শরণার্থী বাধ্যতামূলক : ইইউ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলির জন্য উদ্বাস্তু নেয়ার বাধ্যতামূলক কোটা নির্দেশ করার নীতি বৈধ বলে ইউরোপিয়ান কোর্ট অফ জাস্টিস (ইসিজে) রায় দিয়েছে। ইউরোপীয় আদালতের মতে, জাতীয় সরকারবর্গকে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের একটি ন্যায্য অংশ নিতে বলার অধিকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের আছে। আদালতের যুক্তি, ‘এই প্রক্রিয়া গ্রিস ও ইটালিকে ২০১৫ সালের অভিবাসন সংকটের ধাক্কা সামলাতে সাহায্য করবে এবং (প্রক্রিয়াটি) অনুপাত সম্মত।’ আদালতের রায়ের অর্থ এই যে, কোটা প্রণালী অনুসরণ করে চলতে অস্বীকার করলে হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া ও তাদের মত অপরাপর সদস্যদেশকে জরিমানা দিতে হতে পারে। যদিও স্লোভাকিয়া ও হাঙ্গেরি এই কোটা চ্যালেঞ্জ করেছিল। ইসিজে সেই চ্যালেঞ্জ প্রত্যাখ্যান করে। তবে এখনো পূর্ব ইউরোপের ইইউ দেশ আর পশ্চিমের সদস্যদেশগুলির মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক মনোমালিন্য চলেছে। স্লোভাকিয়ার বক্তব্য, তারা সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে নেবে, কিন্তু তবুও তারা উদ্বাস্তু পরিকল্পনার বিরোধী। তাদের প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো বলেছেন, ‘কোটার ব্যাপারে আমাদের অবস্থান বদলায়নি। অন্যান্য দেশের অভিবাসীরা, যারা এখানে থাকতে চান না, তাদের জোর করে এখানে পাঠানোর চেয়ে আমরা অন্য পন্থায় (ইউরোপীয়) সংহতি প্রকাশের কাজ চালিয়ে যাব।’ বুদাপেস্টে হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেটার শিয়ার্তো ইসিজে-র রায়কে ‘নির্লজ্জ ও দায়িত্বহীন’ বলে অভিহিত করেছেন। ‘এই সিদ্ধান্ত গোটা ইউরোপের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ বিপন্ন করছে,’ বলে শিয়ার্তো মন্তব্য করেন এবং যোগ করেন যে, আদালতের এই সিদ্ধান্ত মূলত রাজনৈতিক। ‘রাজনীতি ইউরোপীয় আইন ও মূল্যবোধকে ধর্ষণ করেছে’। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যদেশগুলির একটি বড় অংশ ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই বাধ্যতামূলক কোটা অনুমোদন করে। কিন্তু পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র ও হাঙ্গেরি তা প্রত্যাখ্যান করেছিল। ইসিজে-তে কোটা পদ্ধতি চ্যালেঞ্জ করার সময় স্লোভাকিয়া ও হাঙ্গেরির যুক্তি ছিল যে, ইইউ এই কোটা অনুমোদন করার মাধ্যমে তার নিয়মাবলি ভঙ্গ করেছে ও নিজের এখতিয়ার ছাড়িয়ে গেছে। গ্রিস ও ইটালি থেকে যে ১ লক্ষ ৬০ হাজার উদ্বাস্তু নেওয়ার কথা ছিল। এ পর্যন্ত তাদের মধ্যে মাত্র ২৪,০০০ উদ্বাস্তুকে ইইউ-এর ভার বণ্টন নীতি অনুযায়ী অপরাপর দেশে পাঠানো হয়েছে। ঐ নীতি অনুযায়ী, হাঙ্গেরির ১,২৯৪ জন উদ্বাস্তু ও স্লোভাকিয়ার ৯০২ জন উদ্বাস্তু নেওয়ার কথা। অভিবাসন কোটা পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে অস্বীকার করার কারণে চেক প্রজাতন্ত্র, হাঙ্গেরি ও পোল্যান্ডের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে ইউরোপীয় কমিশন। ইসিজে-র রায় জার্মানি, ফ্রান্স ও ইটালির মতো পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলির জন্য জয়ের সমতুল, কেননা তারা অভিবাসন প্রসঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ‘সংহতি’ দাবি করে আসছে। ২০১৪ সাল থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা থেকে প্রায় ১৭ লাখ অভিবাসী ইইউ-তে এসে পৌঁছেছেন। ২০১৬ সাল থেকে অভিবাসী আগমনের হার কমে এসেছে, বিশেষ করে তথাকথিত বলকান রুটটি মোটামুটি বন্ধ হয়ে যাবার পরে। তুরস্কের সঙ্গে ইইউ-র একটি অভিবাসন চুক্তির ফলে তুরস্ক থেকে উদ্বাস্তুদের নৌকাযোগে গ্রিসে আগমনও প্রায় বন্ধ হয়ে এসেছে। ইত্যবসরে ইইউ লিবিয়া থেকে উদ্বাস্তুদের নৌকাযোগে ইউরোপে আসা কমানোর চেষ্টা করছে। অনিশ্চিত যাত্রার ধকল সামলাতে হয় শারীরিক এবং মানসিকভাবে। ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচতে হাজার হাজার সিরীয় নাগরিক তুরস্ক হয়ে গ্রিসে জড়ো হয়েছেন। সে দেশের তিনটি দ্বীপে এখনো দশ হাজারের মতো শরণার্থী বসবাস করছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস অবধি ছয় হাজার নতুন শরণার্থী এসেছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..