যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াই প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : জলবায়ু পরিবর্তনের ইস্যুতে প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন জি-২০ সম্মেলনে অংশ নেওয়া ১৯ দেশের নেতারা। জার্মানির হামবুর্গে অনুষ্ঠিত বিশ্বের শীর্ষ ২০ অর্থনীতির দেশের এই শীর্ষ সম্মেলনের শেষ দিনে এ প্রতিশ্রুতি করেছেন তারা। বিবিসির খবরে বলা হয়, সম্মেলনের শেষ দিন বাণিজ্য, অর্থনীতি, জ্বালানি ও আফ্রিকা নিয়ে ঐকমত্য হলেও জলবায়ু প্রশ্নে অচলাবস্থা দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত ওই বিভক্তির দাগ রেখেই একটি সমঝোতায় আসেন জি-২০ নেতারা। সম্মেলনের যৌথ ঘোষণায় জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নে ১৯ দেশের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়ার বিষয়টিও রাখা হয়। যুক্তরাষ্ট্র বাদে বাকি ১৯ দেশের নেতারা একমত হন যে, প্যারিস চুক্তিতে বৈশ্বিক উষ্ণতা কমিয়ে আনার যে প্রতিশ্রুতি তারা দিয়েছেন, তা ‘অপরিবর্তনীয়’। সম্মেলনের সমাপনী সংবাদ সম্মেলনে জার্মান চ্যান্সেলর এঙ্গেলা মার্কেল বলেন, প্যারিস চুক্তির বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গে তিনি একমত নন এবং তিনি তিনি সন্তষ্ট যে বাকি ১৯ রাষ্ট্র তাদের আগের অবস্থানে অনড় রয়েছে। যৌথ ঘোষণায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়ন না করলেও আরও পরিবেশবান্ধব ও দক্ষতার সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারে অন্য দেশগুলোকে সহযোগিতা করতে পারে। তবে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণা দেওয়ার এক মাস পর ওই সিদ্ধান্ত নিয়ে পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৩ জুলাই প্যারিসে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প এই ইঙ্গিত দেন বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, প্যারিস জলবায়ু চুক্তির ব্যাপারে তিনি তাঁর বর্তমান অবস্থান থেকে সরে এলেও আসতে পারেন। বৈঠক শেষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘প্যারিস জলবায়ু চুক্তির প্রেক্ষাপটে কিছু একটা পরিবর্তন আসতে পারে। দেখা যাক, কী ঘটে।’ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে তিনি ‘সম্মান’ করেন। মাখোঁ বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে আমি সম্মান করি। এর ফলে তিনি তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় চিন্তা ও কাজে নেতৃত্ব দিতে পারবেন। তবে আমি প্যারিস চুক্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আছি।’ যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ১৮৮টি দেশের ঐকমত্যে ২০১৫ সালে প্যারিসে ওই জলবায়ু চুক্তি হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি এমন পর্যায়ে বেঁধে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে তা প্রাক-শিল্পায়ন যুগের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি না হয়। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গত মাসে ওই চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে তীব্র সমালোচনা হয়। এদিকে জি-২০ বৈঠক বৈঠক ফুরালেও, বিক্ষোভ থামেনি! পুঁজিবাদী বিশ্বায়নের বিরুদ্ধে, ব্যয়সঙ্কোচের দাবিতে, অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় উত্তাল হামবুর্গ। কোনো কোনো বিক্ষোভ হিংসাত্মক চেহারাও নিয়েছে। ৮ জুলাই শেষ হয়েছে জি-২০ বৈঠক। এদিকে বৈঠকের জন্য গত ৬ জুলাই থেকেই অগ্নিগর্ভ ছিল উত্তর জার্মানির শহরটি। যার রেশ ছিল পরদিনও। সেদিন সকালেই হামবুর্গের বিভিন্ন অংশে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ এবং নিরাপত্তা রক্ষীদের সংঘর্ষ বেধে যায়। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ জল কামান, টিয়ার গ্যাস সেল ব্যবহার করে। গ্রেপ্তার করা হয় বিক্ষোভকারীদের। সকাল থেকেই প্রবল বিক্ষোভ শুরু হয় স্কাজেন শহরে। শেষ ৭২ঘণ্টা একের পর এক জনতা-পুলিশ সংঘর্ষ দেখেছেন শহরের মানুষ। এদিন বিক্ষোভকারীরা বেশ কিছু গাড়িতে আগুন দেয়। পুলিশকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় কাচের বোতল। বিক্ষোভের মুখে আহত ২০০-র বেশি পুলিশকর্মী। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৪৩ জন বিক্ষোভকারীকে। এর আগে শহরে প্রায় ১২ হাজার মানুষের মিছিল হয়। পুলিশের বাধার মুখে তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়। অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনতে শহরে অতিরিক্ত নিরাপত্তারক্ষী নামাতে হয়। কিন্তু অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। শুক্রবার জি-২০ বৈঠক চলাকালীনই হামবুর্গের বিভিন্ন অংশে দফায় দফায় বিক্ষোভ চলে। একদিকে বৈঠকে যখন আলোচনা চলে বাণিজ্য, সন্ত্রাসবাদ, পরিবেশ পরিবর্তন এবং বিশ্বজুড়ে আঁচ ফেলছে এমন প্রসঙ্গ, অন্যদিকে বাইরে রাজপথে তখনই জনকল্লোল। বিশ্বের সম্পদশালী ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলির কায়েমী স্বার্থে পরিচালিত ভ্রান্ত নীতি ও পরিকল্পনার বিরুদ্ধে। ধিক্কার ট্রাম্পকে, প্যারিস আবহাওয়া চুক্তি থেকে একতরফা ভাবেই বেরিয়ে আসার বিরুদ্ধে। হামবুর্গে বিক্ষোভের নিন্দা করেছেন জার্মানির বিদেশমন্ত্রী সিগমার গ্যাব্রিয়েল। ইউরোপের বিভিন্ন অংশে বিক্ষোভকারীদের খোঁজে পুলিশ তল্লাশি চালাবে বলেও হুমকি দিয়েছেন তিনি। এবার জি-২০ বৈঠকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণের বিষয়ে সদস্যরাষ্ট্রগুলি সহমত হয়েছে। এই ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থাগুলিকেও তৎপর থাকতে জানান হয়েছে। জি-২০ তে তিনটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। যার একটি ছিল দুর্নীতি বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ ঘিরে। পাশাপাশি বন্যপ্রাণ রক্ষা এবং বেআইনি ভাবে বন্যপ্রাণ পণ্য বাণিজ্য রুখতে পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর আগে বৈঠকে মন্দার আবহে জি-২০ গোষ্ঠীর সদস্য দেশগুলিকে ব্যয় ছাঁটাই এবং বাণিজ্যের জন্য প্রতিবন্ধকতা মুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে পরামর্শ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার (আই এম এফ)-র প্রধান ক্রিশ্চিনা লাগার্দে। বৈঠকে জি ২০ গোষ্ঠী সদস্যভুক্ত দেশগুলির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন লাগার্দে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..