অদক্ষতা-সমন্বয়হীনতাই জলবদ্ধতার জন্য দায়ী

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

মহানগরে জলাবদ্ধতা ও বিভিন্ন দুর্নীতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি চট্টগ্রাম জেলার নেতৃবৃন্দ
একতা প্রতিবেদক : দেশের গুরুত্বপূর্ণ দুটি শহর চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জ। এ দুটো শহরেই অল্প বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। রয়েছে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সুপেয় পানির সমস্যাও। এগুলোর সমাধানে কোনো চেষ্টা সিটি কর্পোরেশন ও প্রশাসনের। একে অন্যেও উপর দোষ দিয়ে দায় সাড়তে চাইছে। এমতাবস্থায় সিপিবি চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। সমাবেশে বক্তারা জলাবদ্ধতার জন্য প্রশাসনের অদক্ষতা, লুটপাট ও সমন্বয়হীনতাকেই দায়ী করে বক্তারা বলেছেন, নগর উন্নয়ন পরিকল্পনায় জলাবদ্ধতার ব্যাপারে সঠিক ব্যবস্থাপনা ও মনোন্নয়নে কোনো পদক্ষেপ না থাকায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। গত ৮ জুলাই অনুষ্ঠিত সিপিবি চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানা কমিটির সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। বহদ্দারহাট মোড়ে সিপিবি পাঁচলাইশ থানা সম্পাদক রাহাতউল্লাহ জাহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, সিটি কর্পোরেশন ও সি ডি এ কর্তৃপক্ষের পারস্পরিক সমন্বয়হীনতা মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা হলে কখনোই পরিস্থিতি এত খারাপ হতো না। নালা-নর্দমা পরিষ্কারের উদ্যোগ থাকলেও সাধারণ মানুষকে আবর্জনা ফেলা সম্পর্কে সঠিকভাবে সচেতন করা যায়নি। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মৃণাল চৌধুরী, জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অশোক সাহা, অমৃত বড়ুয়া, থানা সভাপতি মোহাম্মদ মুছা, সেহাবউদ্দিন সাইফু, রাশিদুল সামির। সমাবেশ পরিচালনা করেন অনুপম বড়ুয়া। এদিকে চট্টগ্রাম নগরীর জলবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সিপিবি চট্টগ্রাম কোতোয়ালী থানা কমিটি। গত ১০ জুলাই চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক এলাকা কোরবানীগঞ্জের খাতুনগঞ্জে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সিপিবির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং দ্বন্দ্ব জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগকে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বর্ষাকাল এলে কিছু তোড়জোড় দেখা গেলেও বছরের বাকি সময় কোনো কার্যক্রমই চোখে পড়ে না। জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনে বিদেশি বিশেষজ্ঞের সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বক্তারা বলেন, এক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও সততার পরিচয় দিতে হবে। লুটপাট-দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। জনগণের টাকা-পয়সা আত্মসাৎ করার অধিকার কারো নেই। জনগণের ভোট নিয়ে জনগণকে প্রতারিত করা চলবে না। