গার্মেন্ট টিইউসির ঘেরাও কর্মসূচি

শ্রমিক হত্যাকাণ্ডে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাও

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : মাল্টি ফ্যাবস কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ি মালিক ও বয়লার পরিদর্শকসহ দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নিহত ও স্থায়ীভাবে অক্ষম শ্রমিকদের সারাজীবন আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ, আহতদের সুচিকিৎসায় উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবিতে গত ১০ জুলাই সকাল সাড়ে ১১টায় কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র। সংগঠনের কার্যকরি সভাপতি কাজী রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ঘেরাও কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার, শ্রমিক নেতা সাদেকুর রহমান শামীম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক জালাল হাওলাদার, সাংগঠনিক সম্পাদক কে.এম মিন্টু, কোষাধ্যক্ষ এমএ শাহীন, দপ্তর সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দিদারুল ইসলাম ও শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলাম প্রমুখ। সভাপতির বক্তব্যে কাজী রুহুল আমিন বলেন, নিরাপদ কর্মস্থল ও নিরাপত্তার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর যে সকল ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন ছিল তার পরিবর্তে নানা ধরণের তালবাহানায় ব্যস্ত ছিল। তিনি বলেন, দেশে বয়লার আইন আছে, পরিদর্শন ও নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সরকারি জনবলও আছে। কিন্তু তারা তাদের দায়িত্ব পালন না করায় নিরীহ শ্রমিকদের জীবন দিয়ে তার খেসারত দিতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, অব্যাহত বিচারহীনতার কারণে একের পর এক শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের জন্ম দিচ্ছে। তিনি মাল্টি ফ্যাবস, রানা প্লাজা, তাজরীন টাম্পাকোসহ সকল শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেন। ঘেরাও কর্মসূচিতে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার বলেন, রানা প্লাজা ধসের পর এ্যাকর্ড এর দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও মাল্টি ফ্যাবস কারখানার বয়লার বিস্ফোরণে শ্রমিক হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে যে, এ্যাকর্ড, এ্যালায়েন্স, কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরসহ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তৎপরতা এক ধরণের প্রদর্শনবাদীতা ছাড়া কিছুই নয়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এই সকল প্রতিষ্ঠান নিজেদের অন্যায় ধামাচাপা দেওয়ার জন্য নিহত শ্রমিকদের নামে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। তিনি অবিলম্বে মৃত শ্রমিকের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তিনি ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামী ১৪ জুলাই শুক্রবার বিকেল ৪টায় মাল্টি ফ্যাবস কারখানার সামনে এলাকার সর্বস্তরের মানুষকে সাথে নিয়ে শোক সমাবেশ সফল করার আহ্বান জানান। ঘেরাও কর্মসূচি থেকে নেতৃবৃন্দ নিহত ও স্থায়ীভাবে অক্ষম শ্রমিকদের সারা জীবনের আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ, অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, নিরাপদ কর্মস্থল এবং অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান। শোক সমাবেশে বাধা : গাজীপুরের মাল্টি ফ্যাবস কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে অন্তত ১৩ জন শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে কারখানা গেটে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের শোক সমাবেশে বাধা প্রদানের ঘটনা ঘটেছে। গত ১৪ জুলাই শুক্রবার বিকেলে ৪টায় পূর্ব ঘোষিত সমাবেশে শ্রমিকলীগ নামধারী ব্যক্তিরা বাধা দেয়। তাদের বাধা সত্ত্বেও বিপুল সংখ্যক শ্রমিক জনতার অংশগ্রহণে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শোক সমাবেশ শেষে বাধা দানের ঘটনার প্রতিবাদে এবং শ্রমিক হত্যার বিচারের দাবিতে একটি বিশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট জিযাউল কবির খোকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শোক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শ্রমিক নেতা জলি তালুকদার, কার্যকরি সভাপতি শ্রমিক নেতা কাজী রুহুল আমীন, জালাল হাওলাদার, কেএম মিলু, মোহাম্মদ শাজাহান, আমিনুল ইসলাম, আব্দুল কাদেও, রেহানা আক্তার, শফিকুল ইসলাম পাংখ্যা, মো. ওুবেল, মো. জুয়েল, এনামুল হক, মো. মজনু প্রমুখ।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..