দেশের বাইরে চীনের প্রথম সামরিক ঘাঁটি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : দেশের বাইরে চীনের প্রথম সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করতে ‘আফ্রিকার শিং’ নামে পরিচিত এলাকার দেশ জিবুতির পথে রওনা হয়েছে চীনের সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার খবরে বলা হয়, চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় গাংডং প্রদেশের বন্দর ঝানজিয়াং থেকে জিবুতির উদ্দেশে রওনা হয়েছে জাহাজগুলো। নৌবাহিনীর কমান্ডার শেন জিনলং জিবুতিতে ঘাঁটি নির্মাণ করার একটি আদেশ পাঠ করেন। তবে কতগুলো জাহাজ জিবুতির উদ্দেশে যাচ্ছে এবং কবে থেকে ওই ঘাঁটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবে, তা বলা হয়নি সিনহুয়ার প্রতিবেদনে। দুই দেশের মধ্যে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার’ পর এই ঘাঁটি নির্মাণের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। গত বছর এই ঘাঁটি তৈরির কাজ শুরু হয়। গত ১২ জুলাই দেশটির সরকারনিয়ন্ত্রিত পত্রিকা গ্লোবাল টাইমস-এর সম্পাদকীয়তে বলা হয়, ‘চীনের নিরাপত্তা রক্ষার উদ্দেশ্যেই দেশের সামরিক উন্নয়ন অপরিহার্য। এটা বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যে নয়।’ বেইজিংয়ের ভাষ্য, আফ্রিকা ও পশ্চিম এশিয়ায় শান্তিরক্ষা ও মানবিক সাহায্য প্রদানে চীনের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে এই ঘাঁটি। এ অঞ্চলের সামরিক সহযোগিতা, নৌবাহিনী এবং উদ্ধার অভিযানেও অংশ নেবে চীনের সেনারা। সম্প্রতি আফ্রিকায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও দ্রুত সামরিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নে কাজ করছে চীন। ২০১৫ সালে আফ্রিকার দেশগুলোর এক সম্মেলনে আফ্রিকার উন্নয়নে ছয় হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয় চীন। চীনের প্রথম বৈদেশিক নৌঘাঁটি স্থাপনে জিবুতিকে বেছে নেওয়ার কারণ হলো কৌশলগতভাবে দেশটির অবস্থান। এটি লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ খালে প্রবেশদ্বারের কাছেই। এবারই প্রথমবারের মতো সেখানে চীনের সেনাবাহিনীর সদস্যরা যাচ্ছেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেং শুয়াং সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, এই ঘাঁটির মধ্য দিয়ে আফ্রিকা ও বিশ্বে শান্তি আনতে ‘নতুন ও বড় অবদান’ রাখতে পারবে চীন। আর জিবুতির অর্থনৈতিক উন্নয়নেও তা ইতিবাচক অবদান রাখবে। ভারত মহাসাগরের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত জিবুতিতে চীনের সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের এই পরিকল্পনায় উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে ভারত। জিবুতির অবস্থানগত কারণে সেখানে চীনের নৌঘাঁটি গড়া ও জাহাজ পাঠানোর খবরে উদ্বিগ্ন হয়েছে ভারত। উল্লেখ্য, জিবুতির অবস্থান ভারত মহাসাগরের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে। নয়াদিল্লি মনে করে, বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও শ্রীলঙ্কাকে সঙ্গে নিয়ে চীনের সামরিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে তোলার যে ‘স্ট্রিং অব পার্লস’ বা মুক্তোর মালা নামে পরিচিত পরিকল্পনা আছে, জিবুতি হবে চীনের নতুন আরেক ‘স্ট্রিং অব পার্লস’। মাত্র আট হাজার ৯৫৮ বর্গ মাইলের দেশ জিবুতি সুয়েজ খালের রুটে লোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রবেশপথের পাশে অবস্থিত। ইথিওপিয়া, ইরিত্রিয়া ও সোমালিয়া দিয়ে ঘেরা এই ছোট দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও ফ্রান্সের ঘাঁটিও আছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..