জাতির শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন

জসিম মণ্ডলের আদর্শের পথ ধরেই বিপ্লবী আন্দোলন এগিয়ে যাবে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

শহীদ মিনারে কমরেড জসিম উদ্দিন মণ্ডলের প্রতি জাতির ফুলেল শ্রদ্ধা [ ছবি: রতন দাস ]
একতা প্রতিবেদক : ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক, মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী, এ দেশের শ্রমিক আন্দোলনের কিংবদন্তি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা, বর্ষীয়ান কমিউনিস্ট নেতা কমরেড জসিম উদ্দিন মণ্ডলের প্রতি ৩ অক্টোবর জাতির পক্ষ থেকে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এদিন সকালে বারডেম-এর হিমঘর থেকে কমরেড জসিম মণ্ডলের মরদেহ সিপিবি’র কেন্দ্রীয় অফিস মুক্তিভবনে নিয়ে আসা হয়। কেন্দ্রীয় কমিটিসহ সিপিবি’র বিভিন্ন জেলা, থানা ও শাখা কমিটি এবং বিভিন্ন গণসংগঠনের পক্ষ থেকে তার মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর পার্টির পক্ষ থেকে সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা সহিদুল্লাহ চৌধুরী, মনজুরুল আহসান খান, কন্ট্রোল কমিশনের সদস্য মোর্শেদ আলী, সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ, কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য লুৎফর রহমান এসময় উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে কমরেড জসিম উদ্দিন মণ্ডলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, কমরেড জসিম মণ্ডলের মৃত্যুতে কমিউনিস্ট আন্দোলনের এক সূর্য অস্তমিত হলো। আজীবন বিপ্লবী কমরেড জসিম উদ্দিন মণ্ডল তরুণদের স্বপ্নের নায়ক। তিনি হাজার হাজার তরুণকে কমিউনিস্ট আদর্শ ও আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করেছেন। তার দেখানো আদর্শের পথ ধরেই শ্রমিক শ্রেণি বিপ্লবী আন্দোলনকে এগিয়ে নেবে। শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় সম্পাদক জলি তালুকদার ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুহুল আমিন। মুক্তিভবনে শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষে সিপিবি’র নেতা-কর্মীরা কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনাল গেয়ে কমরেড জসিম মণ্ডলকে বিদায় দেন। সেখান থেকে মরদেহসহ একটি শোক র্যা লি নিয়ে সিপিবি নেতাকর্মীরা ১১ টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পৌঁছান। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য কিংবদন্তি এই শ্রমিকনেতাকে শহীদ মিনারে রাষ্ট্রীয়ভাবে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর বিভিন্ন দল, সংগঠন ও ব্যক্তির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। সিপিবি’র কেন্দ্রীয় কমিটি, বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা কমিটি ছাড়াও শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে অক্টোবর বিপ্লবের শতবর্ষ উদ্যাপন কমিটি, খালেকুজ্জামানের নেতৃত্বে বাসদ, হাসানুল হক ইনু ও শিরিন আক্তারের নেতৃত্বে জাসদ, মতিয়া চৌধুরী, নূরুল ইসলাম নাহিদ, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, অসীম কুমার উকিল, আফজালুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, নজরুল ইসলাম খান, আব্দুল্লাহ আল নোমানের নেতৃত্বে বিএনপি, ফজলে হোসেন বাদশার নেতৃত্বে ওয়ার্কার্স পার্টি, শরীফ নূরুল আম্বিয়ার নেতৃত্বে জাসদ, সাইফুল হকের নেতৃত্বে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জোনায়েদ সাকির নেতৃত্বে গণসংহতি আন্দোলন, শুভ্রাংশু চক্রবর্তীর নেতৃত্বে বাসদ (মার্কসবাদী), দিলীপ বড়ুয়ায় নেতৃত্বে সাম্যবাদী দল, ইসমাইল হোসেনের নেতৃত্বে ন্যাপ, অধ্যাপক আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বে ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, মোশরেফা