হাওরবাসীর লড়াইয়ের শপথ

বাঁচার আর উপায় নাই, মাছ ধরেই বাঁচতে চাই

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

হাওরে মাছ ধরার অধিকারের দাবিতে সুনামগঞ্জে সমাবেশ
একতা প্রতিবেদক : বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ-এর আহ্বানে সাড়া দিয়ে, জীবন বাঁচাতে মাছ ধরতে নেমে পড়েছেন হাওরের সাধারণ মানুষ। এদিকে হাওরের ইজারা স্থগিতের দাবিতে সিপিবি-বাসদ গত ৯ জুলাই হাওর অধ্যুষিত ৭ জেলার উপজেলাগুলোতে ঘেরাও-বিক্ষোভ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি পেশ করেছে। এসকল সমাবেশে সিপিবি- বাসদ নেতৃবৃন্দ বলেন, এ বছর হাওরের জমিতে ৩০ লক্ষ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বোরো ধান চাষ করা হয়েছিল। গত ২৯শে মার্চ থেকে শুরু হয়ে প্রায় একমাস ব্যাপৃত আগাম বন্যায় তার ৮০% তলিয়ে গেছে, যার অর্থমূল্য ৫ হাজার কোটি টাকার অধিক। সরকারী ভাষ্য অনুযায়ী পানির নীচে ধান পচে এমোনিয়াসহ নানাবিধ কেমিক্যাল দূষণে হাওড়ের বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যে ২ হাজার মেট্রিক টন মাছ নষ্ট হয়েছে। অসংখ্য গবাদিপশু মারা পড়েছে। পরিবেশ দূষণে কাঁকড়া, ব্যাঙ, কেঁচো কতো পরিমাণ মারা গেছে তার পরিমাপ করার উদ্যোগও কেউ নেয়নি। হাওরের একমাত্র ফসল বোরো ধানের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল ২৪ লক্ষ কৃষক পরিবার সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছে। সরকার মাত্র সাড়ে তিন লক্ষ পরিবারকে মাসে ত্রিশ কেজি চাল ও পাঁচ’শ টাকা দেয়ার ঘোষনা দিয়েছে। সংখ্যা ও পরিমানের দিক থেকে অপ্রতুল সরকারের এ ত্রাণ তৎপরতা প্রতি ধিক্কার জানিয়ে সিপিবি-বাসদ হাওরে জলমহালের ইজারা বাতিল করে হাওর এলাকার মানুষদের মাছ ধরে কোনরকম টিকে থাকার সুযোগ দিতে সরকারের প্রতি দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ ভবিষ্যতে কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে বলে ঘোষণা দেন। কিশোরগঞ্জের ইটনা: কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলায় নতুন বাজার এলাকায় অনুষ্ঠিত জনসভায় সভাপতিত্ব করেন কমরেড শাহজাহান সাজু। বক্তব্য দেন সিপিবি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক ও কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ জহির চন্দন, প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি ডা. এনামুল হক ইদ্রিস, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এনামুল হক, সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান, কমরেড সেলিমউদ্দিন খান, বাসদ নেতা সাজেদুল ইসলাম সেলিম, ইটনা উপজেলা ক্ষেতমজুর নেতা রফিক টিটো। সভা পরিচালনা করেন জুয়েল খান। কমরেড সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, হাওরে জলমহাল ইজারা দিয়ে সরকার মাত্র ৯২ কোটি টাকা রাজস্ব পাবে এটা ইজারাদারদের ফিরিয়ে দিয়ে সকলের মাছ ধরার জন্য জলমহাল উন্মুক্ত করে দিতে হবে। এ বছর মাছ ধরতে বাঁধা দিলে ছাড় দেয়া হবে না। তিনি ত্রাণের পরিমাণ ও সুবিধাভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। এ বছরের ব্যাংক ও এনজিও ঋণ মওকুফ ও আগামী ফসলের জন্য নতুন ঋণের ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, হাওরের কৃষকরা বাংলাদেশের মোট ধানের ১৮ শতাংশ উৎপাদন করে এবং প্রাকৃতিক মাছের ৩৬ শতাংশ আহরিত হয় হাওর থেকে। অকাল বন্যায় হাওরের দুই কোটি মানুষ আজ মহাবিপদগ্রস্ত। তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। ভাসান পানিতে মাছ ধরার অধিকার উন্মুক্ত করে দিতে হবে। শিক্ষা জীবন টিকিয়ে রাখতে সকল ছাত্র-ছাত্রীকে উপবৃত্তি দিতে হবে। তিনি ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে পানি উন্নয় বোর্ড ও পিআইসির কর্মকর্তা এবং ঠিকাদারদের গফলতি ওদুর্নীতির তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি দাবি করেন। জনসভা শেষে উপস্থিত হাওরবাসীদের নিয়ে ’জলমহাল ইজারা প্রতিরোধ কমিটি’ গঠন করা হয়। নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ: মোহনগঞ্জে উপেজলার সভাপতি এনামুল হক বাচ্চুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক জলি তালুকদার, জেলার নেতা হাবিুর রহমান, উপজেলা কমিটির নেতা আব্দুল মমিন, মশিউর রেজা ও শ্রমিক নেত্রী নাজমা আক্তার, হাবিবুর রহমান প্রমুখ। সমাবেশে জলি তালুকদার বলেন, হাওরের লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। লুটেরা-ধনিক গোষ্ঠী ইজারার নামে বছরের পর বছর হাওরের জলমহাল দখল করে রেখেছে। এই ব্যবস্থা আর চলতে দেওয়া যায় না। হাওরকে লুটেরা-ধনিক গোষ্ঠীর কবল থেকে মুক্ত করতে হবে। ভাসান পানিতে সাধারণ মানুষের মাছ ধরার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমেই হাওরের মানুষ তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে। মানুষের বেঁচে থাকার লড়াইয়ে সিপিবি-বাসদ সব সময় সামনের কাতারে থাকবে। নেত্রকোণার খালিয়াজুরী: খালিয়াজুরিতে রনজিদ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলার সাধারণ সম্পাদক নলীনী সরকার, গোলাম রব্বানী, প্রণব চৌধুরি, মোহন দেব রায়, হারুনুর রশিদ তালুকদার, শফিকুর রহমান, তপন বাঙালী, তপন দেব রায়, ছাত্র নেতা পার্থ প্রতীম সরকার প্রমুখ। সুনামগঞ্জ: ‘বাঁচার আর উপায় নাই, মাছ ধরেই বাঁচতে চাই’ এই শ্লোগানে সিপিবি সুনামগঞ্জ জেলা কমিটি মানববন্ধন করেছে। গত ১১ জুলাই দুপুরে মল্লিকপুরের আব্দুর জহুর সেতুর উপর এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সিপিবি সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক অধ্যাপক চিত্ত রঞ্জন তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সিপিবি সুনামগঞ্জ জেলা সিপিবির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. এনাম আহমদ, ছাত্র ইউনিয়ন সুনামগঞ্জ জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক পোলক তালুকদার প্রমুখ। জলমহালের ইজারা স্থগিত, পোনা মাছ ধরা ও মশারির জাল ব্যবহার না করার দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, জীবন বাঁচাতে এ বছর ভাসান পানিতে মাছ ধরতেই হবে। অকাল বন্যায় ফসল তলিয়ে যাওয়ার পর সরকার পাঁচশ টাকার বিনিময়ে কৃষকদের ভিজিএফ, ওএমএস বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে হাওরাঞ্চলের মানুষ মানবেতর জীপন-যাপন করছে। তরা তাদের সন্তানদের স্কুল ও কলেজে ভর্তি করতে পারছে না।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..