভুখা হ্যায়, আমরা বলেছি। এটা আজকে এদেশের ছেলেদের, বিশেষ করে ইয়ং ছেলে মেয়েদের শিখতেই হবে। জানতেই হবে। এ আজাদি ঝুটা হ্যায়, লাখো ইনসান ভুখা হ্যায়। হতাশ হওয়ার তো কোন কারণ নাই, আমরা তো বলেছিলাম পাকিস্তান হলে সর্বনাশ হবে, গরিব মুসলমান মারা যাবে, পাকিস্তানের বড়ো লোক মুসলমান আরো বড়ো লোক হবে। পাকিস্তান হলে হিন্দু মুসলমান রায়েট হবে। হ্যাঁ, শুধু রায়ট হবে না, মুসলমান মুসলমান ভাই ভাই, ইসলামের দেশ হবে আল্লাহ’র দেশ, আমরা বলেছিলাম মিথ্যা কথা- তা হতে পারে না। হয় না। দেখলাম। মুক্তিযুদ্ধের সময় কি দেখলাম? পাঞ্জাবি মুসলমান পাঞ্জাবি, লা ইলাহা ইল্লাল্লা মোহাম্মদে রসুল্লাহ বিশ্বাসী পাঞ্জাবি, আমার মেয়েকে ধর্ষণ করল, আমার বউকে ধর্ষণ করল, আমার নাতি নাতনিকে ধর্ষণ করল, সে পাঞ্জাবি আল্লাহু আকবর বলে তাড়া করল। আমরা কোথায় গেলাম। সব ইন্ডিয়ায় গেছিলাম। কোন ইন্ডিয়ায়? যে ইন্ডিয়ায় যে হিন্দুকে ১৬ আগস্ট রায়েট করে এখানে মারলাম। বাড়ি পোড়ালাম। তার মেয়েকে ধর্ষণ করলাম। তার বউকে ধর্ষণ করলাম। তার বাড়ি লুট করে নিলাম। তার দোকান লুট করে নিলাম। আবার পাঞ্জাবি মুসলমান তাড়া করল, বাপে পুতে দৌড়াতে দৌড়াতে গেলাম বর্ডারে। হিন্দু দুহাত বাড়িয়ে বলেছিল, ‘আয়, তুই আমার ভাই। আমিও তোর ভাই। তুইও বলিস নি পাকিস্তান। আমিও বলিনি হিন্দুস্তান।’ যদি ওই দিন ইন্ডিয়ার হিন্দুরা ঢুকতে না দিত? তাহলে পেছনের দিকে কে দাঁড়াইছিল বেনোয়েট নিয়ে? মুসলমান পাঞ্জাবি। সেই সাধের পাকিস্তান ইসলামের পাকিস্তান থাকল না। তাহলে আমরা কমিউনিস্টরা দশ বছর আগে যেটা বলেছিলাম, তাহলে আমাদের কথাটা কারেক্ট। এ কথাটা অন্যকোন পার্টি বলতে পারেনি। ... আরো বলতে চাই, যেসব স্কুল কলেজ ভার্সিটি হইছে সব ভন্ডামি। এখানে যা শিখানো হয়, মানুষ হচ্ছে না, চোর হচ্ছে, বাটপার হচ্ছে, গুণ্ডা হচ্ছে, মস্তান হচ্ছে, লুট করছে, দখল করছে, খুন করছে, ধর্ষণ করছে, বিএ পাস এমএ পাস ছেলে। এটা যৌবনকালে দেখি নাই। আমার বাপ দেখে যায় নি। আমার দাদারা ভাবতেই পারেনি, এ রকম দেশ হবে। তারা মরে বেচেঁ গেছে। আমি দেখছি যে, ব্রিটিশ দেখেছি, সাধের পাকিস্তান দেখেছি, আমি সাধের সোনার বাংলা দেশ দেখছি... ’ ‘পার্টির ভিতরে জসিমউদ্দিন মণ্ডলের সাথে যে বন্ধুত্ব রয়েছে, তা আর কারো সাথে নাই। জেলখানার ভিতরে দু’জনের বন্ধুত্ব দেখে লোকজন বলতো মানিকজোড়। সে খুবই ভালো মানুষ। রেল শ্রমিক। শ্রমিক আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব। শ্রমিকের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আজীবন নিবেদিত প্রাণ। জীবনে একদিনের জন্যও কোথাও আপোস করেনি। ভালো বক্তা। তার বক্তব্য শুনে আমজনতা অনুপ্রাণিত হয়। বিপ্লবী শ্রমিক নেতা। শ্রমিকশ্রেণি থেকে উঠে আসা নেতা। কমিউনিস্ট পার্টির নেতা। যেদিন কমিউনিস্ট পার্টিতে জসিমের মতো নেতা সংখ্যার দিক থেকে বেশি হবে সেদিন কমিউনিস্ট পার্টি শ্রমিকশ্রেণির অগ্রবাহিনী পার্টি হিসেবে গড়ে উঠবে। জসিম এবং আমার তুই তুই সম্পর্ক। জসিম আর বরুণ রায় এক বয়সী ছিলো। জসিম বক্তব্যে প্রায়ই একটা কথা বলেন, ‘এ সমাজ বড়লোকের সমাজ, শোষকের সমাজ, গরিব মারার সমাজ– এই সমাজ ভাঙ্গতে হবে এবং ভাঙ্গিতেই হবে।’ –কমরেড কামাখ্যা রায় চৌধুরী’ (কমরেড জসিম উদ্দিন মণ্ডলের বিভিন্ন সময়ে করা উক্তি ও বক্তব্য সংগ্রহে সহায়তা করেছেন শেখ রফিক)

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..