কক্সবাজারে চলে গেছে বন্যা রেখে গেছে ক্ষত

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
কক্সবাজার সংবাদদাতা : বর্ষা আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের আট উপজেলায় দেড় হাজারেরও অধিক ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, মাছের ঘের ও মুরগী ফার্মসহ ৯শ’ গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে ঢলের পানি চলে গেলেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে সড়কের ওপর। ব্রিজ-কালভার্ট, সড়ক বিধ্বস্ত হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। তাছাড়া, এই বন্যায় জেলায় শিশুসহ ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে দুর্গতদের জন্যে সাত লাখ নগদ টাকা ও একশ’ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, দুর্গতদের জন্য বরাদ্দ ত্রাণ পর্যাপ্ত নয়। জানা যায়, প্রবল বর্ষা ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বন্যার সৃষ্টি হলে ঘরবাড়ি, গবাদি পশু এবং কৃষি ফসল হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন চকরিয়া, কক্সবাজার সদর, উখিয়া, টেকনাফ, পেকুয়া, কুতুবদিয়া ও রামু উপজেলার প্রতিটি পরিবার। তবে গত শুক্রবার থেকে বৃষ্টি না হাওয়ায় আস্তে আস্তে নেমে যাচ্ছে পানি। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভেসে উঠছে ঘরবাড়ি, মাছ, কৃষি ও যোগাযোগ অবকাঠামোসহ ক্ষতির চিহ্ন। আর উঁচু এলাকাসহ নিরাপদ স্থানে চলে আসা দুর্গত মানুষগুলো বাড়ি ফিরে পড়েছে চরম দুর্ভোগে। তবে বৃষ্টি কমলেও চকরিয়া উপজেলার নিন্মাঞ্চলে পানি এখনো নেমে যায়নি। শতাধিক গ্রামের প্রায় তিনশ’ বাড়িঘর প্লাবিত হয়। এসময় পানিবন্দি থাকা হাজার হাজার মানুষকে মানবিক সহায়তা প্রদান করে উপজেলা চেয়ারম্যান, অন্যান্য জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। মহেশখালীতে বাড়িঘর লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। টানা বর্ষায় মহেশখালীর পৌরসভা, কুতুবজোম, বড় মহেশখালী, ছোট মহেশখালী, শাপলাপুর, কালারমারছড়া, ধলঘাটা ও মাতারবাড়ি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় বাড়িঘর ভেঙে গেছে। তাছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা। রামুর হাইটুপির হারুন অর রশিদ (৬০) রাস্তায় খাটের ওপর বসে চাল শুকানোর চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, ‘বন্যায় সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। গত পাঁচদিন ধরে কোনো রকম শুকনো খাবার খেয়ে বেঁচে আছি। এখন চালগুলো শুকিয়ে কোনো রকম রান্না করে চেষ্টা করব।’ চারমারকুল এলাকার রহিমা বেগম (৫৫) বলেন, ‘পাঁচ দিন পর ঘরে আসলাম। দেখি কিছুই নেই ঘরে। শুধু পড়ে আছে আসবাবপত্রগুলো। এখন কোনো রকম জোড়াতালি দিয়ে ঘরটা ঠিক করছি।’ কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানান, পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। পানি নামতে শুরু করেছে। দুর্গতদের জন্য সাত লাখ নগদ টাকা ও একশ’ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ৯শ’টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে বসতবাড়ি সম্পূর্ণ ও আংশিকভাবে, রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ চাল ও নগদ টাকা চাওয়া হয়েছে। এই বন্যায় ১১জনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে তিনি জানান।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..