ঈদকে ঘিরে কর্মমুখর রূপগঞ্জের জামদানিপল্লী

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তৈরি জামদানির খ্যাতি রয়েছে দেশজোড়া। প্রতি উৎসবে এ শাড়ির উৎপাদন ও বিকিকিনির ব্যস্ততা বেড়ে যায়। ঈদ মৌসুমও তার ব্যতিক্রম নয়। ঈদুল ফিতরের আর বেশি দিন বাকি নেই। আনন্দের এ উপলক্ষ ঘিরে রূপগঞ্জের জামদানিপল্লীতে ব্যস্ততা বেড়ে গেছে। ঐতিহ্যবাহী মসলিন শাড়ির আদলে রেশমি সুতার নকশা ও কারুকাজে তৈরি হয় জামদানি। এ কাজের সঙ্গেই কারিগরদের জীবিকা সম্পৃক্ত। সারা বছরই এ শাড়ির কদর থাকলেও ঈদ, পূজাসহ নানা উৎসবে এর চাহিদা বেড়ে যায়। এবারের ঈদের মৌসুমেও রূপগঞ্জের জামদানি শাড়ির বেচাকেনা বেড়ে গেছে। চাহিদা অনুযায়ী শাড়ি তৈরিতে কারিগররা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সময়মতো অর্ডার সরবরাহ করতে হবে। তাই দম ফেলার সময়টুকুও পাচ্ছেন না তারা। রূপগঞ্জের তারাব পৌরসভার বিসিক শিল্পনগরীখ্যাত নোয়াপাড়া বাজার এলাকায় এ জামদানিপল্লীর অবস্থান। এ পল্লীর বাইরেও রয়েছে জামদানি তৈরির আরো অসংখ্য তাঁত। পাঁচ শতাধিক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এ পেশার সঙ্গে জড়িত। তাদের সবাই জামদানি তৈরি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। জামদানির শৈল্পিক কারুকাজ নজর কাড়ে যেকোনো বিলাসী ক্রেতার। তবে সাধারণ ক্রেতারাও এর আকর্ষণ উপেক্ষা করতে পারেন না। সব ধরনের ক্রেতার চাহিদা মেটানোর কথা মাথায় রেখেই নির্ধারণ হয় জামদানি শাড়ির দাম। দেড় হাজার থেকে শুরু করে দেড় লাখ টাকা দামের শাড়িও তৈরি হচ্ছে রূপগঞ্জের জামদানিপল্লীতে। নোয়াপাড়ার জামদানি কারিগর বিল্লাল হোসেন জানান, একেকটি শাড়ি তৈরিতে তাদের এক সপ্তাহ থেকে তিন মাস সময় লেগে যায়। এসব শাড়ি স্থানীয় বিসিক শিল্পনগরীর হাট ছাড়াও পাইকারিভাবে দেশের বিভিন্ন বিপণিবিতানে বিক্রি হয়। তবে ব্যবসায়ীদের অনেকে মহাজনি কায়দায় ঋণ দেয়ার মাধ্যমে এ পল্লীতে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলে বিল্লাল হোসেন অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা মাঝে মাঝে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। সমস্যার এখানেই শেষ নয়। রূপগঞ্জের জামদানিপল্লীতে এখনো শাড়ি তৈরি হয় সনাতন পদ্ধতিতে। আধুনিক বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় শাড়ি তৈরি করা গেলে আরো লাভবান হওয়া যেত বলে ব্যবসায়ীরা জানান। প্রতিটি শাড়ি তৈরিতে অনেক সময় লেগে যাওয়ার কারণে এগুলোর দামও বেড়ে যায়। তাই আধুনিক পদ্ধতিতে শাড়ি তৈরির ব্যাপারে বিসিক কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট বিভাগ ব্যবস্থা নিলে শিল্প খাতটি উপকৃত হতো বলে মত দিয়েছেন তারা। স্থানীয় ব্যবসায়ী তাহছিনা আক্তার জানান, তারাব পৌরসভার পাশাপাশি রূপগঞ্জ উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামেই এখন জামদানির তাঁত গড়ে তোলা হয়েছে। ছয় হাজার কারিগর এ শাড়ি তৈরির সঙ্গে জড়িত। এখানকার তৈরি জামদানি দেশের বাইরেও চলে যাচ্ছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বাড়লে এ শিল্পের আরো প্রসার হবে। ক্রেতারাও আরো কম দামে জামদানি কিনতে পারবেন। প্রতি উৎসবে, বিশেষ করে ঈদের সময় এখানে শাড়ি বিক্রি বেড়ে যায় বলে তিনি জানান। এ বিষয়ে তারাব পৌরসভার মেয়র হাছিনা গাজী বলেন, রূপগঞ্জের জামদানিপল্লীর উন্নয়নে চলতি বছর ১০৯ কোটি টাকার পৌর বাজেটের একটি অংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এখানকার জামদানির হাট সম্প্রসারণ করা হয়েছে। নোয়াপাড়ার জামদানিপল্লীতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করা হচ্ছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..