বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্তের কোনো পরিবর্তন হয়নি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা প্রতিবেদক : দেশব্যাপী সভা-সমাবেশ ও বিক্ষোভের মাধ্যমে সুন্দরবনবিনাশী সকল প্রকল্প বাতিলের দাবি জানিয়েছে তেল-গ্যাস-খনিজ স¤পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। গত ১১ জুলাই বিকাল সাড়ে ৪টায় ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশবাসীসহ সারা বিশ্বের বিবেকবান মানুষ সুন্দরবন রক্ষায় এই প্রকল্প বাতিলের দাবি জানালেও স্বার্থান্বেষী মহল ও সরকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নে অনঢ় রয়েছে। জনগণের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারকে তার অবস্থান পরিবর্তনে বাধ্য করা হবে। অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় কমিটির নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, সাইফুল হক। সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, বাসদ নেতা বজলুর রশিদ ফিরোজ, জোনায়েদ সাকী, মোশাররফ হোসেন নান্নু, মানস নন্দী, শহীদুল ইসলাম সবুজ, নাসির উদ্দিন নসু, মাঈনুদ্দীন চৌধুরী লিটন, শামসুল আলম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে আনু মুহাম্মদ বলেন, ইউনেস্কো বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত করে বলেছে, এমনিতে সুন্দরবনের সুরক্ষা নেই। এরপর রামপাল প্রকল্প হলে এটি ধ্বংস হবে। এইসব তথ্য-উপাত্তের কোনো হেরফের হয়নি। বরং দেশের ও বিশ্বের বিশেষজ্ঞরা আরো নতুন তথ্য-উপাত্ত যোগ করে এটা প্রমাণ করে চলেছেন যে, কয়লাভিত্তিক এই প্রকল্প অনিবার্যভাবে মানুষের উপরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে ও সুন্দরবন ধ্বংস করবে। তিনি বলেন, এবার ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির মিটিং শেষ হওয়ার আগে সরকার বিকৃত তথ্য-প্রচার করে যে উল্লাস করলো তা বিস্ময়কর। দেশের সম্পদ-মানুষ-প্রকৃতি ধ্বংস হবে এমন প্রকল্প রক্ষা না করে ধ্বংসের সরকারের উল্লাস জনগণের পক্ষের কোন সরকার করতে পারে না। তিনি অবিলম্বে এই প্রকল্প বাতিলের দাবি জানিয়ে বলেন, এটি না হলে ভবিষ্যতে আরো বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। আনু মুহাম্মদ বলেন, স্বল্প খরচে দেশের জ্বালানি সমস্যার সমাধানে বিকল্প প্রস্তাব তুলে ধরার জন্যে আগামী ২২ জুলাই ঢাকায় বিকল্প মহাপরিকল্পনা উত্থাপন করা হবে। এই পরিকল্পনা হবে সরকারের পশ্চাৎমুখী লুটপাটের মহাপরিকল্পনার বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে অগ্রসর ও প্রগতিশীল মহাপরিকল্পনা। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের কথাকে সামনে রেখে সুন্দরবনবিধ্বংসী যে প্রকল্প করা হচ্ছে তা মোটেও প্রয়োজন নেই। ওই অঞ্চলের বিদ্যুৎ উৎপাদনের বহু বিকল্প রয়েছে। এখন শিল্প কল-কারখানা না থাকায় প্রয়োজনের ২১টি জেলায় সারা দেশের তুলনায় বিদ্যুতের চাহিদা কম। এটা বাড়াতে হবে। এজন্য শিল্পান্নোয়নসহ পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের বিকল্প পথ রয়েছে। সরকার এদিকে নজর না দিয়ে সুন্দরবনের চারপাশ ঘিরে লুটেরা দখলের সুযোগ দিতে এই প্রকল্প করতে চাইছে। সম্প্রতি পত্রিকার খবরে দেশবাসী জেনেছে সরকারের নেতা-পাতিনেতারা এসব দখলদারিত্বের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। নেতৃবৃন্দ সুন্দরবন রক্ষায় ওই অঞ্চলে অনুমতিবিহীন ও অপ্রয়োজনীয় ও সুন্দরবনের জন্য ক্ষতিকর সব প্রকল্প বন্ধের আহ্বান জানান। সমাবেশ থেকে আগামী ২৫ জুলাই সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা থেকে শ্যামনগর পর্যন্ত বিভিন্ন উপজেলার ১০০ কিলোমিটারব্যাপী সভা সমাবেশ ও মানববন্ধন করার ঘোষণা দেওয়া হয়। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এদিন খুলনায় সমাবেশকারীদের বের হতে দেয়নি স্থানীয় পুলিশ। তারা সিপিবি অফিসে তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির স্থানীয় নেতাকর্মীদের অবরুদ্ধ করে রাখে। রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে সরকার প্রাতিষ্ঠানিক মিথ্যাচার করছে: ছাত্র জোট সাম্প্রতিক সময়ে ইউনেস্কো রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিষয়ে তাদের আপত্তি প্রত্যাহার করেছে- এ ধরণের মিথ্যাচার রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গত ৯ জুলাই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বানে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে গত ১১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মিছিল করে প্রগতিশীল ছাত্র জোট। বেলা ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে হয় সমাবেশ। প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সমন্বয়ক জিএম জিলানী শুভ’র সভাপতিত্বে ও ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি তুহিন কান্তি দাশের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুজন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা। নেতৃবৃন্দ বলেন, সুন্দরবন বাংলাদেশের অস্তিত্বের অংশ। রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলন নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির জন্য সরকার সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই ধরণের হীন প্রচারণা চালাচ্ছে। ইউনেস্কোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ইতোমধ্যে দাবি করেছেন রামপাল বিষয়ে ইউনেস্কোর সিদ্ধান্ত হবে ১২ জুলাই ইউনেস্কোর সভায়। কিন্তু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ৯ জুলাই দাবি করা হয়েছে ইউনেস্কো তার আপত্তি প্রত্যাহার করেছে। যা ন্যাক্কারজনক নিন্দনীয় ঘটনা। এ ধরণের প্রচারণা চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা ক্ষমতাসীনদের পক্ষে সম্ভব হবে না। জোট নেতৃবৃন্দ বলেন, আগামীতে রাজপথে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে সুন্দরবনবিনাশী রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাতিলে ক্ষমতাসীনদের বাধ্য করা হবে। নারায়ণগঞ্জ:সুন্দরবনবিনাশী সকল প্রকল্প বাতিলের দাবি জানিয়ে নারায়ণগঞ্জেও কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি পালন করেছে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। শহরের চাষাঢ়ায় শহীদমিনারে সমাবেশ ও পরে বিক্ষোভ মিছিল করে জাতীয় কমিটির স্থানীয় নেতাকর্মী সমর্থকরা। গত ১১ জুলাই অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কমিটি নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন নিয়ে সরকার যে মিথ্যাচারকরেছে তারপ্রতিবাদ জানিয়ে সমাবেশেতিনি বলেন, ‘ইউনেস্কোর বরাত দিয়ে সরকার আজ যে মিথ্যাচার করছে তা সরকারের দেউলিয়াপনার বহিপ্রকাশ। সরকারের ছত্রছায়ায় সেখানে লুটপাটের মহোৎসব চলছে। শত শত একর জমি দখল করে তারা বাণিজ্য-প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। একগুয়েমী পরিহার করে সরকারকে তিনি বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিলের আহ্বান জানান। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদের জেলা সমন্বয়ক নিখিল দাস, ওয়র্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সংগঠকজাকির হোসেন,সিপিবির জেলা সংগঠক বীমল কান্তি দাস, গণসংহতি আন্দোলনের শহরসমন্বয়ক অঞ্জন দাস, ন্যাপ জেল সম্পাদক অ্যাড. আওলাদ হোসেন, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সংগঠক রাশিদা আক্তার প্রমূখ। খুলনা: একই দাবিতে পুলিশি বাধার মুখেও এদিন খুলনায় সমাবেশ করেছে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। পুলিশি বাধার পর নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, এ কোন গণতন্ত্র? আমরা কি সত্যি কথাটা বলতে পারবো না? সরকার রামপাল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প মিথ্যাচার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। সমাবেশ থেকে ১৫ জুলাই কালিগঞ্জ থেকে শরণখোলা পর্যন্ত মানবপ্রাচীরের কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়। সমাবেশে বক্তব্য দেন, জাতীয় কমিটির জেলা আহ্বায়ক এস এ রশিদ, সদস্যসচিব মোস্তফা খালিদ খসরু, সিপিবি জেলা সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. এম এম রুহুল আমিন, বাসদের খুলনা সমন্বয়ক জনার্দন দত্ত নাণ্টু, গৌর বর্মণ, বাসদ (মার্কসবাদী) রুহুল আমিন, সিপিবি নগর সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবু, কিংশুক রায়, অ্যাড. নিত্যানন্দ ঢালী, এস এম চন্দন, ছাত্রনেতা মৃত্যুঞ্জয় দাশ, সাখাওয়াৎ হোসেন বিপ্লব, রাহাত খান প্রমুখ। চট্টগ্রাম: দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচীর অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের চেরাগী পাহাড় মোড়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, কয়লভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল না করলে সুন্দরবন রক্ষা করা সম্ভব নয়। ইউনেস্কোর সাধারণ পরিষদ সভায় সুন্দরবনকে সুরক্ষা না করে দেশের দারিদ্র্যকে প্রাধান্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধি যে বক্তব্য দিয়েছেন তা দেশের স্বার্থবিরোধী। মূলত ভারতের বাতিল কয়লা বাংলাদেশে বিক্রির উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতেই সরকার অতি উৎসাহী। সিপিবি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অশোক সাহা’র সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গনমুক্তি ইউনিয়ন চট্টগ্রামের সমন্বয়ক রাজা মিয়া, গণসংহতি অন্দোলন চট্টগ্রাম নগরের সমন্বয়ক হাসান মারুফরুমি, বাসদের সমন্বয়ক মহিন উদ্দীন, বাসদ (মার্কসবাদী)’র সদস্য সচিব অপু দাশ গুপ্ত, জাতীয় কমিটির রাহাত উল্লাহ জাহিদ, ডা. সুশান্ত বড়ুয়া প্রমূখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন- আল কাদেরী জয়। সমাবেশ শেষে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল করে কমিটির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। বরিশাল: সরকারের মিথ্যাচারে বিভ্রান্ত না হয়ে সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলনে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানিয়ে বরিশালের অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জাতীয় কমিটি। তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি বরিশালের আহ্বায়ক, সিপিবি বরিশাল জেলার সভাপতি অ্যাড. এ কে আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ বরিশাল জেলা কমিটির সম্পাদক অধ্যাপক জলিলুর রহমান, বাসদের জেলা সংগঠক ডা. মনীষা চক্রবর্তী, সিপিবি বরিশাল জেলা কমিটির সহ-সম্পাদক অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র মজুমদার, বাসদ (মার্কসবাদী)’র জেলা সংগঠক সাইদুর রহমান ও গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সংগঠক নবীন আহমেদ। সমাবেশ পরিচালনা করেন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ও গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রিয় নেতা দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলু।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..