বদলগাছীতে পাটের বাম্পার ফলন

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
নওগাঁ সংবাদদাতা : নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে ২৫ কোটি ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় দেশি জাতের পাট ৭৫ হেক্টর এবং তোষা ১৮৭৫ হেক্টরসহ মোট ১৯৫০ হেক্টর জমিতে সোনালি আঁশ পাটের চাষাবাদ করেছে এই এলাকার কৃষকরা যা গত বছরের তুলনায় ৩০ হেক্টর জমিতে বেশি চাষাবাদ হয়েছে বলে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে। সরেজমিনে গিয়ে কথা বললে বদলগাছী ইউনিয়নের কৃষক বেলাল, আধাইপুর ইউনিয়নের ইউনুছার রহমান, কোলা ইউনিয়নের ঝাড়ঘরিয়া গ্রামের অনিল চন্দ্র মণ্ডল, পাহাড়পুর ইউনিয়নের রতনসহ উপজেলার অন্যান্য কৃষকেরা জানান, বৈশাখ মাস থেকে জমিতে পাট বীজ বপন শুরু হয়। পাট বীজ বপনের পর জমিতে নিড়ানি, কাটা, ধোয়া পর্যন্ত ৪ মাস সময় লাগে উৎপাদনকৃত পাট ঘরে তুলতে। আর এতে করে পাট উৎপাদন করতে প্রতি বিঘা জমিতে খরচ পড়ে ৬-৭ হাজার টাকা। আর প্রতি বিঘা জমিতে পাট উৎপাদন হয় ১০-১২ মন। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটে কোনো পোকার আক্রমণ নেই। আর পাটগাছ নিরাপদ থাকায় এবার পাটের গাছ ৭-৮ ফিট পর্যন্ত উচ্চতা হওয়ায় বিঘা প্রতি গড়ে ১০ থেকে ১১ মণ করে পাটের ফলন হবে। অপরদিকে তারা আরও জানান প্রতি বিঘায় ৫-৬ হাজার টাকা মূল্যের পাটকাঠিও পাওয়া যাবে। সবদিক থেকে পাট উৎপাদন লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা এই পাট চাষ আগ্রহী হয়ে উঠছেন। উপজেলা কৃষি অফিসার মো. হাসান আলী বলেন, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় ১৯৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষাবাদ করা হয়েছে। এতে করে বিঘা প্রতি ১০ মণ করে সর্বমোট ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৫০ মণ পাট এই উপজেলায় উৎপাদন হবে। সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৭২০ টাকা মণ হিসাবে উক্ত পরিমাণ পাটের মূল্য পাওয়া যাবে ২৫ কোটি ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তিনি আরও বলেন, বর্তমান পাট থেকে বহুমুখী পণ্যদ্রব্য তৈরি হওয়ায় তা দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সোনালী আঁশ পাটের হারানো গৌরব ফিরিয়ে এসেছে। আর এতে করে কৃষকেরা পাট চাষাবাদ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। অপরদিকে এলাকার সচেতন মহল বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে পাট নব উদ্যোমে তার হারানো অতিতের ন্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং রাখবে। এজন্য সরকারকে পাট ও পাটজাত পণ্যদ্রব্যের বহুমুখী ব্যবহার করার পাশাপাশি আর্র্ন্তজাতিক বাজারও করতে হবে সম্প্রসারিত। আর কৃষককুলকে পাট উৎপাদনে দিতে হবে সার্বিক সহযোগিতা ও পাটের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির নিশ্চয়তা। তাহলে দিন দিন পাট উৎপাদনে আরও আগ্রহী হবেন এলাকার কৃষকরা।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..