মৃত্যুতে নিঃশেষ নয় তোমার স্বপ্ন

জীবনের রেলগাড়ি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার কালিদাসপুর গ্রামে নানার বাড়িতে ১৯২০ সালে জন্ম গ্রহণ করেন কমরেড জসিম উদ্দিন মণ্ডল। তার বাবার নাম হাউস উদ্দিন মণ্ডল, মায়ের নাম জহুরা খাতুন। এক বোন, ছয় ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয় জসিম মণ্ডলের বাবা রেলে চাকরি করতেন। বাবার চাকরির কারণে সিরাজগঞ্জ, রানাঘাট, পার্বতীপুর, ঈশ্বরদী ও কলকাতায় শৈশব কাটে তার; কলকাতার নারকেলডাঙা রেল কলোনিতে বসবাসকালে মাত্র ১৩-১৪ বছর বয়সে মিছিলে যোগ দিয়ে জড়িয়ে পড়েন রাজনীতিতে। ১৯৪০ সালে শিয়ালদহে মাসিক ১৫ টাকা মাইনেতে রেলের চাকরিতে যোগ দেন। রেল ইঞ্জিনে কয়লামারা- ফায়ারম্যানের চাকরির পাশাপাশি ক্রমেই হয়ে ওঠেন লাল ঝাণ্ডার একজন সক্রিয় কর্মী। হন রেল রোড ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সংগঠক, একই বছর ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই)’র সদস্য পদ লাভ করেন। ১৯৪২ সালে বাল্যবন্ধু আফসারের বোন ভাললাগার মানুষ জাহানারা খাতুন মরিয়মকে বিয়ে করেন জসিম মণ্ডল। এই দম্পতি পরে ছয় সন্তানের জনক-জননী হন। ১৯৪৬ এর নির্বাচনে রেল আসনে কমরেড জ্যোতি বসু’র নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় অংশ নেন। ওই নির্বাচনে কমিউনিস্ট পার্টির তিন জন জয়লাভ করেন, তার মধ্যে কমরেড জ্যোতি বসু ছিলেন অন্যতম। ১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে দেশবিভাগের পর জসিম মন্ডল পার্বতীপুর এবং তার বাবা ঈশ্বরদীতে বদলি হয়ে আসেন। দুই বছর পর রেলের রেশনে চালের পরিবর্তে কর্তৃপক্ষ ’খুদ’ সরবরাহ করলে রেল শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃত্বে ‘খুদ স্ট্রাইকের’ অপরাধে জসিম উদ্দিন মণ্ডলসহ ছয় নেতার বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি হয়। ২১ সেপ্টেম্বর পুলিশ গ্রেপ্তার করলে রেল কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরিচ্যুত করে। কারা অভ্যন্তরে ঘানি টানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ঘানি ভেঙ্গে ফেলার অপরাধে জসিম মণ্ডলকে নির্মম শারীরিক শাস্তি দেয়া হয়। নির্যাতনের বিরুদ্ধে তিনি অনশন পালন করেন। ১৯৫৪ সালে তিনি মুক্তি পান। মুক্তি পাওয়ার কিছুদিন পর ফের নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার হন। দুই বছর পর মুক্তি লাভ করেন। ১৯৬২ সালের দিকে আবার গ্রেপ্তার হন, এবারও কারাবাস ছিল দুই বছরের। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ৫১ বছর বয়সের জসিম মণ্ডল সংগঠক ও উদ্দীপক হিসেবে ব্যাপক ভুমিকা রাখেন। ১৯৭৩ সালে ট্রেড ইউনিয়ন নেতা হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভ্রমণ করেন। ১৯৯৩ সালে সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হন, ২০১২ সালে হন উপদেষ্টা। আমৃত্যু এ দায়িত্ব তিনি পালন করেন। কমরেড জসিম মণ্ডল বাংলাদেশ রেল শ্রমিক ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সহসভাপতি ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রেরও উপদেষ্টা ছিলেন। ২০১৭, ২ অক্টোবর সকাল ৬টায় অনলবর্ষী বক্তা, আজীবন সংগ্রামী কমরেড জসিম উদ্দিন মণ্ডল ঢাকার হেলথ এন্ড হোপ হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
প্রথম পাতা
জনজীবনের ওপর ধারাবাহিক আক্রমণ তুমুল আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে
‘জেরুজালেম ইসরাইলের রাজধানী’, স্বীকৃতি যুক্তরাষ্ট্রের
সিপিবি’র কড়া প্রতিবাদ
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী হস্তক্ষেপ প্রতিহত কর
স্বাধীন হলাম মুক্তি পেলাম না!
স্বামীর লাঠির আঘাতে মৃত্যু উদীচী কর্মী লিজার
ডাকসু’র দাবিতে উন্মুক্ত সংলাপ ১৩ ডিসেম্বর অনশনে শিক্ষার্থী, ছাত্র ইউনিয়নের সংহতি
চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সিপিবি নেতাদের সাক্ষাৎ
রংপুর সিটিতে সিপিবি-বাসদের প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুস
মানবতাবিরোধী অপরাধে ৭ রাজাকারের বিরুদ্ধে মামলা
৫৪ শতাংশের বেশি নারী সহিংসতার শিকার
‘চিনেছি-জেনেছি-বুঝেছি’

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..