বাঁশখালীতে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
চট্টগ্রাম সংবাদদাতা : গত কয়দিনের ভারি বর্ষণ ও জলোচ্ছ্বাসে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে এখনও পানিবন্দি অবস্থায় দিনযাপন করছে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল। তাছাড়া উপকূলীয় এলাকায় বেড়িবাঁধের অধিকাংশ সস্নুইচ গেইট বিকল থাকায় পাহাড়ি ঢলের পানি নদীতে নামতে পারছে না। যার দরুন স্বাভাবিক জল¯্রােত ব্যাহত হচ্ছে। বন্যার পানি এলাকায় জমে থাকায় মানবদেহে ছড়াচ্ছে বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব। তাছাড়া উপকূলীয় এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র পানীয় জলের সংকট। এদিকে মৌসুমি বায়ুটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে দমকা ঝড়ো হাওয়া ও জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় এলাকার অধিকাংশ এলাকা স্বাভাবিক জোয়ারের চাইতে ১ থেকে ২ ফুট উচ্চতায় অতিরিক্ত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছে। সব মিলিয়ে উপকূল ও পাহাড়ি এলাকার মানুষ দুর্বিসহ জীবন যাপন করছে। এদিকে গত ১৪ জুন বিকেলে উপজেলার চাম্বল ইউনিয়নের পশ্চিম চাম্বল জলকদর খালের উপর নির্মিত বিভিন্ন সস্নুইচ গেট পরিদর্শন শেষে দেখা যায়, সস্নুইচ গেটের পাটাতন অকেজো হয়ে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। পাটাতন আটকে থাকায় স্বাভাবিক পানির স্রোত নদীতে নামতে পারছে না। ফলে ওই এলাকায় বসবাসরত অধিকাংশ মানুষ কোমর সমান পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। অধিকাংশ ঘরে চুলোর ওনুন না জ্বলায় রান্না-বান্না হচ্ছে না। অনাহারে অর্ধাহারে দিনযাপন করছে ওই এলাকার বাসিন্দারা। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুল হক চৌধুরী জানান, আমার এলাকার সব গুলো সস্নুইচ গেইট অকেজো হয়ে পড়ে আছে দীর্ঘদিন থেকে। অচিরেই এগুলো সংস্কার করা না হলে আগামী প্রাকৃতিক দুর্যোগে আরো ভয়াবহ অবস্থা রূপ নেবে এলাকাবাসীর। তাই এ বিষয়ে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিত ভাবে জানিয়েছি। উল্লেখ্য, বাঁশখালীর ১৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার বেশ কিছু এলাকা এখনও পাহাড়ি ঢলের নিচে রয়েছে। এলাকার সবজি ক্ষেত, চিংড়ি ঘের ও ফসলী জমির ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ চাহেল তস্তরী।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..