ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নজর রাজনীতিকদের সম্পত্তির দিকে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা বিদেশ ডেস্ক : গোরক্ষকদের তাণ্ডব রুখতে সরকারকে নির্দেশ দেওয়ার পর এবার রাজনৈতিক নেতাদের সম্পত্তির দিকে নজর পড়ল ভারতের সুপ্রিম কোর্টের। পাঁচ বছরে বহু নেতার আয় ও সম্পত্তি কী করে পাঁচ শ গুণ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে, সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিলেন। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জে চেলামেশ্বর ও বিচারপতি এস আবদুল নাজির গত ৬ সেপ্টেম্বর এই নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, সম্পত্তির উৎস ঠিক কী এবং সেই আয় আইনানুগ কি না, তা তদন্ত করে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে প্রাথমিক রিপোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে জমা দিতে হবে। অ্যাসোসিয়েশন অব ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (এডিআর) নামের এক বেসরকারি সংস্থা দেশের ২৮৯ জন সাংসদ-বিধায়কের গগনচুম্বী সম্পত্তির বিষয়ে ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অব ডাইরেক্ট ট্যাক্সেসের (সিবিডিটি) কাছে তথ্য জানতে চেয়েছিল। সিবিডিটি কোনো সদুত্তর দিতে তো পারেইনি, কারও বিরুদ্ধে প্রকৃত তদন্ত করা হয়েছিল কি না, তা-ও জানায়নি। এডিআরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং বিচারপতিদের প্রশ্নের জবাবে সরকারি কৌঁসুলির উত্তরে সর্বোচ্চ আদালত সন্তুষ্টও হননি। বিচারপতিরা বরং এ কথাও বলেন, তথ্য জানাতে সরকারের অনীহা কোথায় তা তাঁদের বোধোগম্য হচ্ছে না। ভারতের লোকসভা, রাজ্যসভা ও বিধানসভার নির্বাচনে যাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তাঁদের সম্পত্তির হিসাব জানানো বাধ্যতামূলক। নির্বাচন কমিশনের কাছে এই তথ্য জানাতে হয়, যাতে সাধারণ মানুষ প্রার্থীদের সম্পত্তি সম্পর্কে জানতে পারে। ২০০৯ ও ২০১৪ সালের লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এমন প্রার্থীদের সম্পত্তির হিসাবে দেখা যায়, ২৮৯ জন নেতার কারও কারও সম্পত্তি পাঁচ বছরে পাঁচ শ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। এডিআর এ তথ্য নিয়েই সর্বোচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়। আদালত সরকারি কৌঁসুলিকে ভর্ৎসনা করে বলেন, সিবিডিটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আদালতে যা জানানো হয়েছে, তা নিতান্তই ভাসা ভাসা। সরকারের কাছে নেতাদের সম্পত্তিবিষয়ক যেসব তথ্য রয়েছে, নতুন হলফনামায় আদালতকে তা জানানোর নির্দেশ দেন দুই বিচারপতি। নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রার্থীদের সম্পত্তির হিসাব জানানো বাধ্যতামূলক করা সার্বিক নির্বাচনী সংস্কারেরই একটা অঙ্গ। প্রায় দুই দশক ধরে এই প্রথা ভারতে চালু রয়েছে। কিন্তু সেই সম্পত্তি কী করে অর্জিত, আয়ের উৎসই বা কী, তা জানানো বাধ্যতামূলক নয়। নির্বাচন কমিশন সেই সব তথ্য সরকারের কাছে জমা দেয়। কিন্তু সরকার ওই তথ্যের ভিত্তিতে কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে কি না অজানা। এডিআর এ বিষয়েই সিবিডিটির কাছে জানতে চেয়ে সদুত্তর পায়নি। নির্বাচন কমিশনের কাছে কোনো কোনো মহলের প্রস্তাব ছিল, আয় ও সম্পত্তির বিষয়ে প্রার্থীদের হলফনামা ভুল প্রমাণিত হলে প্রার্থিতা বাতিল করা দরকার। তা ছাড়া, আয়ের উৎসও জানানো বাধ্যতামূলক করা দরকার। এডিআরের আশা, সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের ফলে অবস্থার বদল ঘটবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..