নদীগুলো শাসন ও শোষণ করছে ভারত: বাপা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা পরিবেশ ডেস্ক : সিলেটের অনেক নদী আন্তঃসীমান্ত নদী, যা প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত থেকে সিলেটে প্রবেশ করেছে। নদীগুলো ভারত শাসন ও শোষণ করে চলেছে। উজানে ভারতের বৈরী আচরণের সঙ্গে দেশেও নদীর সঙ্গে নিপীড়ন চলছে। বালু ব্যবসায়ী, পাথরখেকো ও প্রভাবশালীরা যত্রতত্র খনন করে বালু তুলছে। এতে করে নদী আর নদীর মতো নেই। পানি ধারণক্ষমতা কমছে। বন্যার পানি সইতে পারছে না নদী। তাই বন্যাও দীর্ঘ রূপ পাচ্ছে। সিলেটে সম্প্রতি এক মতবিনিময় সভায় এ মত ব্যক্ত করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম চৌধুরী। ‘সিলেট বিভাগের চলমান বন্যা ও নদ-নদীর সার্বিক অবস্থা’ শীর্ষক এ মতবিনিময় সভায় জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মো. আতহারুল ইসলাম, কমিশনের সদস্য আলাউদ্দিন, বাপা কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক শরিফ জামিল, সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এস এম ফেরদৌস উপস্থিত ছিলেন। এতে সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে এ বিষয়ে বাপার একটি প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। বাপার প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন বাপা সিলেটের সাধারণ সম্পাদক। সভার শুরুতে সিলেটের নদ-নদীর নাব্যতা-সংকটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তিনি। এতে বলা হয়, সিলেট বিভাগের চারটি জেলার নিম্নাঞ্চল প্রতি বছরই বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। সিলেট আবহাওয়া তথ্যের বরাতে বলা হয়, চলতি বছর সিলেট বিভাগে অসময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে। কয়েক বছর ধরে আবহাওয়া ও জলবায়ুর পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। গত বছরের এপ্রিল মাসে ৫৬ বছরের বৃষ্টিপাতের রেকর্ড ভেঙে তিন গুণ বেড়ে ১ হাজার ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের রেকর্ড হয়েছে। এই অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি সিলেট বিভাগের নদ-নদী, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড় ধারণ করতে পারছে না। এ কারণে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা ও দীর্ঘস্থায়ী বন্যা। প্রতিবেদন উপস্থাপন শেষে মূল বক্তব্যে বলা হয়, নদী মরে যাচ্ছে। সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীগুলো অতীতের মতো আর পানি ধারণ করতে পারছে না। অধিকাংশ হাওরের তলদেশ ভরে গেছে। মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওরের ২৮১টি বিলের মধ্যে সম্পূর্ণ ও আংশিক ভরাট হয়ে গেছে ১৩৩টি বিল। তাই পরিকল্পিতভাবে নদীর খননকাজ ছাড়া আর বিকল্প নেই। সভায় প্রধান অতিথি মো. আতহারুল ইসলাম বলেন, দেশের বর্তমানের পর্যটনশিল্প সিলেটের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। সিলেটের পর্যটনও নির্ভর করে এসব নদ-নদীর ওপর। নদ-নদী রক্ষা করা না গেলে পর্যটনশিল্পও হারিয়ে যাবে। পাহাড়-টিলা-বনাঞ্চল-নদ-নদী রক্ষা করা না গেলে নৈসর্গিক সৌন্দর্য থাকবে না।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..