মিশুর নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বে নাগরিক ঐক্য, আমিরুন নূজহাত মণীষার নেতৃত্বে জাতীয় গণফ্রন্ট, নাসির উদ্দিন নাসুর নেতৃত্বে গণমুক্তি ইউনিয়ন, অ্যাড. সুব্রত চৌধুরীর নেতৃত্বে গণফোরাম, অ্যাড. এস এম সবুর ও আসাদুল্লাহ তারেকর নেতৃত্বে ঐক্য ন্যাপ, মাহমুদুর রহমান বাবু ও ডা. শাহাদাৎ হোসেনের নেতৃত্বে গণতন্ত্রী পার্টি, নূর মোহাম্মদ তালুকদারের নেতৃত্বে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন, শাহরিয়ার কবিরের নেতৃত্বে ৭১-এর ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের নেতৃত্বে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি, কামাল লোহানী ও ড. সফিউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে উদীচী, অধ্যাপিকা মাহফুজা খানমের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, হায়দার আনোয়ার খান জুনোর নেতৃত্বে গণসংস্কৃতি ফ্রন্ট, গোলাম কুদ্দুসের নেতৃত্বে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, মামুনুর রশীদ ও মান্নান হীরার নেতৃত্বে আরণ্যক, আজাদ আবুল কালাম পাভেলের নেতৃত্বে প্রাচ্যনাট। ফুলেল শ্রদ্ধায় কমরেড জসিম মণ্ডলকে শেষ বিদায় জানায় ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, রেল শ্রমিক ইউনিয়ন, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা, কৃষক সমিতি, ক্ষেতমজুর সমিতি, ছাত্র ইউনিয়ন, যুব ইউনিয়ন, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ, বিশ্ব শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন, মহিলা পরিষদ, গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি, কৃষিবিদ ইউনিয়ন, ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস ফর এনভায়রনমেন্ট ডেভলপমেন্ট, ট্যানারী ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন, মণি সিংহ-ফরহাদ ট্রাস্ট, প্রগতিশীল ছাত্র জোট, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, ছাত্র ঐক্য ফোরাম, নতুন দিগন্ত, প্রগতি লেখক সংঘ, নিজেরা করি, জনউদ্যোগ, আদিবাসী যুব পরিষদ, মুক্তিসংগ্রাম জাদুঘর, জাতীয় শ্রমিক জোট, যুব মৈত্রী, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন, শিক্ষা বার্তা, জাতীয় শ্রমিক জোট, জাতীয় কৃষক সমিতি, গণসংগীত সমন্বয় পরিষদ, ছাত্রলীগ (জাসদ), শ্রমিক ফেডারেশন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, গণমুক্তি, আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, নাগরিক ঐক্য, প্রাচ্যনাট, বিলস, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, সাপ্তাহিক একতা, দেশটিভি, ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্র ঐক্য ফোরাম, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, ৭১-এর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী, ড্রাইভার্স ইউনিয়ন, সংযুক্ত শ্রমিক ফেডারেশন, পিটিবি নিউজ, সৎসঙ্গ ফাউন্ডেশন, বহুমুখী শ্রমজীবী সমিতি ইত্যাদি সংগঠন। আরও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ব্যারিস্টার আমির-উল ইসলাম, অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, ঢাবির ভিসি আখতারুজ্জামান, ঢাবির সাবেক ভিসি আআমস আরেফিন সিদ্দিক, ভাষা সংগ্রামী কমরেড আব্দুল মতিনের স্ত্রী কমরেড গুলবতুন নেসা মনিকা, সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল, নাট্যব্যক্তিত্ব আশিস খন্দকার, নাট্য সংগঠক অধ্যাপক সামিনা লুৎফা নিত্রা, বাচিক শিল্পী ভাস্বর বন্দোপাধ্যায়, ভারতের বামপন্থী নেতা কমরেড অশোক ঘোষ। শহীদ মিনারে কমরেড জসিম উদ্দিনের বর্ণাঢ্য জীবন নিয়ে কথা বলেন সিপিবি’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মো, শাহ আলম, কমরেড জসিম উদ্দিন মণ্ডলের বড় মেয়ে সালেহা মনা। কবিতা আবৃত্তি করেন বিশিষ্ট আবৃত্তিকার বেলায়েত