যৎসামান্য

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : ‘বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৯১১ কোটি ডলার পাচার হয়েছে ২০১৪ সালে। টাকার অঙ্কে যা প্রায় ৭২ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা। আমদানি-রপ্তানির সময়ে পণ্যের প্রকৃত মূল্য গোপন করার মাধ্যমেই এই অর্থের বড় অংশ পাচার করা হয়েছে।’ ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) বরাত দিয়ে গত মে মাসের প্রথমে এই তথ্য প্রকাশ হয়েছে দেশের গণমাধ্যমগুলোতে। এরপর এ মাসে আরেকটি খবর গণমাধ্যমে এসেছে। সেটি হচ্ছে, সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) বার্ষিক প্রতিবেদন ‘ব্যাংকস ইন সুইজারল্যান্ড ২০১৬’ বলছে, দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ ২০১৫ সালের ৫৫ কোটি সুইস ফ্রাঁ থেকে বেড়ে ২০১৬ সালে ৬৬ কোটি ১৯ লাখ সুইস ফ্রাঁ হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করলে ৫৫০০ কোটি টাকার বেশি অর্থ বাংলাদেশিরা সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে জমা করেছেন। এর মধ্যে ২০১৫ থেকে ২০১৬ সালে জমার পরিমাণ বেড়েছে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। যদিও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, যে হিসাবগুলো পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এগুলো হলো লেনদেনের হিসাব, সম্পদের হিসাব। এটাকে অন্যায়ভাবে পাচার বলে প্রচার করা হয়েছে, এজন্য দেশে একটা ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হচ্ছে। বিদেশে অর্থ পাচার হয় না এ কথা বলা যাবে না। সত্যিই কিছু পাচার হয়, কিন্তু এটা নজরে পড়ার মতো নয়, অত্যন্ত যৎসামান্য।’ অর্থমন্ত্রীর এমন মন্তব্য নিয়ে অবশ্য মন্তব্য না করাই ভাল। কারণ, বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো থেকে যখন হাজার হাজার টাকা লুটপাট হয়ে যায়, তখন তিনি মন্তব্য করেছিলেন, এটা কোনো টাকাই না। ফলে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে টাকা তো যৎসামান্য হবেই। এই সহজ সত্যটা কেউ না বুঝতে চাইলে, তিনি হবেন ‘রাবিশ’।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..