প্যারিস জলবায়ু চুক্তি পুনর্বহালের ইঙ্গিত ট্রাম্পের

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা পরিবেশ ডেস্ক : প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু এখন ওই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে পুনসংযোজন করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। আর এ ইঙ্গিত এসেছে স্বয়ং ট্রাম্পের বরাত দিয়েই। প্যারিস চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের ঘোষণা নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে বিশ্বজুড়ে। সর্বশেষ জার্মানিতে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনেও বিশ্বনেতাদের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল এ বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রের ঘরে-বাইরে হয়েছে আন্দোলনও। জি-২০ সম্মেলনের বাইরে পরিবেশ ইস্যুতে হওয়া আন্দোলন এমনকি সহিংস রূপও নিয়েছে। এসবের প্রভাবেই হোক বা স্বাভাবজাত অস্থিরমতির কারণেই হোক প্যারিস চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র আবারও যুক্ত হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। ফ্রান্স সফরের সময় দেশটির নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর সঙ্গে দেয়া যৌথ বিবৃতিতে অন্তত এমন ইঙ্গিতই পাওয়া গেছে। ইঙ্গিতটি ম্যাখোঁর দিক থেকে এলেও, তার পাশেই ছিলেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক শেষে গত বৃহস্পতিবার ফরাসী প্রেসিডেন্ট বলেন, প্যারিস চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর যে সিদ্ধান্ত ট্রাম্প নিয়েছেন, তাকে আমি সম্মান জানাই। কিন্তু একই সঙ্গে এও জানাতে চাই যে, ফ্রান্স প্রতিশ্রুতি অনুযায়ীই এ চুক্তিকে সমর্থন দিয়ে যাবে। জলবায়ু বিষয়ে আমাদের মধ্যে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে, যা আমরা উভয়েই জানি। তা সত্ত্বেও সামনে এগিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাখোঁ বলেন, প্যারিস চুক্তি নিয়ে আগামীতে অনেক কিছুই হতে পারে। সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়নি। এর পর এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, দেখা যাক কী হয়। প্রসঙ্গত, গত মাসে প্যারিস চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন ট্রাম্প। সে সময় ওয়াশিংটন জানায়, এ-বিষয়ক চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মঙ্গলজনক নয়। পরবর্তীতে সুবিধাজনক অন্য কোনো চুক্তিতে পুনরায় সমঝোতা হতে পারে। তবে কোনো ধরনের প্রস্তাব তিনি সে সময় দেননি। গত বছর নির্বাচনী প্রচারণলার সময় থেকেই ট্রাম্প এ চুক্তি বাতিলের বিষয়ে বলে আসছেন। একই সঙ্গে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিকেই একটি ‘গুজব’ হিসেবে বর্ণনা করেন। ট্রাম্পের প্যারিস চুক্তিতে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তাদের মতে, ২০০টি দেশের অনুস্বাক্ষরিত একটি চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে দাঁড়ানোটা হতাশাজনক। বিশ্বের শক্তিশালী একটি দেশের এমন গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানো লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি বড় অন্তরায়। এ ঘরানার বিশেষজ্ঞরা যুক্তরাষ্ট্রের ফিরে আসার ইঙ্গিতে স্বভাবতই আশার আলো দেখছেন। তবে এর বিপরীতে অনেকেই বলছেন, প্যারিস চুক্তির শর্তগুলো অনেক বেশি শিথিল। এ শৈথিল্য কাজে লাগিয়ে যে কোনো দেশ নিজের জন্য নতুন কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের লক্ষ্য নির্ধারণ করে নিতে পারে। অন্তত চুক্তিতে এ বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে কিছু বলা হয়নি। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র এ সুযোগ নিয়ে প্যারিস চুক্তিতে থেকেও নিজের মতো আচরণ করতে পারে। অর্থাৎ নামে থাকলো কিন্তু আদতে নিঃসরণ কমানোর কাজে কোনো ভূমিকা রাখলো না। সেক্ষেত্রে চুক্তির বাইরে থাকার বদলে ভেতরে থাকলেই যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। কারণ দেশটি এমন কোনো পদক্ষেপ বা আচরণ করলে তা চীন, ভারত, রাশিয়াসহ অন্য শক্তিধর দেশগুলোকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..