নারায়ণগঞ্জে অর্ধশত অবৈধ করাতকল

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে অর্ধশত করাত কল। এমনকি খাসজমিতে করাত কল করে বন বিভাগের গাছ কেটে চেরাই করার অভিযোগও রয়েছে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কাঠ চেরাই হচ্ছে এসব কলে। স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং বাইরে থেকেও আসছে কাঠ। এতে স্থানীয় ফার্নিচার ব্যবসা রমরমা হলেও জোরদার হচ্ছে বৃক্ষনিধন তৎপরতা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রূপগঞ্জে করাত কলের সংখ্যা মোট ৫২টি। এর মধ্যে মাত্র একটির বৈধ কাগজপত্র থাকলেও বাকিগুলোর নেই। এ নিয়ে প্রশাসনেরও কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ে না। গ্রামাঞ্চলের অপরিপক্ব গাছ কেটে সাবাড় হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু বন বিভাগের তাতে বিকার নেই। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার দুটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ হাটের পাশে গড়ে উঠেছে ৪০টির বেশি করাত কল। সদর ইউনিয়নের ভক্তবাড়ী বাজার এলাকায় রয়েছে দুটি। একই ইউনিয়নের ইছাপুরা বাজার ও বাগবের বাজারে রয়েছে আরো চারটি। এসব করাত কল মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নেয়া সনদ ছাড়া আর কোনো কাগজপত্র তাদের নেই। অনেকে উপজেলা বন বিভাগের মাধ্যমে সনদের আবেদন করেছেন। তবে বিধিবিধান যুক্ত না করার কথা বলে সনদ দেয়নি প্রশাসন। দাউদপুর ইউনিয়নের বেলদী, দেবই ও পুটিনা বাজারসহ কুলিয়াদির বন বিভাগের জমিতে রয়েছে পাঁচটি করাত কল। দাউদপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, কুলিয়াদি ও কালনী মৌজায় বেশকিছু জমি রয়েছে বন বিভাগের আওতায়। এসব বনের ভেতরে স্থানীয় প্রভাবশালীরা গড়ে তুলেছে বসতভিটা। একাধিক করাত কলও গড়ে তোলা হয়েছে। উপজেলার ভোলাব ইউনিয়ন এলাকার আতলাপুর, পাইসকা ও ভোলাব বাজার এলাকায় রয়েছে ছয়টি অবৈধ করাত কল। এছাড়া উপজেলা গোলাকান্দাইল, ভুলতা, মুড়াপাড়া, কায়েতপাড়া ইউনিয়ন এবং কাঞ্চন ও তারাব পৌরসভায়ও অবৈধ করাত কলের দেখা মেলে। তবে তারাব পৌরসভার বরপা এলাকায় আল মিনার টিম্বাস অ্যান্ড’স মিলের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। সনদ পাওয়ার জন্য করাত কল মালিকদের প্রথমে ভূমি প্রশাসনের ছাড়পত্র নিতে হয়। পরে স্থানীয় বন বিভাগে ৫০০ টাকা জমা দিয়ে মাত্র ২ হাজার টাকা ভ্যাটসহ ব্যাংকে জমা দেয়ার পর জেলা পরিবেশ ও বন কমিটির সুপারিশ পেলে তার ভিত্তিতে বিভাগীয় কমিশনার লাইসেন্স দেন। প্রতি বছর ৫০০ টাকা দিয়ে লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। তবে কল মালিকদের অভিযোগ, লাইসেন্স প্রক্রিয়ার মধ্যে একটি দালালচক্র সক্রিয়। তাদের কারণে মাত্র আড়াই হাজারের স্থলে লাখ টাকা দিয়েও লাইসেন্স পাওয়া কঠিন। এ কারণে তারা বৈধতা নিতে অনীহা প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে মুড়াপাড়া এলাকার করাত কল মালিক জাকির হোসেন বলেন, লাইসেন্সপ্রাপ্তি সহজ না হলে এভাবেই চলবে। ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে তার করাত কলটি। দীর্ঘ তিন বছরেও সনদ পাননি তিনি। কোনো সমিতি বা সংগঠন না থাকায় হয়রানি নিরসনে কোনো উদ্যোগও নেয়া যাচ্ছে না। আর লাইসেন্স না থাকার কারণে বিভিন্ন মহলকে চাঁদা দিয়ে তাদের ব্যবসা করতে হচ্ছে। জানতে চাইলে রূপগঞ্জ উপজেলা বন কর্মকর্তা সঞ্জয় হাওলাদার বলেন, উপজেলার ৫২টি করাত কলের মধ্যে কেবল একটির সনদ রয়েছে। ২০টি সনদ নবায়ন করেনি। বাকিগুলো অবৈধ। এদের কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য সতর্ক করে চিঠি দেয়া হয়েছে। খাসজমি দখল, বন বিভাগের গাছ কাটা ও বৃক্ষনিধনে কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইদুল ইসলাম বলেন, রূপগঞ্জ উপজেলার করাত কলগুলোকে দ্রুত লাইসেন্স নেয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। তাদের অনিয়মের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..