যুব ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ [ ছবি:  রতন দাস ]
একতা প্রতিবেদক : লড়াই সংগ্রামের ও গৌরবের সংগঠন বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। ১৯৭৬ সালে গত ২৮ আগস্ট বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা লাভ করে। যুবকদের কর্মসংস্থানের আন্দোলনে, জাতীয় সম্পদ রক্ষার আন্দোলনে, ‘ঘুষ ছাড়া চাকরি চাই’ আন্দোলনে রাজপথে থেকে লড়াই করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে মুক্তিভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল। আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, তারিক হাসান মিঠুল, হাফিজ আদনান রিয়াদ, আতিকুল হক খাঁন, তসলিম সাখাওয়াত, রিয়াজ উদ্দিন, সুমনা সোমা, জোনাকী জাহান, খান আসাদুজ্জামান মাসুম, ত্রিদিব সাহা, রাসেল ইসলাম সুজন, মতিউর রহমান প্রমুখ। আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন শিশির চক্রবর্তী। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, হাজারো বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। আজকে চাকরির অভাবে হাজারো যুবক বিপথগামী হচ্ছে। তারা সমাজের সম্পদ না হয়ে বোঝা হিসেবে নিদারুণভাবে দিনাতিপাত করছে। তাদের জন্য কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করতে হবে। তাদের জন্য ঘুষ ছাড়া চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে। সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন তার জন্মলগ্ন থেকেই জাতীয় সম্পদ রক্ষার জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করে যাচ্ছে। হাজার হাজার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য রাজপথে আন্দোলন করছে। ভবিষ্যতেও রাষ্ট্রের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে যুব ইউনিয়ন রাজপথে তাদের লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। রাষ্ট্রের যেকোনো সমস্যায় রাজপথে থেকে সংগ্রাম চালিয়ে যাবে বলেও বক্তার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। যুবনেতা আমির ও জসিমের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কমিটির সভাপতি যুবনেতা আমির হোসেনসহ গেপ্তারকৃত ১৩ শিক্ষক এবং কক্সবাজারে যুব ইউনিয়নের সহ- সাধারণ সম্পাদক জসিম আজাদের উপর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজনে গত ২৮ আগস্ট বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়। যুব ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শিশির চক্রবর্তী, ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি যুবনেতা রিয়াজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আশিকুল ইসলাম জুয়েল প্রমুখ। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক যুবনেতা হাফিজ আদনান রিয়াদ। সমাবেশে বক্তারা বলেন, সরকার তার ক্ষমতাকে ধরে রাখতে দমনপীড়নের পথ বেছে নিয়েছে। এ কারণে তারা হীনস্বার্থে রাষ্ট্রদ্রোহের মতো কঠোর আইন প্রয়োগেও কার্পণ্য করছে না। চট্টগ্রামে নবম শ্রেণির সৃজনশীল প্রশ্নে বঙ্গবন্ধুকে হেয় করা হয়েছে বলে হাস্যকর অভিযোগে ১৩জন শিক্ষককে সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে কক্সবাজারের একজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করায় যুবনেতা ও সাংবাদকি জসিম আজাদকে কুখ্যাত ৫৭ ধাারার মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যে পুলিশ প্রশাসন ধর্ষক-খুনিদের, দুর্নীতিবাজদের গ্রেপ্তার করতে পারে না তারাই সরকারের নিপীড়নমূলক আইন প্রয়োগে যথেষ্ট তৎপর হয়ে উঠেন। দুর্নীতি, লুটপাটের ব্যবস্থার সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে প্রশাসনের কর্মকর্তারাও জড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু তা প্রতিরোধ না করে বাক স্বাধীনতা হরণেই সরকার আগ্রহী। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে গেপ্তারকৃত যুবনেতাদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..