কৃষি পূর্বাভাস ২০১৬-২৬

আসছে দশকে বাড়বে উৎপাদন কমবে খাদ্যপণ্যের দাম

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা পরিবেশ ডেস্ক : আন্তর্জাতিক বাজারের বিভিন্ন নিয়ামকের প্রভাবে বছরভেদে কিছুটা ওঠানামা হলেও আগামী এক দশক বিশ্বে খাদ্যের দাম বিগত দশকের চেয়ে তুলনামূলক কম থাকবে। কিছু উদীয়মান অর্থনীতির দেশে চাহিদা বৃদ্ধির হার ও খাদ্যশস্যের দামে জৈব জ্বালানি বা বায়োফুয়েল উৎপাদনের প্রভাব কমে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এমনটা ঘটবে বলে সম্প্রতি এক পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি) এবং বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ‘কৃষি পূর্বাভাস ২০১৬-২৬’ শীর্ষক এ প্রতিবেদন সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়। প্যারিসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে ওইসিডির মহাসচিব অ্যাঞ্জেল গুরিয়া বলেন, আগামী ১০ বছরে অধিকাংশ কৃষিজাত পণ্য ও মাছের প্রকৃত মূল্য কমবে। তবে অতীতে যেহেতু দেখা গেছে, অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা বাজারকে মূল প্রবণতা থেকে বিচ্যুত করে, সেহেতু সরকারগুলোর উচিত বৈশ্বিক খাদ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে একযোগে কাজ করা। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বিগত বছরের চিত্রও। ২০১৬ সালের পরিস্থিতি সম্পর্কে এতে বলা হয়, বিগত বছর বেশির ভাগ খাদ্যশস্য, মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্যের উৎপাদন অনেক বেশি ছিল। ফলে বিগত দশকের চড়া দামের চেয়ে বিশ্ববাজারে এসব পণ্যের মূল্য অনেক কম ছিল গত বছর। তবে ২০১৬ সালে তেলবীজ, ভোজ্যতেল ও চিনির বাজার কিছুটা চড়া ছিল। ওইসিডি ও এফএওর হিসাবমতে, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক খাদ্যশস্যের ভোগ ১৩ শতাংশ বাড়বে। আর এর চাহিদা দাঁড়াবে ২৮৬ কোটি টনে, যা বর্তমানের চেয়ে ৩৪ কোটি টন বেশি। বাংলাদেশের মানুষের প্রধান খাদ্য চালের গড় উৎপাদন ৪৯ কোটি টন থেকে বেড়ে ৫৬ কোটি টনে দাঁড়াবে। তবে এখানে এর চেয়ে কিছুটা বেশি উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় তেমন কোনো সংকট হওয়ার আশঙ্কা নেই। চালের উৎপাদন যে প্রায় ৭ কোটি টন বাড়বে, তাতে অবদান থাকবে বাংলাদেশেরও। ওইসিডি-এফএওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সাল নাগাদ চালের উৎপাদন প্রায় ২ কোটি টন, ইন্দোনেশিয়ায় ৭০ লাখ টন, বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডে ৬০ লাখ টন করে, ভিয়েতনামে ৪০ লাখ টন এবং চীনে ৩৫ লাখ টন বাড়বে। তবে এ সব বিষয়ই নির্ভর করছে অন্য আরো অনেক নিয়ামকের ওপর। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হচ্ছে প্রাকৃতিক অনুকূল পরিবেশ। এ পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে টেকসই উন্নয়ন নীতিমালাকে বিশেষ বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। আর এ টেকসই উন্নয়ন নীতিমালার অবিচ্ছেদ্য অংশ হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ। পূর্বাভাসকে সত্য করতে হলে, টেকসই কৃষির দিকেই নজর দিতে হবে বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে জেনিটিক্যালি মডিফাইড ফসল চাষ ও এক্ষেত্রে সরকারি প্রণোদনার একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এটা সারা বিশ্বেই। কিন্তু এ জিএম ফসল দিয়ে তাৎক্ষণিক ভালো ফল পাওয়া গেলেও তা আখেরে ক্ষতি ডেকে আনে। এক্ষেত্রে নিজস্ব ঐতিহ্যিক জ্ঞান কাজে লাগানোটা অনেক জরুরি। আমাদের এখানেই কৃষকদের কাছে বহু প্রাচীন জ্ঞান সঞ্চিত আছে, যার অনেক কিছুকেই উফসি ফসল উৎপাদনে কাজে লাগানো যেতে পারে। এগুলো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..