সমঝোতার লক্ষণ নেই কাতার সংকটে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা বিদেশ ডেস্ক : সন্ত্রাসে অর্থায়নের বিরুদ্ধে লড়তে যুক্তরাষ্ট্র-কাতার চুক্তি ‘যথেষ্ট’ নয় মন্তব্য করে কাতারকে বয়কটের অবস্থানে অটল থাকার কথা জানিয়েছে সৌদি আরব নেতৃত্বধীন চার আরব দেশ। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনও কাতার সংকট নিয়ে তাঁর চার দিনের সফর গত ১৩ জুলাই বিশেষ কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ করেছেন। সৌদি আরবসহ চারটি আরব দেশের সঙ্গে ১২ জুলাই আলোচনার পর তিনি আবার কুয়েত হয়ে কাতার ফিরে যান। এদিন তিনি একজন কুয়েতী মধ্যস্থতাকারীসহ কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির সঙ্গে সাক্ষাত করেন। কাতারের ওপর সৌদি আরব ও তার মিত্রদের নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর সৃষ্ট সংকট অবসানের উপায় খুঁজে বের করাই ছিল টিলারসনের সফরের লক্ষ্য। কাতারের সঙ্গে বৈঠকে সংকট সমাধানে দেশটির অবস্থানকে ‘যৌক্তিক’ আখ্যা দেন তিনি। সফরের শেষ পর্যায়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেদ্দায় যান চারটি আরব দেশের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করতে। কোনো সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ায় তিনি চলে যান কুয়েতে। কুয়েত এ সংকট নিরসনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। টিলারসনের সফরে জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডে অর্থ সরবরাহ বন্ধ করার বিষয়ে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার। কিন্তু অবরোধ আরোপ করা চার আরব দেশ বলছে, এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর সত্ত্বেও কাতারের বিরুদ্ধে বয়কট তারা বহাল রাখবে। সৌদি নেতৃত্বাধীন চার দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, “যদিও আমরা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের লড়াইয়ের প্রশংসা করি, কিন্তু এখনও অনেক কিছু করা প্রয়োজন।” বিবৃতিতে বলা হয়, “যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের দোহা সফরের সময় যে চুক্তি হয়েছে তা যথেষ্ট নয়। সব ধরনের সন্ত্রাসী সংগঠনে অর্থায়ন, সমর্থন এবং পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধে কাতার কর্তৃপক্ষ কি পদক্ষেপ গ্রহণ করে আমরা তা খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করব।” আগের কয়েকটি চুক্তির কথা উল্লেখ করে দেশগুলো বলেছে, “কাতার সরকারের ওপর আস্থা রাখা যায় না।” সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক কর্মকর্তা বলেন, যে চুক্তিই হোক না কেন, তাতে সৌদি আরব, আরব আমিরাত, মিসর এবং বাহরাইনের প্রধান উদ্বেগের বিষয়গুলোর সমাধান থাকতে হবে। সন্ত্রাসবাদে মদদ দিয়ে আরব অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে অভিযোগে গত ৫ জুন কাতারের প্রতিবেশী ওই চার দেশ এবং ইয়েমেন দোহার সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। যদিও কাতার সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গত ২৩ জুন চার আরব দেশ সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে কাতারের কাছে ১৩টি শর্তের একটি তালিকা পাঠায়। ওই তালিকায় কাতারের অর্থায়নে পরিচালিত আল-জাজিরা টেলিভিশন বন্ধের পাশপাশি ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক হ্রাস এবং তুরস্কের সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করে দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..