হোসেন। এখানে শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ কাফী রতন ও উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন। সমবেত কণ্ঠে কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনাল গেয়ে কমরেড জসিম মন্ডলের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে। দুপুরে কমরেড জসিম উদ্দিন মণ্ডলের মরদেহ নিয়ে সিপিবি’র সহকারি সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ জহির চন্দনের নেতৃত্বে পার্টি, যুব-ছাত্র-কৃষক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দের পঁচিশ সদস্যের একটি দল পাবনার ঈশ্বরদীর উদ্দেশে যাত্রা করে। প্রতিনিধি দলে ছিলেন সিপিবির উপদেষ্টা মনজুরুল আহসান খান, প্রেসিডিয়াম সদস্য রফিকুজ্জামান লায়েক, আবদুল্লাহ কাফী রতন, সম্পাদক আহসান হাবিব লাবলু, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাদেকুর রহমান শামীম, কৃষক সমিতির সম্পাদক নিমাই গাঙ্গুলী, যুব ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা খান আসাদুজ্জামান মাসুম, ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী প্রমুখ। শেষযাত্রায় ঈশ্বরদীর পথে রাজবাড়ী শহর, কুষ্টিয়ার কুমারখালী, কুষ্টিয়া শহর এবং সবশেষে দৌলতপুর উপজেলায় জসিম মন্ডলের গ্রাম হৃদয়পুরের পার্শ্ববর্তী ছাতারপাড়া বিদ্যালয় মাঠে সর্বস্তরের জনগণ শ্রদ্ধা নিবেদন করে। পরদিন সকালে জসিম মন্ডলের বাসভবনের কাছে তার নিজের হাতে গড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে শ্রদ্ধা জানানো হয়। সকাল ৯ টা থেকে ঈশ্বরদী কেন্দ্রিয় ঈদগাহ ময়দানে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য মরদেহ রাখা হয়। এসময় অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আরও ছিলেন সিপিবি নেতা শাহদাত হোসেন, কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য কমরেড এনামুল হক, ইসমাইল হোসেন, আমিনুল ফরিদ, কেন্দ্রিয় প্রতিনিধিদল, পাবনা, খুলনা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, বগুড়া, রাজশাহী, রংপুর, নওগাঁ, নাটোর, সিরাজগঞ্জ জেলার নেতৃবৃন্দ। সকাল ১০ টায় জেলা প্রশাসনের পক্ষে ঈশ্বরদীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গার্ড অব অনার প্রদান করেন। জানাজা শেষে ঈশ্বরদী কেন্দ্রিয় গোরস্তানের মুক্তিযোদ্ধা কর্ণারে স্ত্রী জাহানারা খাতুন মরিয়মের পাশের কবরে তাকে সমাহিত করা হয়। গত ২ অক্টোবর ভোরে রাজধানীর হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ৯৭ বছর বয়সী কমরেড জসিম উদ্দিন মণ্ডল। তার মৃত্যুতে শোকাহত বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ৩ অক্টোবর দেশব্যাপী শোকদিবস পালন করে। এদিন সারাদেশের সিপিবি কার্যালয়সমুহে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়; নেতা-কর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন। বিভিন্ন স্থানীয় শোকর্যা লি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রথম পাতা
জনজীবনের ওপর ধারাবাহিক আক্রমণ তুমুল আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে
‘জেরুজালেম ইসরাইলের রাজধানী’, স্বীকৃতি যুক্তরাষ্ট্রের
সিপিবি’র কড়া প্রতিবাদ
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী হস্তক্ষেপ প্রতিহত কর
স্বাধীন হলাম মুক্তি পেলাম না!
স্বামীর লাঠির আঘাতে মৃত্যু উদীচী কর্মী লিজার
ডাকসু’র দাবিতে উন্মুক্ত সংলাপ ১৩ ডিসেম্বর অনশনে শিক্ষার্থী, ছাত্র ইউনিয়নের সংহতি
চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সিপিবি নেতাদের সাক্ষাৎ
রংপুর সিটিতে সিপিবি-বাসদের প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুস
মানবতাবিরোধী অপরাধে ৭ রাজাকারের বিরুদ্ধে মামলা
৫৪ শতাংশের বেশি নারী সহিংসতার শিকার
‘চিনেছি-জেনেছি-বুঝেছি’

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..