রাজপথে বামপন্থি

জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা বন্ধ করতে হবে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ। গত ৮ সেপ্টেম্বর দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির এক সভায় এ দাবি জানানো হয়। এতে দলের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ, জাহেদুল হক মিলু, রাজেকুজ্জামান রতন। সভার এক প্রস্তাবে নতুন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, ‘কিছুদিনের মধ্যে প্রতি ইউনিট (কিলোওয়াট-ঘণ্টা) বিদ্যুতের দাম ৩০ থেকে ৩৫ পয়সা বাড়তে পারে। তবে সরকার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি) সরাসরি জ্বালানি তেল আমদানির অনুমতি দিলে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন পড়বে না।’ মন্ত্রীর এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সভায় বলা হয়, পিডিবি কোনো ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান না, সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। ফলে পিডিবি কেন তেল আমদানি করবে? মন্ত্রীর এ প্রস্তাবে দুর্নীতি-লুটপাটের আরেকটি খাত যুক্ত হবে। সভায় বলা হয়, বিপিসি যে দামে তেল আমদানি করবে তার উপর আমদানি শুল্ক, ভ্যাট, ট্যাক্স ইত্যাদি বাদ দিয়ে পিডিবিকে সরবরাহ করলেই তো দাম বাড়ানোর কোনো প্রয়োজন হয় না। তাছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যথেষ্ট কমলেও দেশে কমানো হচ্ছে না। তারা জ্বালানি তেলের দাম কমানো ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি নয়, কমানোর জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। প্রসঙ্গত, তেলভিত্তিক বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সামিট, ওরিয়ন, ইউনাইটেড পাওয়ারসহ অনেককেই সরকার সরাসরি তেল আমদানির অনুমতি দিয়েছে। তেল আমদানি করলে এসব প্রতিষ্ঠান সরকারের কাছ থেকে ১০ শতাংশ হারে প্রণোদনা পেয়ে থাকে। কিন্তু প্রণোদনা পেয়ে কম দামে তেল আমদানির সুযোগ পেলেও তাদের উৎপাদিত বিদ্যুৎ বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রেন্টাল, কুইক রেন্টালকে মুনাফার সুযোগ দিতেই সরকার এ ব্যবস্থা করেছে। সভার প্রস্তাবে অবিলম্বে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর অপতৎপরতা বন্ধ করে দাম কমানোর দাবি জানানো হয়। সভার প্রস্তাবে বলা হয়, পত্র-পত্রিকার খবর অনুযায়ী আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে বিইআরসি গণশুনানি করার কথা। আমরা মনে করি দাম বৃদ্ধি নয়, বিদ্যুতের দাম কমানোর জন্য গণশুনানি করা প্রয়োজন। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমায় বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কমছে। বিইআরসি দাম কমানোর জন্য গণশুনানি না করলে প্রতিবারের মতোই এ গণশুনানি গণপ্রতারণা হিসেবে গণ্য হবে। একই সঙ্গে সভায় বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর অপতৎপরতার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..