কবিতা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

অক্ষরের ঘ্রাণ বচন নকরেক খুব ইচ্ছে করছে গভীর জঙ্গলে যাই ছুরি নিয়ে। গাছের নিচে গিয়ে বসি, বৃক্ষ বাকলে খুদাই করে লিখে রেখে আসি কবিতা কাঠ কাটতে কাটতে কাঠুরে পড়ুক খুব ভালো লাগলে বাড়িতে এনে গোলাঘরে যত্ন করে রাখুক আর সুর করে পড়ুক পাখিরা কাঠ বিড়াল গাছ বেয়ে বেয়ে নিচে নেমে এসে শুকে দেখুক অক্ষরের ঘ্রাণ চিঠির মতো করে অচেনা প্রাপকের ঠিকানায় রেখে আসি লিখে- লিরিক লিজা নকরেক (মান্দি ভাষা থেকে অনুবাদ করেছেন লিজা নকরেক ও কবি পরাগ রিছিল) আচিক জাতির চিন্তা করে তোমরা সজাগ হও, বেঁচে থাকতে হলে খুব সচেতন, জাগো তোমরা; হও সচেতন... তাকাতে প্রাণে–আত্মায় আপন। চলেশ পীরেন দিয়ে গেছে মান্দিদের অহংকার... দিয়ে

গেছে পৃথিবীতে নির্ভয়ে প্রাণ। ভুলিনি চলেশ রিছিল তোমার রক্তকে... চলো সবাই স্মরণ করি চলেশ-পীরেনকে। আদিবাসীদের অধিকার স্বীকার করো রাষ্ট্র সরকার– নির্ভয়ে তাঁরা দিয়ে গেছে প্রাণ ভুলিনি পীরেন স্নাল তোমার রক্তকে... সবাই মিলে স্মরণ করি চলেশ-পীরেনকে। মান্দিদের অহংকার ছাড়তে চাই না অন্যের কাছে, নির্ভয়ে পৃথিবীতে দিয়ে গেছে প্রাণ ভুলিনি গিদিতা রেমা তোমার রক্তকে... চলো সবাই স্মরণ করি চলেশ-পীরেনকে। ভাষা সরে গেলে শঙ্খচূড় ইমাম যদি ফুটে থাকা কৃষ্ণচূড়ার গতি ভেদ করে বৈশাখের অন্ধকার তবে ভেবে নেবো—তোমার চক্ষুম্লানদিন উদ্যত হয়েছিলো থ্যাঁতলানো কৌমার্যের নাভি থেকেই আদতে হিংসার আওয়াজ তুলে দংশনে

নেমেছিলে— এই পূর্ণতার পরিপ্রেক্ষিতে কোথাও ঝাপসা রাখো কোথাও ক্রমশ বরফকলের মতো কেঁদে ওঠো ন্যুয়ে আমি তো দ্বিপ্রহর বুঝি না ভাষা সরে গেলে তোমাদের সুখ ও শোক একসাথে কোলাকুলি করে ক্ষেতমজুরের চাঙ্গা বিধান আব্দুল বারেক মাষ্টার ক্ষেতমজুরের চাঙ্গা বিধান আঙাতে বাঙ্গালি ভাই, তোমরা আইও দুঃখে ভরা জীবনের গান গাই।। কৃষক, শ্রমিক, জেলে ভাই তোমরা আইও দুঃখে ভরা জীবনের গান গাই।। দঃখে যাদের জীবন গড়া সুখ নাইরে দুঃখ ছাড়া সুখের আশায় কর্মহারা, দুঃখ বিনে গতি নাই।। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ঋণ করে করলাম গিরস্তী কান্দে লইয়া কোদাল পাতি, চলো বন্দে যাই দারুন পানি আইলো দেশে, বিল বাদাল সবই গেছে আশে

পাশে কিছুই ভাসা নাইরে ভাই দুঃখে ভরা জীবনের গান গাই।। ক্ষেতের ধান তলিয়ে গেলো পুজি পাট্টা সবই নিলো কি খাওয়াইয়া ছেলে মেয়ে বাচাই কি করে ভাই গরু- ছাগল- হাঁস- মুরগী কি খাইবে কে ননিবে বাণী লাউয়ের দামে বিকি ছাড়া কোন উপায় নাই দুঃখে ভরা জীবনের গান গাই।। কোটিপতি পুজিপতি যারা মোছে তেল লাগাইছে তারা সস্তা দামে কিনবে জমি খুশীর সীমা নাইরে ভাই শালার বেটা পড়ছে ধরা ঋণ দিতাম না সুদ ছাড়া গরিব মরুক আমি বাইচা যাই দুঃখে ভরা জীবনের গান গাই।। জনপ্রতিনিধি যত ক্যামরামান শত শত এলাকা বন্যা দুর্গত ফন্দিআটা চাই এইবার সুযোগ পাইছি যখন ধনী হইবার শুভ লক্ষণ নির্বাচনে আর তো দরকার নাই দুঃখে ভরা জীবনের গান গাই!।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..