উদীচী’র রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্ত জয়ন্তী পালন

এই তিন মহারথীই মৌলবাদবিরোধী লড়াইয়ের প্রেরণা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

উদীচী ঢাকা মহানগর আয়েজিত রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্ত ভট্টাচার্যের জয়ন্তী পালন উপলক্ষে গত ১৪ জুলাই শিল্পকলা একাডেমিতে ‘ভূতের ভয়’ নাটক পরিবেশনার একাংশ [ ছবি: রতন দাস ]
একতা প্রতিবেদক : গান, নাচ, আবৃত্তি, নাটকের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের তিন মহীরুহ, অসাম্প্রদায়িক ও সাম্যবাদী চেতনার আধার, মৌলবাদবিরোধী লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং সাম্যবাদের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্যরে জয়ন্তী উদযাপন করলো বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। এই তিন মহান সাহিত্যিকের জন্মতিথি উদযাপনে গত ১৪ জুলাই শুক্রবার বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ঢাকা মহানগর সংসদ আয়োজন করে রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্ত জয়ন্তী। এদিন বিকেল ৫টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গীত, আবৃত্তি ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে আয়োজিত হয় অনুষ্ঠানটি। অনুষ্ঠানের শুরুতে একক গীটার বাজিয়ে শোনান উদীচী পরিচালিত শিল্পকলা বিদ্যালয় ‘বিশ্ববীণা’র শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান বকুল। এরপর প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে তিন কবিকে স্মরণ করেন অতিথিরা। এরপর উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নিবাস দে’র সভাপতিত্বে শুরু হয় আলোচরা পর্ব। এ পর্বে সুকান্ত ভট্টাচার্য্যরে বিষয়ে আলোচনা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হিমেল বরকত। তিনি বলেন, এক বিক্ষুব্ধ সময়ে জন্মেছিলেন সুকান্ত। প্রায় দুশো বছরের ইংরেজ শাসনে-শোষণে পীড়িত-ক্ষিপ্ত জনতার উত্থানলগ্নে সুকান্তের আবির্ভাব। এই উত্তাল সময়েই মুক্তির হাতিয়ার হিসেবে সাম্যবাদ ও কবিতাকে বেছে নিয়েছিলেন মাত্র ১৪-১৫ বছরের কিশোর সুকান্ত। রাজনীতি ও শিল্পকে তিনি এক পাত্রে পান করেছেন। তাঁর কাব্যাদর্শ ও জীবনাদর্শে এই ঐক্য সবসময়ই পরিলক্ষিত হয়েছে। এরপর কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য-রচনা বিষয়ে আলোচনা করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হোসনে আরা জলী। তিনি বলেন, অনেক কবি-সাহিত্যিকই অন্যায়-অত্যাচার, শোষণ-নিপীড়ন বিরোধী হন। কিন্তু তাঁদের লেখায় কবিতায় এসবের সরাসরি প্রতিবাদ বা বিদ্রোহ ঘোষণা করেন না। এক্ষেত্রে নজরুল সবার থেকে আলাদা। যখনই তিনি অন্যায়-অনিয়ম দেখেছেন, রাজনৈতিক হানাহানি প্রত্যক্ষ করেছেন তখনই তাঁর সংগ্রামী চৈতন্যেও দ্রোহের প্রকাশ ঘটেছে। এছাড়া, বাংলা সাহিত্যে নজরুল এমন একজন কবি যিনি একইসাথে রোমান্টিকতার দুটো সত্তাকে ধারণ করতে পেরেছিলেন। প্রেমিক সত্তা এবং বিদ্রোহী সত্তাকে তিনি অসাধারণভাবে নিজের মধ্যে ধারণ করেছিলেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপর আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম। তিনি বলেন, আমাদের প্রাণের স্তরে স্তরে রবীন্দ্রনাথের দানের মাটি সোনার ফসল তুলে ধরেছে। তিনি আমাদের দিয়েছেন গৌরব ও ঐশ্বর্য। আমাদের ভাষা ও সাহিত্যে, শিল্প ও সংস্কৃতিতে, ইতিহাস ও ঐতিহ্যে, সভ্যতা ও দর্শনে এবং আমাদের সমগ্র জাতিসত্তার প্রাণ স্পন্দন তাঁর সাহিত্য কর্মে অনুভূত হয় বলেই তিনি আমাদের মহাকবি। এছাড়াও, সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন প্রগতি লেখক সংঘের সভাপতি কবি গোলাম কিবরিয়া পিনু। সভাপতির বক্তব্যে নিবাস দে বলেন, বাঙালির মানস গঠনে অপরিহার্য্য ভূমিকা রেখেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম এবং সুকান্ত ভট্টাচার্য্য। তাঁদের রচনা সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ, সাম্রাজ্যবাদসহ সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এবং সাম্যবাদী সমাজ গঠনের সংগ্রামে আলোকবর্তিকা হিসেবে প্রতিনিয়ত আমাদের পথনির্দেশ করে চলেছে। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয়ার্ধে কথায় ও কবিতায়, সঙ্গীত, নৃত্যে, নাট্যে মহান তিন কবির বন্দনায় মাতেন উদীচী’র শিল্পী-কর্মীরা। এ পর্বে নানা পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে উপস্থিত হন উদীচী ঢাকা মহানগর, উত্তরা, গুলশান, মাতুয়াইল, কল্যাণপুর, কাফরুল, ধানমন্ডি, মিরপুর, তেজগাঁও, সাভার, তুরাগ এবং বাড্ডা শাখার শিল্পী-কর্মীরা। অনুষ্ঠানের শেষাংশে কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নাটক ‘ভূতের ভয়’-এর প্রথম মঞ্চায়ন করে উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের নাটক বিভাগ।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..