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা সিপিবির সাধারণ সম্পাদক অশোক সাহা, সদস্য রবিউল হোসেন, ফজল আহমদ, রেখা চৌধুরী, প্রদীপ ভট্টাচার্য্য, আহম্মদ নূর প্রমুখ। এদিকে অনুসন্ধান করে জানা গেছে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা, ভঙ্গুর সড়ক ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও ওয়াসাসহ সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানসমূহের উদাসীনতা, গাফিলতি ও সমন্বয়হীনতায় চট্টগ্রামের নাগরিক জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়নের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধান সংস্থা দুই সংস্থা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বাস্তবে কতটা জনবান্ধব সেটা নিয়ে নগরবাসীর মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর অবকাঠামো উন্নয়নে এই দুই সংস্থা বিগত সময়ে যেসব প্রকল্প হাতে নিয়েছে নগর পরিকল্পনাবিদরা প্রকাশ্যে সেসবের বিরোধিতা করেছেন। তারপরও নিজেদের পথেই হেঁটেছে তারা। মহানগরীর জলাবদ্ধতার সমস্যা দীর্ঘদিনের। প্রতিবার মেয়র নির্বাচনে এটি ব্যাপকভাবে প্রচারে আসে। বর্তমান মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিনও প্রায় দুই বছর আগে তার ৩৬ দফার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতেও জলাবদ্ধতা নিরসনের বিষয়টি সর্বাধিক প্রাধান্য দিয়েছিলেন। তিনি এজন্য তার পূর্ববর্তী মেয়রকে ‘অথর্ব’ ও ‘অযোগ্য’ বলতেও ছাড়েননি। কিন্তু মেয়রের দায়িত্বে দুই বছর থাকার পর আ.জ.ম নাছির এখন বলছেন জলাবদ্ধতা নিরসন তার দায়িত্ব নয়। তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট অন্যদের দিকে এই ব্যর্থতার দায় চাপাচ্ছেন। চট্টগ্রাম মহানগরীতে জলাবদ্ধতা বর্তমানে ভয়াবহ রূপ লাভ করেছে। প্রায় ২০ বছর আগে ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান করা হলেও সিটি কর্পোরেশন, সিডিএ, ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাসমূহের কেউ তার যথাযথ বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেনি। ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নে নগরীতে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ও প্রত্যেকের দায়-দায়িত্বের বিষয়গুলোও উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে আবাসনসহ অবকাঠামো উন্নয়নেও ২০ বছর আগে তৈরি মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে অপরিকল্পিতভাবে নগরীর বিকাশ ঘটেছে। এমনকি মাস্টার প্ল্যানের বাইরে গিয়ে একাধিক ফ্লাইওভার এবং ওভারপাস নির্মাণ করা হয়েছে বলে নগর পরিকল্পনাবিদরা অভিযোগ তুলেছেন। নগরীর অচলাবস্থার জন্য কোন সংস্থাই দায়-দায়িত্ব নিচ্ছে না। যে কারণে গত সপ্তাহে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে জানিয়েছে, প্রকল্প গ্রহণের আগে বিভিন্ন সংস্থাকে যেন সিটি কর্পোরেশন থেকে ছাড়পত্র নেওয়ার বিধান চালু করা হয়। অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। শুধু বৈশ্বিক উষ্ণতা বা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিকে দায়ী করে সংস্থাসমূহের দায় থেকে রেহাই পাওয়ার প্রবণতা কোনোভাবেই ঠিক নয় বলে নগর পরিকল্পনাবিদদের অনেকের অভিমত। কারণ নালা, নর্দমা, খালগুলো ভরাট ও দখল হয়ে যাওয়ায় এবং উন্মুক্ত জলাধার ভরাট করে সেখানে বাসা-বাড়ি ও অবকাঠামো নির্মাণের ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে নগরীতে সরকারি সংস্থাসমূহ যেসব প্রকল্প হাতে নিচ্ছে তার বেশিরভাগই মাস্টার প্ল্যানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না। সিডিএ কর্তৃক বেশ কটি প্রকল্পের কারণে নগরীর লালখান বাজার থেকে বহদ্দারহাট পর্যন্ত চট্টগ্রামের মূল সড়কের ড্রেনেজ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। নগরীর দক্ষিণ পশ্চিম দিকে আগ্রাবাদ-হালিশহর এলাকার বাসিন্দারাতো বৃষ্টির সময় ছাড়াও প্রতিদিন জোয়ার-ভাটার সময় কয়েক ঘণ্টা পানিবন্দি থাকেন। জলাবদ্ধতার সাথে সাথে নগরীর সড়ক ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়েছে। খোদ সিটি কর্পোরেশনের হিসেবেই প্রায় ৩০০ কিলোমিটার সড়ক ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নগরীর কয়েকটি সড়কে যানবাহন চলাচল এক প্রকার বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ নগরবাসীর প্রাত্যহিক সেবাসমূহের অবস্থা নাজুক পর্যায়ে রয়েছে। চট্টগ্রাম ওয়াসা জাইকার সহায়তায় নগরীতে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত কয়েক বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে কর্ণফুলী শেখ হাসিনা শোধনাগার প্রকল্পের কাজ শেষে উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু এর পুরাতন পাইপ লাইনের কারণে বিতরণ ব্যবস্থা এখনও দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। কারণ ওয়াসা পানি প্রবাহ বৃদ্ধি করার আগে পুরাতন পাইপ লাইন তা ধারণ করতে পারবে কিনা সে সম্পর্কে কোন চিন্তা করেনি। ফলে নগরীতে অসংখ্য জায়গায় সড়ক দিয়ে পাইপ ফেটে পানি বেরিয়ে আসছে। এতে করে পানির যেমন অপচয় হচ্ছে, তেমনি সড়কগুলো পানির কারণে নষ্ট হচ্ছে। ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার ফজলুল্লাহ জানিয়েছেন, ২০২০ সাল পর্যন্ত ওয়াসা তার প্রকল্পের জন্য সড়কসমূহে কাজ করবে। তাছাড়া ওয়াসার বিতরণ লাইন এখনও নগরীর অনেক এলাকায় না থাকায় নগরবাসী নতুন প্রকল্পের পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সারাদেশের ন্যায় চট্টগ্রামে বিদ্যুতের লোডশেডিং তাল মিলিয়ে চলছে। চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জন্য বিদ্যুতের চাহিদা দিনে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট। প্রতিদিন প্রত্যেক এলাকায় কয়েকবার থাকা না থাকার মধ্যে চললেও পিডিবি থেকে লোডশেডিং নেই বলা হয়। তারা এটাকে ফোর্সশেডিং বলে থাকে। কারণ চাহিদা অনুযায়ী সাব স্টেশনগুলো লোড নিতে পারে না। ফলে ওভারলোড কাভার করতে বিভিন্ন সময় ৩-৪টি ফিডার লাইন বন্ধ রাখতে হয়। পিডিবি যে ভাষায় চলুক না কেন কার্যক্ষেত্রে ভোক্তাগণ কিন্তু বিদ্যুৎ পায় না। তাদের গৃহস্থালির ক্ষেত্রে যেমন সমস্যা হয়। একইভাবে শিল্প-কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তার উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এদিকে গ্যাসের ক্ষেত্রে দেখা যায়, চট্টগ্রামে দৈনিক আবাসিক ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে অর্ধেকের কম। প্রতিদিন গড়ে ২৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যায়। এতে করে নগরীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় গ্যাসের লোডশেডিংও দেখা যায়। নির্দিষ্ট সময়ে নগরীর অনেক এলাকায় গ্যাস থাকে না কিংবা খুবই কম পরিমাণ থাকে। চট্টগ্রামে অনেক শিল্প-কারখানা গ্যাসের আশায় প্রতিষ্ঠা করা হলেও গ্যাস না পাওয়ায় এক প্রকার অচলাবস্থায় পড়েছে। গত ১০-১২ বছর ধরে চট্টগ্রাম চেম্বারসহ ব্যবসায়ীরা গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধি দাবি জানিয়ে আসলেও এ যাবত এর কোনো উন্নতি লক্ষ্য করা যায়নি। নগর পরিকল্পনাবিদ আলী আশরাফ বলেন, নগরবাসীদের ভবিষ্যতে সুদিনের আশা করলে মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে হবে। মাস্টার প্ল্যানে ড্রেনেজ, ট্রাফিকসহ সব পরিকল্পনার উল্লেখ রয়েছে। নগরীতে ন্যূনতম ৩২টি সরকারি সংস্থা কাজ করে থাকে। প্রত্যেককে মাস্টার প্যান বাস্তবায়নের আওতায় আসতে বাধ্য করতে হবে। একই সঙ্গে এদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। নারায়ণগঞ্জ: দ্রুত স্থায়ীভাবে ডিএনডির জলাবদ্ধতা নিরসন, খাল-জলাশয় দখলমুক্ত করা, নষ্ট পাম্প মেরামতসহ পর্যাপ্ত পাম্পের ব্যবস্থা করে পানি নিষ্কাশন, পরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণ, রাস্তাঘাট সংস্কার ও জলাবদ্ধতা নিরসনে একনেকে পাশ হওয়া প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে সিপিবি-বাসদ। গত ৮ জুলাই বিকেলে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় শিবু মার্কেটে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে এসব দাবি তোলেন দল দুটির জেলা নেতৃবৃন্দ। সিপিবি নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি হাফিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তরা বলেন, বর্ষা মৌসুম এলেইডিএনিিড বাঁধ এলাকায় বসবাসকারী মানুযের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সামান্য বৃষ্টি হলেই তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। বছরের পর বছর এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছেপ্রায় ২০ লাখ মানুষের। অথচ এই এলাকায় রপ্তানিমুখী গামেন্ট শিল্প, টেস্কটাইল, ডায়িং, স্টিলমিলসহ বিভিন্ন শিল্প রয়েছে। ইরি চাযের জন্য ৮ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমি নিয়ে স্বাধীনতার আগে তৈরি হয় ডিএনডি বাঁধ। ৩২.৮ কিলোমিটার বাঁধের ভেতরে ৫৬ বর্গকিলোমিটা এলাকা বর্তমানে ২০ লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। সেচ প্রকল্পে পানি প্রবাহের জন্য কংস নদ, নলখালী খালের মত ৯টি জলাশয় ও ৯টি শাখা খাল ছিল। ছিল ১০টি আউটলেট, ১০টি নিস্কাশন খাল। সব মিলিয়ে ১৮৬ কিলোমিটার ছিল খালের দৈঘ্য। এসব খালের বেশির ভাগই দখল হয়ে ভরাট হয়ে গেছে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, পানি প্রবাহের পযাপ্ত ব্যবস্থ না থাকায় জলাবদ্ধতার দূর্ভোগ চরম মাত্রায় পৌঁছেচে। প্রশাসনের নজরদারীর অভাবে দখলদাররা খাল ভরাট করে স্থাপনা গড়ে তোলায় অল্প বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতার। ভারী বৃষ্টি বা টানা বৃষ্টিতে সৃষ্টি হচ্ছে কৃত্রিম বন্যার। নেতৃবৃন্দ বলেন, ডিএনডি এলাকায় পানি নিস্কাশনের জন্য সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলে ৫১ বছর আগের একটি সেচ পাম্প আছে। তার মধ্যে চারটি পাম্প দিয়ে মোটে ৫১২কিউসেক পানি নিস্কাষণ হয়। একটি পরুপুরি নষ্ট। বাকিগুলো পুরোনো হওয়ায় আগের মত পানি নিস্কাশন করতে পারেনা। তাছাড়া ২২টি স্যালো মেশিনের ১৭টিই নষ্ট।জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ না নিয়ে স্থানীয়দের নিয়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে সমাবেশ থেকে হুঁশিয়ারি দেন সিপিবি-বাসদের নেতারা। ২০১৬ সালে ডিএনডি বাঁধ এলাকার উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতার সমস্যার স্থায়ী সমাধানে একনেকের বৈঠকে ৫৫৮ কোটি ২০ লক্ষ টাকার প্রকল্প অনুমোদন হয়। প্রকল্পটি সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে বাস্তবায়নের কথা থাকলেও এখনও এর কার্যাদেশই হয়নি। নেতৃবৃন্দ ডিএনডি বাঁধর জলাবদ্ধতাস্থায়ী সমাধানের দাবিতে আগামী ১৭ জুলাই জেলা প্রশাসকের কার্যালয় অভিমুখে মিছিল ও স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক নিখিল দাস, বাসদ নেতা আবু নাঈম খান বিপ্লব, জাহাঙ্গীর আলম গোলক, এম এ মিল্টন, এস এম কাদির, সিপিবি নেতা বিমল কান্তি দাস, এম এ শাহীন, ইকবাল হোসেন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..